রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির কথা উল্লেখ করেছেন. অংশতঃ, তিনি পাশ্চাত্যের শরিকদের এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন, যে মস্কোর স্থিতিকে বিবেচনা করা অপরিহার্য. ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে আজ ‘রাশিয়া ও পরিবর্তনশীল বিশ্ব’ শীর্ষক তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে. ভোট হবে আগামী ৪ঠা মার্চ.

      ব্রিকসের আওতায় শরিকদের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপকে রাশিয়া অগ্রাধিকার দেয় বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন. ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা একে অন্যকে অনুভব করার চেষ্টা করছে. কিন্তু যখন ব্রিকস সত্যিকারের মাথা তুলে দাঁড়াবে, বিশ্বে তার প্রভাব কি অর্থনীতিতে, কি রাজনীতিতে হয়ে উঠবে রীতিমতো ওজনশীল.

      পাঁচ শরিকের অন্যতম – চীনের কথা বলতে গিয়ে পুতিন বলেছেন, যে রাশিয়ার দরকার স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধশালী চীন. তার দৃঢ় বিশ্বাস, যে চীনেরও দরকার শক্তিশালী ও সফল রাশিয়া. চীনা ত্রাসের তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেছেন – বিশ্বের মঞ্চে চীনের আচরন তার আধিপত্য বিস্তারের উচ্চাকাঙ্খার কোনো প্রমাণ দেয় না. পৃথিবীতে চীনের কন্ঠস্বর ক্রমশঃই জোরালো হয়ে ওঠাকে রাশিয়া স্বাগত জানায়. ভ্লাদিমির পুতিনের প্রবন্ধের এই অংশটি সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন রুশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কূটনীতিবিদ্যা এ্যাকাডেমির উপাধ্যক্ষ আলেক্সান্দর লুকিন. 

     চীন দ্রুত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, অর্থনৈতিক বৃহত্শক্তিতে পরিণত হচ্ছে. চীনের উন্নয়ন – এটা বাস্তব, যা আমরা বদলে দিতে পারি না. দুই প্রকারের প্রতিক্রিয়া সম্ভব – হয় চীত্কার করা, যে এটা ভয়াবহ, নতুবা সঠিক ও গঠনমুলক ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন. চীনের বিকাশকে আটকে রাখার চেষ্টা নয়, বরং তার শক্তিকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা. চীন যেহেতু শক্তিশালী, তার সাথে সহযোগিতা করা দরকার, তার বিনিয়োগ, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে বুদ্ধির সাথে ব্যবহার করা দরকার, যেভাবে ভ্লাদিমির পুতিন তার প্রবন্ধে লিখেছেন.

      সিরিয়ার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ঘোষণাপত্রে চীন ও রাশিয়ার ভেটোদানে পশ্চিমী দুনিয়ার প্রতিক্রিয়াকে হিস্টিরিয়ার সমার্থক আখ্যা দিয়ে পুতিন বলেছেনঃ মস্কো ও বেইজিং জাতিসংঘে, ব্রিকসে, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায়, বড় কুড়ি সংস্থায় একে অপরকে মদত দিয়ে চলেছে. সেইসাথেই তিনি পাশ্চাত্য দুনিয়াকে ইতিপূর্বে ব্যবহৃত ছাপ্পা মারা নক্সা ব্যবহারের প্রলোভনের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন. – ভেটোর কারণে জাতিসংঘে বিল পাশ করানো গেল না, সুতরাং স্বার্থসংশ্লিষ্ট দেশগুলির আঁতাত বানিয়ে আঘাত হানবো. পুতিনের মতে, অনুরূপ আচরণের খোদ যুক্তিই প্রতিকূল এবং বেশ বিপজ্জনক. প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, যে লিরিয়ার চিত্রনাট্য সিরিয়াতেও ব্যবহারের চেষ্টা যেন কেউ না করে, সেদিকে কড়া নজর রাখা দরকার এবং ওরকম মতাবলম্বীদের আগ্রাসী সমরক্ষুধা খানিকটা পরিমিত করার তিনি আহ্বাণ জানিয়েছেন.

     ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন, যে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক প্রকল্পকে ঘিরেও কম গুরুতর পরিস্থিতি গড়ে উঠছে না. রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক উচ্চাকাঙ্খা গ্রহণযোগ্য নয়, এবং তিনি ঐ সমস্যা নিয়ে অতি সত্বর ছয়পাক্ষিক আলোচনা নতুন করে আয়োজন করার আহ্বাণ জানিয়েছেন. একই সাথে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অনেক শরিকই এ ব্যাপারে উল্টো মতপোষণ করে. তিনি এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন, যে পিয়ং-ইয়ংয়ের সাথে খুব সাবধানে নিখুঁতভাবে কাজ করা প্রয়োজন. কোরিয়ার নতুন নেতার সহিষ্ণুতা পরখ করে দেখা একেবারেই ঠিক নয়, তার ফল হিতে বিপরীত হতে পারে. রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির অন্তর্গত কোরিয় অর্থনীতি ইনস্টিটিটের অধ্যক্ষ গেওর্গি তলোরাইয়ের মতে -

    রাশিয়া বরাবরই কোরিয় উপদ্বীপে শুধুমাত্র পারমানবিক সমস্যাই নয়, নিরাপত্তার সব সমস্যা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে নিষ্পত্তির স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করে এসেছে. রাশিয়ায় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই নীতির কোনো রদবদল হবে না. এর বিকল্প পন্থা হচ্ছে – সংঘাত, দূর প্রাচ্যে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি.

     পুতিন আরও বলেছেন, যে রাশিয়া আফগানিস্তানের পুণর্নিমাণে নিজস্ব অংশগ্রহণ ব্যাপক হারে প্রসারিত করতে প্রস্তুত. কিন্তু আমাদের দেশ ঐ দেশ থেকে আসা তীব্র হেরোইন আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে. সেইজন্যেই সেখানে মোতায়েন আন্তর্জাতিক বাহিনীকে মাদক দ্রব্য উত্পাদনের বিরূদ্ধে সংগ্রামে সক্রিয়তর হতে হবে. তার অনুমান, যে আফগানিস্তানে পরিস্থিতির বিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া দুরূহ. ইতিহাস এই শিক্ষা দিয়েছে, যে ঐ দেশে বিদেশী সামরিক উপস্থিতি শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে. কেবলমাত্র আফগানরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারে.