মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলেও ইসলামাবাদ ঠিক করেছে ইরান থেকে গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী করার. এই বিষয়ে পাকিস্তানের “এক্সপ্রেস ট্রিবিউন” সংবাদ পত্র খবর দিয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ইসলামাবাদে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বিশদ করে এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে. পাকিস্তান ও ইরান এই প্রকল্পের বিষয়ে ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করবে বলে সমর্থন করেছে. সেই ২০০৯ সালে এই পাইপ লাইন বসানো নিয়ে চুক্তি করেছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ. ইরানের দেশের ভিতর দিয়ে এই পাইপ লাইনের দৈর্ঘ্য এক হাজার কিলোমিটারের সামান্য বেশী. প্রায় ততটাই লম্বা হবে পাকিস্তানের ভিতরের পাইপ লাইন. ইরান এর মধ্যেই নিজেদের অংশ বানিয়ে ফেলেছে ও তা পাকিস্তানের সীমানার কাছে নিয়ে এসেছে. পাকিস্তানও খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করতে চলেছে. কিন্তু এই কাজে বাধা দিতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ইরান বিশেষজ্ঞা নিনা মামেদভা বলেছেন:

    “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই শক্তিশালী চাপ সৃষ্টি করেছে পাকিস্তানের উপরে, তাদের কাছ থেকে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধের কথা আদায় করতে চাইছে, সেই দেশের পারমানবিক পরিকল্পনার দোহাই দিয়ে. এটা স্রেফ এই কারণে করা হচ্ছে যাতে ইরান কোন রকমেই শুধু খনিজ তেলেরই নয়, এমনকি প্রাকৃতিক গ্যাসেরও সব চেয়ে বড় রপ্তানী কারক দেশ না হতে পারে, আর তাদের যাতে বাড়তি বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় তৈরী না হয়”.

    পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক গুলি ও বড় কর্পোরেশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক আর্থিক স্বার্থ রাখে. সানা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদন উন্নতি সংস্থা এবং দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইরান থেকে গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে অস্বীকার করেছে.

    এটা কিন্তু এমন নয় যে, এই প্রকল্পে একটা শহীদ মিনার বানিয়ে ফেলা হল. ইরানের দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত পাইপ লাইন তৈরী নিয়ে কথা হয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিনা রব্বানি খার ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে কয়েকদিন আগে মস্কো সফরের সময়ে. রাশিয়া এই প্রকল্পকে সমর্থন করেছে. পাকিস্তানের “এক্সপ্রেস ট্রিবিউন” সংবাদ পত্রের খবর অনুযায়ী রাশিয়ার “গাজপ্রম” সংস্থা এই পাইপ লাইন তৈরী করে দেওয়া তার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে অংশ গ্রহণ করতে রাজী হয়েছে.

    পাকিস্তানের জন্য ইরানের গ্যাস পাইপ লাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ. দেশে জ্বালানী সঙ্কট চলছে, কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুত শক্তির অভাবে, থেমে যাচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, বড় শহর গুলিতে বিদ্যুত সরবরাহ করা যাচ্ছে না বাড়ী ঘরে, ফলে বাড়ছে দেশে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ, দেশের এমনিতেই বেহাল আর্থ- রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে.

0    তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্প তৈরী হওয়ার পথে মাইন পেতে রেখে শুধু ইরানের ক্ষতিই করতে চাইছে, পাকিস্তানেরও কি তাতে ক্ষতি হচ্ছে না? এমনিতেই বর্তমানে পাক – মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে বেশী অবনতি করেছে, তার ওপরে গত কয়েক বছর ধরে ওসামা বেন লাদেন হত্যা, ২৪ জন জওয়ানকে সীমান্তে বোমা ফেলে মারা, অসংখ্য শান্তিপ্রিয় মানুষের উপরে পাইলট বিহীণ ড্রোন বিমান থেকে বোমা ফেলে প্রাণহরণ সব মিলিয়ে এক নোংরা চিত্রই তৈরী করেছে. পাকিস্তানও আফগানিস্তানে রসদ সরবরাহ দেশের জনতার বিক্ষোভের চাপে পড়ে বন্ধ করেছে, শামসি থেকে ড্রোন চালনার ঘাঁটি বন্ধ করে দিয়েছে. তাই মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে ইরানের গ্যাস পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে চাইছে শুধু নিজেদের অনুগত প্রজা বানাতে.