রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ সিরিয়ার ব্যাপারে বিদেশী হস্তক্ষেপ করতে না দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন. সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর রাষ্ট্রপতি খালিফ বেন জাদের সাথে দূরাভাসের মাধ্যমে আলোচনাকালে তিনি সিরিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ব্যাপারে রাশিয়ার স্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন.

          বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হযেছে এই বিষয়ে, যে পক্ষের তরফ থেকেই হোক না কেন, অবিলম্বে হিংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত হওয়া অপরিহার্য. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একইসাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যোগদান সহ সিরিয়ায় আভ্যন্তরীন সংলাপ শুরু করার আহ্বাণ জানিয়েছেন. তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যে বাইরে থেকে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার বৈধতা নির্ণয় করার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী অশান্তির আশংকার কারণ.

      মেদভেদেভ উপরোক্ত বক্তব্য রেখেছেন সিরিয়ার বন্ধুরা গোষ্ঠীর সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে. আজ টিউনিশিয়ায় প্রায় ৬০টি দেশ ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার যোগদানক্রমে ঐ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে. রাশিয়া ও চীন সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না. মস্কো অংশতঃ- তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার কারণ হিসাবে সিরিয়ার সরকারী প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ না জানানোর কথা বলেছে. রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির অন্তর্গত প্রাচ্যবিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রধান আলেক্সান্দর ফিলোনিক বলছেন, যে সাক্ষাত্কারে যোগদানকারীরা অতি শীঘ্র বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করবে. ---

       সাক্ষাত্কার আয়োজন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে যে করেই হোক না কেন বাশার আল-আসাদকে কেন্দ্র করে আরব দুনিয়ার একাংশের ও পশ্চিমী দেশগুলির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা. তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে – দামাস্কাসের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো.

       গত বুধবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরাক, সৌদি আরব ও ইরানের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেছেন. আলোচনা চলাকালে মেদভেদেভ সংলাপীদের ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যে কেন রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তার ভেটোদানের অধিকার প্রয়োগ করেছে. এটা করা হয়েছে সেইজন্যেই, যাতে সিরিয়ার আভ্যন্তরীন ব্যাপারে বিদেশী হস্থক্ষেপ রোধ করা যায়.

        গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারন সম্পাদক চটজলদি তার মানবিক বিষয়ে সহকারী ভালেরি আমোসকে সিরিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. রাশিয়া বান কি মুনের সিদ্ধান্ত সমর্থন তো করেইছে, উপরন্তু মস্কো নিজেই যত দ্রুত সম্ভব জাতিসংঘের সাধারন সম্পাদকের কোনো প্রতিনিধিকে সিরিয়া সফরে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে মানবিক পরিস্থিতির মুল্যায়ণ করে মানবিক সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে ঐক্যমত অর্জন করা যায়.

      তাছাড়াও জাতিসংঘের ভূতপূর্ব সাধারন সম্পাদক কফি আনন সিরিয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ ও আরব রাষ্ট্রলীগের তরফ থেকে বিশেষ একক প্রতিনিধি হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন. তিনি শলা-পরামর্শ ও আলাপ-আলোচনা করবেন, যার লক্ষ্য হবে – সে দেশে হিংসা ও মানবিক সংকটে ইতি টানা. বোঝাই যাচ্ছে, যে সিরিয়ায় সংকটমোচনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা আরও জোরদার করার কথা হচ্ছে, রাশিয়া যা একনাগাড়ে চেয়ে আসছে.