আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যবেক্ষক দল এই সংস্থার ভাইস জেনারেল ডিরেক্টর হেরম্যান নাকেরত্স এর নেতৃত্বে তেহরান শহরের দুই দিন ব্যাপী সফর শেষ করেছে. মনে করিয়ে দিই যে, গত তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সফর. এর আগে তারাই ২৯ থেকে ৩১শে জানুয়ারী ইরান গিয়েছিল. প্রসঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির সাঝিন.

    এই সফরের ফলাফল নিয়ে সংস্থা থেকে কোনও একটি অর্থ বিশিষ্ট মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি. এক সংক্ষিপ্ত ঘোষণাতে সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানো জানিয়েছেন যে, অংশতঃ, এই সফরে তেহরানের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক দলকে পারচিন শহরের পারমানবিক কেন্দ্র দেখতে যেতে দেওয়া হয় নি. এই কেন্দ্রেই পশ্চিমের বিশেষজ্ঞদের মতে তৈরী করা হচ্ছে পারমানবিক বোমা. সংবাদ মাধ্যমও এই অনুমান নির্ভর করে প্রধান গুজব সৃষ্টি করেছে. একই সঙ্গে পর্যবেক্ষক দল কিন্তু কোনও বিশেষ কেন্দ্র দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এখানে আসে নি. তার ওপরে বিশেষ করে পারচিন শহরের কেন্দ্র. যদিও আগে এই কেন্দ্রে পশ্চিমের পর্যবেক্ষক দল গিয়েছিল. প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, সফরের উদ্দেশ্য ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য বিশদ করে জেনে নেওয়া.

    এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

    “বর্তমানে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা  ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আরও একটি রিপোর্ট তৈরী করছে. আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিক থেকেই সংস্থার প্রতিনিধি দলের শেষ দুটি সফরকে দেখা উচিত্.

    এখানে প্রাথমিক ভাবে কথা হয়েছে সেই বিষয়ে যে, যাতে বাকী সমস্ত প্রশ্ন গুলি সম্বন্ধে ইরানের অপ্রকাশিত পারমানবিক কাজ কর্মের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়, আর তারই সঙ্গে আগামী সময়ে সহযোগিতার কাঠামো নিরুপণ করা সম্ভব হয়. কারো জন্যই আজ গোপনীয় নয় যে, এই সংস্থা থেকে প্রকাশিত শেষ ইরান সংক্রান্ত রিপোর্ট, যা গত বছরের নভেম্বর মাসে করা হয়েছে, তা অনেক প্রশ্ন যেমন সংস্থার সদস্য দেশ গুলিতে উদ্রেক করেছে, তেমনই ইরানের ভিতরেও তুলেছে, যার উত্তর এসেছে যথেষ্ট কড়া ভাবেই তেহরান সরকারের দিক থেকে.

    আমার মতে, বর্তমানের যোগাযোগ আরও বেশী করে ফলপ্রসূ ও কাজের উপযুক্ত সহযোগিতা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও ইরানের পারমানবিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে করতে দেবে. দেখাই যাচ্ছে যে, বর্তমানে কোন পক্ষই সম্পর্ক আরও ঘোরালো করতে চাইছে না”.

    এই কথা সত্য যে, কেউই বোধহয় বিরোধ চায় না. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও পশ্চিমের তরফ থেকে সবচেয়ে কড়া ধরনের আর্থ- বিনিয়োগ চাপের মধ্যেই এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দলের বিগত সফর গুলি হতে পেরেছে. এই চাপ, পশ্চিমের অনেকের মতেই. ইরানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে.

    কিন্তু এটা খুবই সন্দেহ জনক যুক্তি. খুবই সম্ভব যে, বর্তমানের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশে পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে তেহরান কোন রকমের কড়া দাবীতেই পাত্তা দেবে না. এটা মনে করা হতে পারে দেশের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের প্রত্যেকেই এই কাজ করা হলে, তা দেশের জনগনকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করতে পারে. আর আগামী বছরে ইরানে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন – আর এটাও পরিস্থিতির উপরে নির্দিষ্ট প্রভাব ফেলবে. তারই মধ্যে পশ্চিমে ও একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতিবিদেরা রানের সম্বন্ধে নিজেদের কড়া মনোভাব দেখাতে বাধ্য – আমেরিকায় হেমন্তে হতে চলেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন.

    আর তাই খুব সম্ভবতঃ, সমস্ত দিক দেখে শুনে কোন বাস্তব প্রগতি ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আশা করা যেতে পারে না, তার জন্য কম করে হলেও আগামী বছরের গ্রীষ্ম বা হেমন্ত অবধি অপেক্ষা করে থাকতে হবে. কিন্তু সেটার জন্যেও এখনই তৈরী থাকা দরকার. আর আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যবেক্ষকদের সফর এই লক্ষ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ ইরান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে যোগাযোগের ঘটনার বাস্তব অস্তিত্বই আলোচনা চলা নিয়ে সত্যিকারের আশা উত্পাদন করতে পারে. একই সময়ে, খুব একটা নির্দিষ্ট করে না বলা সফরের ফলাফলকে ইচ্ছা হলেই পরবর্তী কালে পরিস্থিতির উত্তেজনা বৃদ্ধির কাজেও লাগানো যেতে পারে. এই পথে চলতে ইচ্ছুক লোকও যথেষ্ট.