ভারত রাশিয়া থেকে বাড়তি মি – ১৭বি-৫ হেলিকপ্টার বায়না করেছে ৫৯ থেকে ৭১টি পর্যন্ত. এই বিষয়ে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সংবাদপত্র, সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া খবর হিসাবে প্রকাশ করেছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ২০০৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার হেলিকপ্টার গুলির মধ্যে প্রথম কয়েকটি ভারতীয় সেনা বাহিনীতে সরকারি ভাবে গৃহীত হয়েছে. এই চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ভারতকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৮০টি এই ধরনের যন্ত্র সরবরাহ করবে. বর্তমানে পাঠানো হয়েছে ২১টি. এই হেলিকপ্টার একই সাথে যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব. এটি প্যারাট্রুপার ও মাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়, তারই সঙ্গে বাইরে ঝুলিয়ে বড় মাল ও পরিবহন করা চলে. সমরাস্ত্র সজ্জিত মি- ১৭বি-৫ হেলিকপ্টার পদাতিক বাহিনীর সাহায্যের জন্য আকাশ থেকে গোলা ও বোমা বর্ষণ করতে পারে, প্যারাট্রুপার বাহিনী নামান ও ফিরিয়ে আনার সময়েও সাহায্য করতে পারে শত্রুর উপরে গোলা বর্ষণ করে, তাদের দূরে রেখে. নিখুঁত লক্ষ্যেও বোমা ছুঁড়তে এটি সক্ষম. এর আকার এমন যে, খুবই কম সময়ে এই হেলিকপ্টার লোক নামাতে পারে, যা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের সময়ে বাহিনী নামাবার জন্য. শত্রু পক্ষের রকেট আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ ধরনের অন বোর্ড ডিফেনস সিস্টেম রয়েছে. মি- ১৭বি-৫ ভারতে ভাল করেই পরিচিত মি- ৮ বা মি -১৭ হেলিকপ্টারের নতুন করে আধুনিক করা হয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিমান প্রযুক্তি জার্নাল “উড়ান” এর প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেই ফোমিন বলেছেন:

    “মি- ৮ ধরনের হেলিকপ্টার এটা হেলিকপ্টার নির্মাণ শিল্পের প্রধান ধরনের হেলিকপ্টার, যা আমাদের দেশে বলা হয়ে থাকে চাষের ঘোড়া. মাঝারি মাপের বহুমুখী হেলিকপ্টার একই সঙ্গে অনেক রকমের কাজ করতে পারে, যা এই হেলিকপ্টার ধরনের ওড়ার যন্ত্রের  জন্য ব্যবহার করা হয়. আর যেহেতু এই ধরনের হেলিকপ্টার ভারতে ভালই পরিচিত, তাই এই ধরনের জিনিস আরও আধুনিক অবস্থায় বেশী করে কেনাই বা হবে না কেন. প্রস্তাবিত হেলিকপ্টার যন্ত্র হিসাবে সর্বাধুনিক চাহিদার উত্তর দিতে পারে. এই গুলি সারানো ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারন. এর দামের ব্যাপারটাও হিসাবের বাইরে রাখা চলে না. পশ্চিমের একই ধরনের যন্ত্রের চেয়ে এই গুলি অনেক কম দামী, অথচ একই সঙ্গে ওড়ার গুণে অনেক বেশী ভাল”.

    আন্তর্জাতিক সমরাস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী এই বছরে রাশিয়া ভারতকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে, যা রাশিয়া থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সমস্ত রপ্তানির শতকরা ষাট ভাগ ও ভারতের সম্পূর্ণ আমদানীর শতকরা ৮০ ভাগ. ভারতের অস্ত্র বাজারে বিগত কয়েক বছরে ধরে প্রবল প্রতিযোগিতার মধ্যে  - এটা খারাপ নয়. আজ ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা রকমের অস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে, এগিয়ে এসেছে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইজরায়েল ও অনেক গুলি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ.

    ভারতে অস্ত্র কেনার উত্স পাল্টে গিয়েছে, নানা জায়গা থেকে তা কেনা হচ্ছে. দেশের প্রতিরক্ষা নির্মাণ শিল্পও উন্নতি করেছে. তাই ভারতের অস্ত্র বাজারের ভবিষ্যত তাদের সঙ্গেই যুক্ত, যারা ভারতকে শুধু অস্ত্রই নয়, সঙ্গে প্রযুক্তিও দেবে. পশ্চিমের দেশ গুলি এই বিষয়ে সব সময়ে তৈরী নয়, যেটা রাশিয়া সম্বন্ধে বলা যায় না.

    ভারতে রাশিয়ার সহযোগিতায় বিমান নির্মাণ ও ট্যাঙ্ক নির্মাণ কারখানা তৈরী করা হয়েছে. আজ ভারতে রাশিয়ার লাইসেন্সে সম্পূর্ণ নতুন রকমের সমরাস্ত্র তৈরী করা হচ্ছে, যার মধ্যে সু - ৩০ বিমান, টি – ৯০ ট্যাঙ্ক রয়েছে. রাশিয়া ও ভারত একই সঙ্গে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান বানাচ্ছে. আর ব্রামোস রকেট বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন ডানাওয়ালা রকেট বলেই খ্যাতি পেয়েছে.