ইন্টারনেট সাইট গুগল সিরিয়ার ইডলিব ও হোমস শহরের কিছু রাস্তা ও স্কোয়ারের নাম পাল্টে দিয়েছে. তারই সঙ্গে আল- আসাদ জলাধারের নামও পাল্টে দিয়েছে. গুগল এই নাম পাল্টে রেখেছে সিরিয়ার জলাধার বলে. এটা কি ছাপার ভুল, ইচ্ছা করে ভুল খবর দেওয়া, নাকি আগে থেকেই কোন ঘটনা কি রকমের হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা? মন্তব্যের জন্য আমরা গুগল কোম্পানীর অফিসে উপস্থিত হয়েছিলাম. তাদের তথ্য সম্প্রচার দপ্তর থেকে আমাদের নিম্ন লিখিত উত্তর দেওয়া হয়েছে.

“আমরা নিয়মিত এই বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকি, যাতে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বিশদ ও বাস্তব মানচিত্র দেখতে পাওয়ার সুযোগ মেলে. গুগল মানচিত্র নিয়মিত পরিবর্তন করে. এই পরিষেবাতে কয়েকটি নির্ভর যোগ্য উত্স থেকে পাওয়া খবর ব্যবহার করা হয়: ব্যবসায়িক ও সাধারণের জন্য পাওয়ার উপযুক্ত মানচিত্র সংক্রান্ত তথ্য, পরিষেবার গ্রাহক ইত্যাদি. এর ফলে, সব মিলিয়ে, গুগল মানচিত্র সবচেয়ে টাটকা ও বিশদ করে তৈরী করা সম্ভব হয়. আমাদের চারপাশের বিশ্ব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর মানচিত্র এটার প্রতিফলন করতে বাধ্য. তাই আমরা সব সময়েই চেষ্টা করি একেবারে সদ্য পাওয়া খবর ব্যবহার করে, যত দ্রুত সম্ভব এই খবর গুগল মানচিত্রে দেওয়ার”.

সুতরাং বিশ্ব পাল্টাচ্ছে, আর গুগল এই পরিবর্তন প্রতিফলিত করছে. কিন্তু সিরিয়াতে তো নাম পাল্টান হয় নি. ইন্টারনেটে কোন রকমের নাম পাল্টান অথবা এমনকি এই প্রশ্ন নিয়ে কোন রকমের আলোচনার প্রতিফলনও দেখতে পাওয়া যায় নি, হ্যাঁ, এখন সিরিয়াতে কারুরই এই নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই. কোন সন্দেহই নেই যে, এটা সিরিয়ার পক্ষের কোন উদ্যোগই নয়. তাহলে কার বিশ্ব এই ভাবে পাল্টাল? জলাধার, যা এক সময়ে সোভিয়েত দেশের সহায়তায় বানান হয়েছিল, তার নাম দেওয়া হয়েছিল তত্কালীন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি হাফিজ আল- আসাদের নামে.তাহলে এটা কি হচ্ছে, আসাদ পরিবারের স্মৃতি ধ্বংস করার প্রচেষ্টা, আর সোভিয়েত দেশের সঙ্গে সহযোগিতার কথাও? এর পর একটি রাস্তার নাম ছিল ৮ই মার্চ, তা দেওয়া হয়েছিল ১৯৬৩ সালের বিপ্লবের স্মৃতিতে, যার পরে ক্ষমতায় এসেছিল আরব সমাজ তান্ত্রিক পুনর্জাগরণের পার্টি. কিন্তু এখন, একেবারেই জাদু কাঠির ছোঁয়া দিয়ে এই রাস্তার নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে ১৫ই মার্চ, যে দিন ২০১১ সালে সিরিয়াতে বিরোধী দলের বিক্ষোভ শুরু করান সম্ভব হয়েছিল.

কিন্তু এই রকমের নাম পাল্টে দেওয়া এত দ্রুত কি করে সম্ভব হচ্ছে? বোধহয় গুগল কোম্পানী কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়েছে হবে? কোন নাম পাল্টানোর বিষয়ে কি প্রয্ত্ন নিতে হয়, তা ব্যাখ্যা করে বলেছেন রাশিয়ার ভূ গণনা, আকাশ থেকে ফোটো তোলা ও মানচিত্র নির্মাণ ইনস্টিটিউটের মানচিত্র ল্যাবরেটরীর প্রধান গাইওস দোনিদজে বলেছেন:

“বিদেশের কোন ভৌগলিক জায়গার নাম বদল করার অধিকার অবশ্যই কারুরই নেই. নাগরিকদের বা সংস্থার উদ্যোগে নাম বদল চলতে পারে শুধু নিজেদের দেশের মধ্যেই. নতুন নাম কারণ সহ বিতর্কের জন্য উপস্থিত করা হয়, আর, যদি নাম বদলানো হয়, তবে নতুন নাম সমস্ত বিদেশী মানচিত্র নির্মাতা সংস্থার কাছেই পাঠানো হয়. এই ধরনের পরিবর্তন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিতও হয়”.

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, গুগল সংস্থা সিরিয়ার ভৌগলিক জায়গার নাম বদল নিজের পছন্দ মতন মালিকের মতোই করছে. “সেই মাছই বেচে দিতে চাইছে, যা এখনও জলে রয়েছে”. মনে তো হয় না যে, আমেরিকার এক ব্যবসায়ী কোম্পানী হঠাত্ করেই ভুল ছেপেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার উপরে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির সঙ্গে খুবই সম্ভব যে, এবারে গুগল যে ছাপার ভুল দেখাচ্ছে, তা আসলে তথ্য প্রযুক্তি যুদ্ধেরই অংশ.