রাশিয়াতে ২৩শে ফেব্রুয়ারী পালন করা হচ্ছে পিতৃ ভূমির রক্ষী দিবস – দেশের একটি সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন উত্সবের দিন. এই দিনে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ আনুষ্ঠানিক ভাবে অজানা মৃত সৈনিকদের কবরে পুষ্প মাল্য অর্পণ করেছেন ও সামরিক বীরত্বের গৌরব পদক প্রদান করেছেন লমনোসভ, কভরোভ, তাগানরোগ ও পেত্রোপাভলভস্ক- কামচাত্কা শহর গুলিকে. এরই মধ্যে বেশীর ভাগ সামরিক বিশেষজ্ঞদের একেবারেই উত্সব করার সময় নেই, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনা মূলক প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত.

রাশিয়া বিদেশের সেনা বাহিনীর রসদ যোগান দিতে চায় না. তার প্রয়োজন শক্তিশালী সামরিক শক্তির, যা দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা করতে সক্ষম. আগামী দশ বছরে সামরিক বাহিনীতে ৪০০ টিরও বেশী আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল, প্রায় ১০০ টি সামরিক প্রয়োজনের উপগ্রহ, ৬০০টিরও বেশী আধুনিক যুদ্ধ বিমান ও ২৩০০ সর্বাধুনিক ট্যাঙ্ক যোগ করা হতে চলেছে. বিশাল পরিমানে নতুন করে সমরাস্ত্র যোগ হতে চলেছে রাশিয়ার নৌবাহিনীতেও: সেখানে যোগ হচ্ছে প্রায় ২০টি বহুমুখী ডুবোজাহাজ আর ৫০টিরও বেশী জলে ভাসা যুদ্ধ জাহাজ. এই সমস্ত সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো. তিনি বলেছেন:

 “রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে নতুন ধরনের সমরাস্ত্রের যোগান বর্তমানের শতকরা ১৫ ভাগ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হবে শতকরা ৭০ ভাগ. এই সবই আমাদের দেশের সামরিক বাহিনীকে ও নৌবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সমস্ত রকমের হুমকি ও হামলার হাত থেকে উচিত্ ভাবে রক্ষা করতে পারবে. এই গুলি রাশিয়াকে একটি মহান সামরিক রাষ্ট্র হিসাবে নিজের পথে চলতে সাহায্য করবে”.

 এখানে সেনা কর্মীদের সমস্যা সমাধানও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয় – আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা শুধু পেশাদার সৈনিকদেরই. পরিকল্পনা রয়েছে যে ২০১৭ সালে রাশিয়ার সেনা বাহিনীর দশ লক্ষ থেকে সংখ্যা কমে দাঁড়াবে সাত লক্ষ. আর ২০২০ সালে সময় বাঁধা সামরিক পরিষেবার জন্য মাত্র ১ লক্ষ ৪৫ হাজার লোক দরকার হবে. বর্তমানে প্রয়োজন হল এই সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য সম্ভাবনাময় আদর্শ নিরুপণ করা, এই কথা উল্লেখ করে স্বাধীন সামরিক পর্যবেক্ষণ সংবাদপত্রের কার্যকরী সম্পাদক ভিক্টর লিতোভকিন বলেছেন:

“আর ভ্লাদিমির পুতিনও শুধু আগামী ১০ বছরের সম্ভাবনার কথাই বলেন নি, যখন তিনি সামরিক বাহিনীর জন্য বানানো হবেই এমন সমরাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখ করেছেন. বরং তিনি এটা আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়ের কথা মাথায় রেখেই বলেছেন. কেন এই রকমের আদর্শ নীতি গ্রহণ করা দরকার? বিশ্ব বদল হয়ে যাচ্ছে, খুবই দ্রুত পাল্টাচ্ছে. কি হতে পারে? আমাদের বুঝতে হবেই কি রকমের যুদ্ধ আমাদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে”.

আজ রাশিয়ার জন্য প্রয়োজন বর্তমানে উপস্থিতি বিপদের জন্যই শুধু প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করা নয়, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে দিগন্ত রেখা পার হয়ে দেখতে পাওয়ার, আগামী বহু বছর গুলির সম্বন্ধে ধারণা তৈরীর. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেখানে অসামরিক ও সামরিক বিজ্ঞানের সম্ভাবনা সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করা দরকার, তৈরী করা দরকার আগে থেকেই সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার মত কার্য কারণ সম্পর্ক. এখানে মনোযোগ দেওয়া দরকার পুতিনের প্রবন্ধের সেই অংশেই, যা দেশের জাতীয় রুশ সংবাদপত্র “রসিস্কায়া গাজেতা” নামক কাগজে প্রকাশ করা হয়েছে, সামরিক প্রকাশনা থেকে প্রকাশ করা প্রবন্ধে নয়. এই প্রসঙ্গে লিতোভকিন আরও বলেছেন:

“এই কাজ করেই তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সামরিক বাহিনীর সমস্যা, দেশের সামরিক – প্রযুক্তি নির্মাণ শিল্পের সমস্যা – এটা আমাদের দেশের জনগনের সমস্যা. সমাজের সব অংশই এই বিষয়ে মনোযোগ দিতে বাধ্য, শুধু তাকিয়ে থাকলেই চলবে না, কি করে ফৌজ রেড স্কোয়ারে প্যারেড করে, আর তাতে হাততালি বাজালেই চলবে না”.

ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর পরিকল্পনা মূলক প্রবন্ধ শেষ করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, প্রধান কাজ হল দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে শুকিয়ে না ফেলে, বরং তাকে বহু গুণে বৃদ্ধি করা দরকার, এমন সামরিক বাহিনী তৈরী করা দরকার, এমন সামরিক প্রযুক্তি শিল্প তৈরী করা দরকার, যা রাশিয়াকে সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা দিতে পারে আর সহকর্মী দেশ গুলির পক্ষ থেকে দিতে পারে মর্যাদা ও মজবুত বিশ্ব শান্তি.