ইউনেস্কো সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ৬ হাজার ভাষার অর্ধেক হারিয়ে যেতে বসেছে. ভাষা ও সংস্কৃতির বহুধা বিভক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এবার নিয়ে ২০তম বার পালন করা হচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারী দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে. প্রতি বছরেই ইউনেস্কো সংস্থা ভাষা সংক্রান্ত রাজনীতির প্রধান বিষয় ঘোষণা করে থাকে. ২০১২ সালে – এটা বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আলোচনা.

    মাতৃভাষা দিবস পালন করা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী দিনে ঘটা ট্র্যাজিক ঘটনার স্মৃতির উদ্দেশ্য. তখন বর্তমানের বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে, পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন ছাত্ররা – যাঁরা এক মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার উদ্দেশ্যে. তাঁরা দাবী করেছিলেন বাংলা ভাষাকে দেশের একটি সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার.

    মানব সমাজের খুবই প্রয়োজন ভাষা ও সংস্কৃতির বহু রূপ সংরক্ষণ করার, এই কথাকে সমর্থন করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রত্ন তত্ত্ব ও প্রজাতি তত্ত্ব ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভালেরি তিশকভ বলেছেন:

    “যদিও বিশ্বায়নের নানা প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে স্বল্প প্রচলিত ভাষা গুলির মৃত ভাষায় পরিণত হওয়া চলছে, মানুষ আজ জীবনে উন্নতি করার জন্য বেশী শক্তিশালী বা সুবিধা জনক ভাষাকেই বেছে নিচ্ছে, তবুও গত দশ বছর ধরে ভাষার বিভিন্নতা সংরক্ষিতই রয়েছে. যেহেতু, অন্য দিক থেকে বিভিন্ন ভাষার আবার পুনর্জন্মও হচ্ছে. মানুষের উত্সাহ হয়েছে নিজের পূর্ব পুরুষদের সম্বন্ধে জানার, নিজেদের ক্ষুদ্র সংস্কৃতির পরিসরে ফেরার. এটা আমাদের দেশেও ঘটছে, অন্যান্য দেশেও তা দেখা যাচ্ছে. আমার চোখের সামনেই এক সময়ে আমি যে এলাকা নিয়ে নিজে গবেষণা করেছি, সেই হাওয়াই ও ওয়েলস ভাষা আবার করে জন্ম নিয়েছে. অনেকটাই এটা সম্ভব হয়েছে উদ্যোগী প্রজাতি বিষয়ে ঐতিহাসিক ও ভাষা জ্ঞানী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়”.

    রাশিয়াতে সরকারি ভাবে সংস্কৃতি সহায়ক রাজনীতির ফলে দেশে একটি ছোট উপজাতির ভাষাও বাস্তবে হারিয়ে যায় নি. আজ তা দুশোরও বেশী. মস্কো শহরে মাতৃভাষা দিবস এই নিয়ে ষষ্ঠ বার পালিত হচ্ছে, বলে উল্লেখ করে ওপেন এডুকেশন ইনস্টিটিউটের ইউনেস্কো বিভাগের শিক্ষক মারিনা ক্রিভেন্কায়া বলেছেন:

    “তা করা হয়ে থাকে বহু ভাবেই. এখানে যুব বিতর্কের আয়োজন করা হয়ে থাকে, গোল টেবিল বৈঠক করা হয়, বিভিন্ন উত্সব পালন করা হয়, যেখানে স্কুল পড়ুয়ারা বিভিন্ন ভাষার আলাদা করে প্ল্যাকার্ড তৈরী করে, যা মস্কো শহরে লোকে বলে থাকেন. মস্কোর স্কুলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই বিষয়ে আগ্রহের আতিশয্য দেখে আমরা উত্সবের পরিসর বিস্তৃত করেছি. আর এই নিয়ে তৃতীয় বছর রাশিয়ার রাজধানীতে বিরাট যুব ফোরামের আয়োজন করা হচ্ছে “মস্কো বহু মুখের ও বিভিন্ন ভাষার শহর” নামে”.

0    এই সমস্ত অনুষ্ঠানই জানুয়ারী মাসের শেষ থেকে করা হয়ে থাকে. এই সমস্ত নানা ধরনের অনুষ্ঠানের লক্ষ্য – স্কুলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নানা রকমের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তার মধ্যে মস্কোতে যারা থাকেন তাদের গুলিও রয়েছে. এর উদ্দেশ্য একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়ে ঐক্য বন্ধন দৃঢ় করা. ২১শে ফেব্রুয়ারী এই সমস্ত অনুষ্ঠানের ফল “ভাষা শিক্ষার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে মেল বন্ধন” নামে যুব সম্মেলনের বিষয় হবে.