দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা পাকিস্তান খুবই দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে. এই সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর দ্বিতীয় বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে. গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের তরফ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে মনে করা হয়েছে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বেলুচিস্তানের স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে পরোক্ষ ভাবে মদত দেওয়া. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশাল আকারে জন বিক্ষোভ চলছে. মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যেখানে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের নিন্দা করা হয়েছে. এই দলিলে বলা হয়েছে যে, মার্কিন কংগ্রেস গৃহীত সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির সম্পূর্ণ মূলেই আঘাত করেছে, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের চার্টারে ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত সমঝোতা পত্রে আগে গৃহীত হয়েছে. পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হিনা রব্বানি খার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে বলেছেন প্রহসন ও একেবারেই চলতে দেওয়া যেতে পারে না বলে.

    আমেরিকার কূটনীতি বিশারদরা খুবই আনাড়ীর মত এখন নিজেদের পক্ষ সমর্থন করার চেষ্টা করছে. তারা বলতে চায় যে, বারাক ওবামা প্রশাসন কোন ভাবেই বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন করতে চায় না ও তারা মার্কিন কংগ্রেসের উদ্যোগের বিষয়ে কোনও দায়িত্ব নিতে পারে না. কিন্তু নতুন এই স্ক্যান্ডাল আমেরিকা পাকিস্তানের সম্পর্কে কোন গুরুতর প্রভাব ফেলবে না, বলে মনে করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আর পাকিস্তান, অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য. তারা এটা করেছে কঠোর ভাবেই, স্বাভাবিক যে, নিজেদের সার্বভৌমত্বের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে, যা এমনিতেই তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য খেসারত হিসাবে এখন দিতে হচ্ছে, তার জন্য.  কিন্তু একই সঙ্গে বলা যে, এই কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের জন্য পাক- মার্কিন যোগাযোগ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত আপাততঃ পাকিস্তানকে দেওয়া সাহায্যে কোন ভাবেই ক্ষতি করতে পারে নি আর ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার বিষয়েও নয়. এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনের দুই ক্ষমতার অলিন্দের মধ্যে মত পার্থক্য দেখতে পাওয়া যেতে পারে. প্রশাসন ২০১১ সালের সন্ত্রাসবাদী হানার পরে নেওয়া পথেই চলতে চায়, আর আইন প্রণেতারা তাঁদের ইচ্ছামতো পথেই চলতে পারে ও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে”.

    একই সঙ্গে বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই মত মানেন না. আমেরিকার কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত এমনিই এখন করা হয় নি, বরং তা করা হয়েছে ইসলামাবাদে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের তিন রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত্কারের উপলক্ষেই. এই সাক্ষাত্কারের তিন পক্ষই সমঝোতা করেছে এক সাথে কাজ করার, নিজেদের দেশের এলাকা অন্য দেশ ও শত্রু পক্ষের কাজ কর্মের জন্য ব্যবহার না করতে দেওয়ার, এলাকায় নিজেদের রাজনীতিই করার. তাছাড়া, পাকিস্তান এখন ইরান থেকে পাকিস্তানে গ্যাস পাইপ লাইন তৈরীর প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে.

    এই সবই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাল না লাগার কথা ও আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যদের প্ররোচিত করেছে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে. ওয়াশিংটনে বহু কাল আগে থেকেই বেলুচিস্তানের আন্দোলন ও তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সরকারের কীর্তিকলাপ ভাল করেই জানে, তবে আগে এটা মার্কিন কংগ্রেসের তেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় নি, এখন তিন দেশ একজোট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কদলী প্রদর্শন করায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার হিড়িক লেগেছে.

    বেলুচিস্তান মার্কিন সরকারের জন্য বহু দিনের আগ্রহের জায়গা. সেখানে পাকিস্তানের শতকরা ৭০ ভাগ কয়লা খনি, ৮০ ভাগ ক্রোমিয়াম আর ৮৫ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়. কিন্তু শুধু এই ধন সম্পত্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রধান নয়, তাদের প্রয়োজন এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ, কারণ তাহলেই স্ট্র্যাটেজিক বন্দর ও পাইপ লাইনের উপরে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আর এই বন্দর গুলির মধ্যে প্রধান হল গাধার বন্দর, যা চিন তৈরী করে দিয়েছে. এই বন্দর চিন – পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর ঘাঁটি হতে চলেছে, যেখানে চিনের জন্য গভীর সমুদ্রের ডক বানানো হচ্ছে – এটা স্ট্র্যাটেজিক বিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ হওয়ার কথা নয়. তাছাড়া, কাছেই ইরান. ইরান থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার গ্যাস পাইপ লাইন বসবে বেলুচিস্তানেই.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বেলুচিস্তান ফেরত চায়, ভারতের “দৈনিক জাগরণ” ও “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকা প্রকাশ করেছে যে, ওয়াশিংটন বর্তমানে বেলুচিস্তানের বিমানঘাঁটি চাইছে ড্রোন হামলা এলাকায় বজায় রাখার জন্য.