সোচী অলিম্পিক ও ভ্লাদিভস্তক শহরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের অনুষ্ঠান জলের তলা দিয়ে আসা হানাদার দের হাত থেকে রক্ষা করার হবে খুবই বিরল ধরনের গোপনীয় বৈদ্যুতিক কামান ব্যবহার করে. যে ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আসছে তা অপরাধীদের ১০০ মিটার দূর থেকেই বধির করে দিতে পারবে, কিন্তু মেরে ফেলবে না. এই মন্ত্রকে অবশ্য বাদ দেওয়া হয় নি যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও ব্যবহার করা হতে পারে.

রাশিয়া তৈরী হয়েছে প্রায় দুশো কোটি ডলারের সমান পরিমান অর্থ ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ব্যবহার করতে. এখানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ২৫ হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োজিত হবেন, আর তাদের সাহায্য করবেন সামরিক বাহিনীর কর্মীরা. সমুদ্রের দিক থেকে সহায়তা করবে কৃষ্ণ সাগরের নৌবাহিনী. বোঝাই যাচ্ছে যে, সামুদ্রিক সীমান্তের দিক থেকে খুবই ভরসা যোগ্য ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সীমান্ত পার হয়ে কেউ অন্যায় ভাবে আসতে না পারে. দুটি বৈদ্যুতিক কামানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তৈরী আছে প্রায় ৮ লক্ষ ডলারের সমান পরিমান অর্থ ব্যয় করতে.

এই ব্যবস্থা জলের তলায় বিদ্যুত আঘাত হানতে পারে, যা অনেকটা ডিনামাইট বিস্ফোরণের মতো. কিন্তু বিস্ফোরক পদার্থের চেয়ে এটা আলাদা রকমের, কারণ এটা কাউকে মেরে ফেলে না, এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী প্রশিক্ষণ সংগঠনের সভাপতি ইওসিফ লিন্ডের বলেছেন

এর কাজকে অনেকটা জোরালো বৈদ্যুতিক শকের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যা কানের উপরে আঘাত করে ও অন্যান্য স্নায়ু বৈকল্য ঘটায় ফলে একটা দিক ভ্রান্তি ও অবশ হওয়ার মতো অবস্থা হয় জলের উপরে ও নীচে ভাসমান মানুষের, যার ফলে সে আর কোন দিকে এগিয়ে যেতে পারে না ও কোন রকমের বেআইনি কাজ করার উপায় থাকে না.

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপনা হ’তেই কাজ করে ও এর সেন্সর এক ধরনের নিজেদের ও নিজেদের নয় এই রকমের ব্যবস্থায় আলাদা করতে পারে যে কোন ভাসমান ও ডোবা বড় জিনিসকেই, এর পরে প্রথমে সতর্কতা মূলক বিস্ফোরণ ঘটে ও মাছ ও অন্যান্য জলের প্রাণী যেমন, ডলফিন ও তিমি মাছ, বা হাঙ্গর ভয়ে পালিয়ে যায়, তারপরেও এই সাঁতারু যদি এগোতে থাকে তবে একশ মিটার দূরত্বের পাল্লাতে বৃত্তাকারে বিস্ফোরণের তরঙ্গ পৌঁছায় ও তাতে কাজ হয়.

প্রাণী সংরক্ষণ কারী পরিবেশ বিজ্ঞানীরা প্রথমে এই বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন, কারণ এই যন্ত্র শুধু নির্দিষ্ট ওজন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া করে ও তার মধ্যে সব বড় জলজ প্রাণীই পড়ে, তবে পরে পরীক্ষায় দেখে সন্তুষ্ট হয়েছেন যে, এই যন্ত্রের প্রাথমিক সাবধান বার্তাই এই ধরনের প্রাণীদের জন্য পালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত. তাঁদের ভয় ছিল যে, জলজ প্রাণীরা এই বিস্ফোরণের ফলে তাদের দিক নির্ণয়ের বোধ হারিয়ে ফেললে, পরে আর বেঁচে থাকতে পারবে না. দেখা গিয়েছে যে, ডলফিন এমনকি একটা জলে ছুঁড়ে ফেলা ঢিলও আলাদা করে বুঝতে পারে, ফলে তাদের জন্য এই ধনের জোরালো শক খুবই চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে, বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রাণী রক্ষী কর্মী কনস্তানতিন সাবিনিন, পরে তিনিও যন্ত্রের কাজ দেখে সন্তুষ্ট হয়েছেন.

সোচী সমুদ্র তীরের কাছে নিরাপত্তার কাজের জন্য এই ধরনের বৈদ্যুতিক কামান নানা ব্যবস্থার একটি হবে ও এর চেয়েও গুরুতর ধরনের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে