রাশিয়ায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হতে আর মাত্র ৯ দিন বাকি আছে. এই রবিবার মস্কোয় আবার বিরোধীপক্ষের ব্যাপক পরিসরের আন্দোলন হবে. বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিন্যাস আলোচনা করছেন. তাঁদের বেশির ভাগ মনোযোগ দিয়েছেন ২৩শে ফেব্রুয়ারীর মিটিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের অ-সাধারণ উক্তির প্রতি এবং সর্বোচ্চ পদের প্রার্থীদের নেতিবাচক ভাবাবেগ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে দিচ্ছেন.

   রাশিয়ায় প্রাকনির্বাচনী অভিযানে গতি বেড়ে চলেছে. ভোটদানের ফলাফলের পুরো পূর্বানুমান সত্ত্বেও - প্রধান প্রধান সমাজতাত্ত্বিক সেবা ব্যবস্থা প্রথম রাউন্ডেই ভ্লাদিমির পুতিনের বিজয়ের কথা বলছে – খাস প্রাকনির্বাচনী গতি ক্রমেই বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছে. প্রধান প্রার্থী, অবশেষে, নিজের সমর্থনের অভিযানে উপস্থিত হন. পুরো অভিযানের সময়ে তা ঘটেছে শুধু একবার – পশ্চিম সাইবেরিয়ার কেমেরোভো শহরে. তবে, ২৩শে ফেব্রুয়ারীর মিটিং ছিল সবচেয়ে বড় – তাতে অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার জন. পুতিন তাঁদের প্রশ্ন করেন সমবেত সকলে রাশিয়াকে ভালবাসেন কি না এবং বিজয়ে আস্থা রাখেন কি না. তিনি ব্যবহার করেন মার্টিন লুথার কিংয়ের উক্তি – “আমার একটি স্বপ্ন আছে”, উদ্ধৃতি দেন রুশী কবি মিখাইল লেরমন্তভের কবিতা থেকে – “আমরা মরতে রাজি মস্কোর উপকণ্ঠে, যেমন আমাদের ভাইয়েরা মারা গিয়েছিল!” এবং সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়াচেস্লাভ মলোতোভের উক্তি – “আমাদের বিজয় হবে”. সমাজতত্ত্ববিদ ওলগা ক্রিশ্টানোভস্কায়া মনে করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সুর দেশে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিরূপণ করে:

   তাঁর পক্ষসমর্থকরাও উদ্বেগের সাথে অপেক্ষায় আছে – ব্যাপারটা কোন দিকে গড়াবে? বিরোধীপক্ষের বড় বড় মিটিং সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে. সব কিছু কোন দিকে এগুচ্ছে? অবশেষে স্থিতিশীলতা আসবে কি? আর এ সব উদ্বেগই পুতিনের এমন বক্তৃতার দাবি করে – আত্মবিশ্বাসপূর্ণ, কঠোর এবং সকলকে সমবেতকারী বক্তৃতার.

   তবে সকলে এর সাথে একমত নন. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষাকৃত কম অনুগামী রাজনীতি-বিশারদরা ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তৃতায় অতিরিক্ত “রণং দেহি” মনোভাবের কথা উল্লেখ করেছেন. রাশিয়ার জন্য লড়াই চালানো সংক্রান্ত উক্তিটি সমাজকে বিভাজিত করতে পারে, সতর্ক করে দেন রাজনীতি-বিশারদ নিকোলাই পেত্রোভ:

   আমার মনে হচ্ছে যে, তাঁর জন্য আবেদন করা অনেক সহজ ছিল, যখন চারপাশে ছিল ক্ষমতাসীন পার্টি – “একক রাশিয়া” পার্টির সক্রিয় কর্মীরা. আর এখানে তিনি কিছুটা চাপা ছিলেন. তাঁকে, হয়ত. পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল মিটিংয়ের এমন পদ্ধতি ব্যবহার করার, কিন্তু তাঁর মুখে তা খুব-একটা মানাচ্ছিল না. আর আমরা পুতিনের তরফ থেকে কি দেখতে পেয়েছি? তিনি কয়েক মিনিটের জন্য সামনে এসে দাঁড়ান, তাঁকে আত্মবিশ্বাসপূর্ণ আর মানানসই মনে হচ্ছিল না. আমি সমস্যা দেখতে পাচ্ছি এতে যে, ট্যাক্টিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যে সব জিনিসের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে ক্রেমলিনের জন্য ভীষণ বাধা সৃষ্টি করবে, যখন ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন দেশকে বদলাতে হবে, কেন সংস্কার সাধন করতে হবে.

   অবশ্য, প্রাকনির্বাচনী অভিযানে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদের অন্যান্য প্রার্থীদের বক্তৃতাতেও দেখতে পাওয়া গেছে. ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি বার বার বাইরের শত্রুর কথা বলছেন এবং রাশিয়াবাসীদের “অস্ত্র হাতে নিতে” বলছেন, আর কমিউনিস্টদের নেতা গেন্নাদি জিউগানোভ (তাঁকে সমাজতত্ত্ববিদরা দ্বিতীয় স্থান দিচ্ছেন) খাস নির্বাচনকে যুদ্ধের সাথে তুলনা করছেন.

   স্ট্র্যাটেজিক বিকাশের মডেলিং সেন্টারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট গ্রিগোরি ত্রোফিমচুক মনে করেন যে, এমন বক্তৃতা নির্বাচকদের শুধু দিশাহারা করতে পারে:

   আমি মুখ্য প্রার্থীদের কম ভাবাবেগ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে চাই. কারণ লোকে শক্তি অনুভব করতে চায়. আর যেখানে ভাবাবেগ, সেখানে শুধু মিটিংয়ের সক্রিয়তা প্রকটিত হয়. লিবেরালরা প্রধাণত ভাবাবেগের উপর জোর দেয়, আর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে, কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির কাছ থেকে আশা করে আরও গুরুতর ও ভারসাম্যপূর্ণ স্থিতির.

0   আগামী সপ্তাহ প্রাকনির্বাচনী ঘটনায় পরিপূর্ণ থাকবে. টেলি-বিতর্ক এখনও শেষ হয় নি, প্রার্থীরা “অভাবিত” কিছু প্রস্তুত করছে আর বিরোধীপক্ষ নতুন নতুন আন্দোলনে সমবেত হচ্ছে.