রাশিয়ার সহযোগিতায় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে নির্মীয়মান পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র কুদানকুলামকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদী আন্দোলন চলছে, তার পেছনে আছে মার্কিনী বেসরকারী সংস্থাগুলির হাত. এই প্রসঙ্গে বলেছেন মার্কিনী ‘সায়েন্স’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং. আমাদের প্রতিবেদক গেওর্গি ভানেতসোভ এই ব্যাপারে বিষদে বলছেন.

         মনমোহন সিং ঘোষণা করেছেন – “বেসরকারী সংস্থাগুলি, যারা আমার মনে হয় মুলতঃ আমেরিকায় কার্যরত, আমাদের দেশে বিদ্যুত উত্পাদনবৃদ্ধির আবশ্যকীয়তার কথা ভাবে না” – . প্রতিবাদী আন্দোলনের দরুন, যা আন্দাজ করা হচ্ছে যে বিদেশী বেসরকারী সংস্থাগুলির দ্বারা প্ররোচিত, নির্মিত ইলেকট্রোব্লক সময়সূচী অনুযায়ী চালু করা সম্ভব হয়নি.  ঐ বিদ্যুতকেন্দ্রেই দ্বিতীয় দফায় ৩য় ও ৪র্থ ইলেকট্রোব্লক নির্মাণ করার চুক্তি স্বাক্ষর করাও মুলতুবি রাখা হয়েছে. গত ডিসেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের রাশিয়া সফরকালে ঐ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল. “এইভাবে ভারতের পারমানবিক বিদ্যুতশিল্পের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, তার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে” – বলছেন ভারতীয় সাংবাদিক বিনয় শুক্লা.

        ডঃ মনমোহন সিং মার্কিনী পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে যে কথা বলেছেন, তা নিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলি বহুদিন ধরে লিখছে ও বলছে. যেমন, ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ সংবাদপত্র জানিয়েছে, যে পশ্চিমী খ্রীষ্টান সংস্থাগুলি ভারতে ৬৩ কোটি টাকা এনেছে দেশে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক বিদ্যুতশিল্পের বিকাশ ঘটতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবাদী আন্দোলনে অর্থসাহায্য করার জন্য. সেইজন্যই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অত্যন্ত সদর্থকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে. লোকে বলছেঃ অতঃপর প্রধানমন্ত্রী যা সত্য, তা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন, কড়াভাষায় সেই কথাই বলেছেন, যা বহু আগেই বলা উচিত ছিল. পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কোনো কোনো মহল, অংশতঃ স্ক্যানডিনাভিয়ার দেশগুলি বাস্তবিকই ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চায় না, সেই উদ্দেশ্যসাধনের জন্যে তাদের আছে নিজস্ব সব ফন্দিফিকির.

          ভারতীয়দের খুব ভালো করেই স্মরণে আছে, যে এইসব সংস্থাই এককালে দেশে লৌহ ও ইস্পাত কারখানা, ভারীশিল্পের কারখানা, পেট্রোলিয়াম শোধনাগার নির্মাণ করার সময় প্রতিবাদী আন্দোলন সংগঠন করতো. ‘সায়েন্স’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ডঃ সিং ঐ সংস্থাগুলির বিরূদ্ধে ভারতে জীববিদ্যা প্রযুক্তির বিকাশে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টারও অভিযোগ হেনেছেন. “বায়োটেকনোলজির অভাবনীয় বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের দেশে খাদ্যদ্রব্যের উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাযথভাবে ঐসব প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা জরুরী” –বলেছেন মনমোহন সিং.

         পারমানবিক বিদ্যুতশিল্পের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, যে সেই ২০০৬ সালে আমেরিকা ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ ও যথাযথ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার দায়িত্ব নিয়েছিল. কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু হয়নি. তবে আমেরিকায় কার্যরত বেসরকারী সংস্থাগুলির সক্রিয়তা এতটাই বেড়েছে, যে তারা সর্বপ্রকারে অন্যান্য দেশের সাথে একযোগে ভারতের শান্তিপূর্ণ পরমানুর ক্ষেত্রে সহযোগিতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে. কুদানকুলামে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র চালু করা থেকে বিরত হতে বাধ্য করা – শুধুমাত্র এই প্রকল্পের উপর আক্রমণই নয়, এই প্রচেষ্টা পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মানের ক্ষেত্রে গোটা ইন্দো-রুশী কর্মসূচীর ভবিষ্যতকেই অনিশ্চিত করে দিচ্ছে. রাশিয়া ও ভারত যে আগামী কয়েক বছরে যৌথভাবে দেশে ১৬টা পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে.