ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের কোম্পানী দের ইরান খনিজ তেল সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছে. ইরানের খনিজ তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলিরেজা নিকজাদ ঘোষণা করেছেন: আমরা আমাদের খনিজ তেল নতুন গ্রাহকদের কাছে বিক্রয় করব. তেহরানের তরফ থেকে লন্ডন ও প্যারিসের উপরে খনিজ তেল সংক্রান্ত আঘাত বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে.

    প্রসঙ্গতঃ এই বন্ধ করে দেওয়া দুই দেশের কেউই ইরানের তেলের মুখ্য আমদানী কারক দেশ নয়, আর ব্রিটেনের কোম্পানীরা বেশ কয়েক মাস আগেই ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে.

    ইউরোপের ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানীর প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ গ্রীস, ইতালি ও স্পেন করে থাকে. গত সপ্তাহের শেষে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে এই সব দেশ ও তাদের সঙ্গে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও হল্যান্ডকে তেল সরবরাহ বন্ধ করার কথা. পরে এই সংবাদ দেশের খনিজ তেল মন্ত্রণালয় থেকে ভুল বলে ঘোষণা করা হয়েছে. কিন্তু এখন ইরান ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয় নি, সম্ভবতঃ এই ভেবে যে, তাদের রপ্তানী সামান্য রকমের বিক্রয় কমানোয় কিছু এমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না. কিন্তু দেখা গেল যে, তেহরান ইউরোপীয় সঙ্ঘের জ্বালানী স্বার্থের উপরে সাবধান করে দেওয়ার জন্য আঘাত করা আপাততঃ মুলতবি রেখেছে, যারা নিজেদের সঙ্ঘের সদস্য দেশ গুলিকে ইরান থেকে তেল আমদানী করা ১লা জুলাইয়ের আগে বন্ধ করতে বলেছে.

    ইরান এশিয়াতে নতুন গ্রাহক খুঁজছে. এখন সেখানেই দেশের চার পঞ্চমাংশ তেল উত্পাদিত খনিজ তেল রপ্তানী হচ্ছে, প্রধান গ্রাহক দেশ – চিন, ভারত, তুরস্ক, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া. প্রথম “তিনটি” দেশ ইরানে কেনা বন্ধ করতে কোন রকমের উদ্যোগ দেখাচ্ছে না. তার ওপরে, এটাও বাদ দেওয়া যায় না যে, তারা এমনকি আমদানী বাড়াতেও পারে, যদি ইরানের খনিজ তেল বাড়তি হয়, তা হলে. আর তাহলে বিক্রেতা তার দাম কমাতে বাধ্যই হবে. এটা খনিজ তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ফলাফল স্পষ্টই কমিয়ে দেবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপে পড়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘ নিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

    “নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থাই কাজ করছে না. নিষেধাজ্ঞা তখনই কাজ করতে পারে, যখন সারা বিশ্ব সমাজই বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়. এখন কোন ধরনের বাধার কথা উঠতে পারে, যখন তুরস্ক নিজেদের জ্বালানী প্রয়োজনের শতকরা চল্লিশ শতাংশই ইরান থেকে নেয়. কি রকমের বাধা নিয়ে কথা হতে পারে, যখন চিন ইরানের সঙ্গে আর্থ- বাণিজ্য সম্পর্ক বহাল রেখেছে ও তার মধ্যে খনিজ তেলও রয়েছে”.

    প্রসঙ্গত এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা অনুযায়ী ইরানের ডলার ও ইউরো মুদ্রা থেকে আয় বন্ধ করে দেওয়ার কথা, বর্তমানে ইরান তাদের বিদেশী সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার, জিনিস ও সেই সব দেশের জাতীয় মুদ্রাতেই দাম নেওয়া নিয়ে কথা বলছে. অংশতঃ, তারা দানাশষ্য ও ভোজ্য তেল কিনছে ভারতীয় মুদ্রায় ও রুবল দিয়ে আর ইউয়ান মুদ্রায় খনিজ তেল বেচে দিচ্ছে.

    খনিজ তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থেকে আবার একটা রাজনৈতিক ত্রুটিও দেখা গিয়েছে. টোকিও এবং সিওল এখনও রাজী হচ্ছে না নিঃশর্তে তাদের জোটের নেতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দিতে, ইরানের পায়ের তলা থেকে খনিজ তেলের ভিত্তির গোঁজ সরিয়ে দিতে. তাদের জন্য দেশের জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তার প্রশ্ন প্রশান্ত মহাসাগর পারের জোটের চেয়ে অনেক বেশী দামী.

    তেহরানে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে আরও একটি পর্যবেক্ষক দল পৌঁছেছে. তাদের লক্ষ্য – ইরানের পারমানবিক সমস্যা ঘিরে সঙ্কট থেকে মুক্ত হওয়া. বিশেষজ্ঞদের ইরানের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দেশের সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রে, যার মধ্যে বিশ্ব সমাজের তরফ থেকে বিশেষ করে সন্দেহ হওয়া জায়গা গুলিতে, যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা উদ্দেশ্য আঘাত হানার উপযুক্ত জায়গার তালিকাতেও রয়েছে, সেই গুলিতে ঢুকতে দেওয়ার. এই কথা সত্য যে, সংস্থার প্রতিনিধিদের যাওয়ার অব্যবহিত আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের মুখপাত্র জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি ঘোষণা করেছেন যে, এখনই ইরানের কেন্দ্র গুলির উপরে রকেট বোমা নিয়ে হানা দেওয়া, সময়ের আগেই হয়ে যাবে. চিন নিজেদের তরফ থেকে সবচেয়ে উত্তেজিত ইরানের প্রতিপক্ষ ইজরায়েলকে সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, ইরানের সমস্যার সামরিক সুরাহার জন্য কোন পদক্ষেপ নিতে দেওয়া যাবে না.