রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশে নথিভুক্ত নয় এমন সব দলের নেতাদের সঙ্গে ২০শে ফেব্রুয়ারী মস্কো শহরে এক সাক্ষাত্কারের সময়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেছেন এই বলে যে:

“গত চার বছরে আমি এই নিয়েই কাজ করেছি যাতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার আলাদা কিছু অংশে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, আর এখন আরও সক্রিয় ভাবে এই কাজ করা উচিত্ এমন সময় এসেছে”.

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপ্রধান লোকসভায় পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ গঠনের নিয়ম সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী প্রস্তাব করেছেন. এর আগে লোকসভাতে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার জন্য নিয়ম সহজ করা ও রাজ্য গুলির রাজ্যপাল নির্বাচন সরাসরি করার জন্যও তিনি আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছিলেন.

দিমিত্রি মেদভেদেভ নথিভুক্ত নয়, এমন দল গুলির নেতাদের রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে আইন গ্রহণের উদ্যোগ সংক্রান্ত বক্তব্য শুনেছেন. রাষ্ট্রপতি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উদার করার বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে সমর্থন আশা করেছেন. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আদর্শ নয় ও এখানে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশীর ভাগই এর সমালোচনা করে থাকেন, কোন সময়ে খুবই কড়া ভাবেও. একই সময়ে এটাকে বদলানোর জন্য সকলের ধারণার উপরেই নির্ভর করা দরকার. আমার মতে, এর জন্য সময় উপস্থিত হয়েছে. আশ্চর্যের হলেও, যাঁরা এখানে জড়ো হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকেই হয়তো আমি এই বিষয়ে সমর্থন শুনতে পাবো, কারণ আপনারা প্রশাসনিক ভাবে নথিভুক্ত হতে পারেন নি আর আপনাদের জন্যই রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা বিষয়ে উদার নীতি ও রাজনৈতিক জীবনের সম্পূর্ণ ভাবে উদারীকরণের বিষয়টি, সেই সমস্ত দল, যারা আজ রাজনৈতিক গগনে অধিষ্ঠিত, তাদের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা”.

“বামপন্থী ফ্রন্টের” নেতা ও “সত্ নির্বাচনের জন্য” নামের আন্দোলনের আয়োজক পরিষদের সদস্য সের্গেই উদালত্সভ দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে আলোচনার পরে বলেছেন যে, এই সাক্ষাত্কার প্রয়োজনীয় ছিল. তিনি বলেছেন:

“দেরী করে হলেও এই আলোচনা তার একেবারেই না হওয়ার চাইতে, ভাল. এখানে কোন চাঞ্চল্যকর ঘটনা বা বাঁধ ভাঙা কিছুই হয় নি. আইনের খসড়া গুলিতে পরিবর্তন নিয়ে খুঁটিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা দেশের লোকসভাতে প্রস্তাব করা হয়েছে. এই সাক্ষাত্কারের ফলাফলের উপরে ভিত্তি করে একটি কার্যকরী পরিষদ গঠিত হতে চলেছে”.

বিরোধী “কাজের দল” নামের পার্টির নেতা কনস্তানতিন বাবকিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অনেক রকমের বিষয় সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেন:

“আলোচনা হয়েছিল তিন ঘন্টা ধরে আর তা অনেক রকমের বিষয়কেই নিয়ে হয়েছে. সমস্ত সমস্যাই তোলা হয়েছিল, যা মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে: নির্বাচন, দলের রেজিস্টার করা, ক্ষমা দান. রাষ্ট্রপতি সবই শুনেছেন, বহু কিছু সঙ্গে একমত হয়েছেন, কিছু বিষয়ের সঙ্গে দুঃখের কথা হল যে, হন নি. তিনি বলেছেন যে, তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকা কালীণ যে সমস্ত আইনের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই গুলি যাতে গৃহীত হয়, সে ব্যবস্থা করতে চান. সব মিলিয়ে তিনি নির্বাচনের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়কে সমর্থন করেছেন. কিন্তু কোন রকমের নির্বাচক গোষ্ঠী তৈরীর ব্যাপারটা সমর্থন করেন নি. অনেকে মনে করেন যে, এর ফলে বহু নথিভুক্ত দলের ভিতরেই জনগনের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে. একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বর্তমানের লোকসভা সময়ের আগেই ভেঙে দিতে চান নি”.

দিমিত্রি মেদভেদেভ এই সাক্ষাত্কার নিজের উদ্যোগে করেছেন ও বলেছেন যে, এটা রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোন দিকে যাবে, তা বোঝার জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল. এই ধরনের যোগাযোগ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে, যখন মিটিং সংক্রান্ত সক্রিয়তা প্রশাসনের সমর্থক ও বিপক্ষের মধ্যে দেশের সর্ব্বোচ্চ সরকারি পদের জন্য খুবই তুঙ্গে উঠেছে, তখন ভালোর জন্যই হয়েছে. বিপক্ষ দলগুলির মধ্যে যো কোন রকমের বিষয়ে সমঝোতা আসাই সেই সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে যে, এই পরস্পর বিরোধী মনোভাব দেশে কোন রকমের ভারসাম্য হীনতা আনবে.