রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বাকি রয়েছে দুই সপ্তাহ. এই সোমবারে, ঐতিহ্য মেনেই একটি সারা দেশে প্রকাশিত হওয়া সংবাদপত্রে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রবন্ধ বেরিয়েছে. এই বারে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদের এক প্রার্থী জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ও সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যত সম্বন্ধে আলাদা করে লিখেছেন.

    ভ্লাদিমির পুতিনের ষষ্ঠ পরিকল্পনা মূলক প্রবন্ধের নাম: “শক্তিশালী হওয়া: রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার গ্যারান্টি”. বিতর্কের জন্য সঙ্গে সঙ্গেই একটা মূল সুর তৈরী করে দিয়ে পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, “বিশ্ব পরিবর্তিত হচ্ছে ও সর্বজনীন অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বিপর্যয়ের সময়ে অন্যের কাছ থেকে চাপ দিয়ে অন্যায় সুবিধা আদায় করে নিজেদের সমস্যা মেটানোর প্রচেষ্টা করার প্রলোভন রয়েছে. এর অর্থ – আমরা কাউকেই আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে দেবো না”. এই প্রবন্ধে পুতিন বাস্তবে বহু প্রসারিত ভাবে সামরিক বাহিনীর পুনরায় অস্ত্র সম্ভার পরিবর্তন ও প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বহু সংখ্যক সমালোচকের জন্যই উত্তর দিয়েছেন. এই কাজের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ২৩ লক্ষ কোটি রুবল. এই পরিকল্পনা গুলি বহু উত্তেজক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল ও অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিনের পদ এর জন্যেই গিয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বাস করেন যে, “এই কাজ দেশের সম্ভাবনা ও রসদের জন্য উপযুক্ত”, তবে এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বাজেট সামরিক হয়ে যাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে না.

    দেশের মন্ত্রীসভার প্রধান ও রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নিজের প্রবন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গত ১২ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীতে সঙ্কট পার হওয়া সম্ভব হয়েছে ও তার সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে. গত বছরের ১লা ডিসেম্বর থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে নতুন বাহিনী যুক্ত হয়েছে – আকাশ – মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী. একই সময়ে রকেট আঘাত সংক্রান্ত পূর্বাভাস দেওয়া ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে. লেনিনগ্রাদ ও কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কেন্দ্র গুলিকে চালু করা হয়েছে, আর্মাভিরে চালু করা হয়েছে. একই ধরনের কেন্দ্র ইরকুতস্ক অঞ্চলেও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. গ্লোনাসস ব্যবস্থার সমস্ত উপগ্রহ গুলিই বর্তমানে কক্ষপথে স্থাপিত.

    রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন উল্লেখ করেছেন যে, ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রবন্ধে একই সঙ্গে যেমন রাশিয়ার তেমনই পশ্চিমের পাঠকদের উদ্দেশ্য মত ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন:

    “বর্তমানের প্রবন্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মুখ্য. ভ্লাদিমির পুতিন তাতে স্পষ্ট করে বুঝতে দিয়েছেন, তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আবার করে বানানো হয় নি. তার মধ্যে এই প্রবন্ধের পাঠক আবার পশ্চিমের সমাজও, যারা খুবই মনোযোগ দিয়ে রাশিয়ার সামরিক পরিবর্তন খেয়াল করেছে ও শেষ অবধি ব্যক্তিগত কথাবার্তায় বাধ্য হয়েছে স্বীকার করতে যে, এই পরিবর্তন ও সংশোধন সম্ভব হয়েছে. আর রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই দীর্ঘসূত্রী সঙ্কট থেকে মুক্ত হওয়ার, যেখানে নব্বইয়ের দশকে আমাদের ঢুকতে বাধ্য করা হয়েছিল. বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, সেই অধ্যায়ে, যেখানে এর মধ্যেই পাওয়া সাফল্য ও সেই সমস্ত সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা, যা বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে. এই প্রবন্ধের লক্ষ্য পশ্চিমের সমাজকে ভয় পাইয়ে দেওয়া নয়. তার লক্ষ্য হল, রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির পিছনে যে সামর্থ্যও রয়েছে, তাই দেখানো, যা, যখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নীতি নির্ধারিত হয়, তখন বিচারের জন্য হিসাবের মধ্যে রাখা দরকার”.

    পুতিন প্রবন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্বন্ধেও লিখেছেন. রাশিয়ার সামরিক – প্রযুক্তিগত উত্তর খুবই ফলপ্রসূ ও অসমঞ্জস হবে. প্রধানমন্ত্রীর মতে সবচেয়ে সঠিক উপায় হবে, “যে কোন ধরনের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাই পার হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অর্জন ও নিজেদের প্রত্যুত্তর দেওয়ার সামর্থ্যকে সুরক্ষিত করা”. একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন যে, ডিজিট্যাল প্রযুক্তির যুগে জাতীয় নিরাপত্তার স্ট্র্যাটেজি বদল করা দরকার. প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ করেছেন যে, বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে দেশের সামরিক সামর্থ্য মহাকাশে ও তথ্য সংক্রান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিষয়ে থাকা প্রয়োজন, প্রাথমিক ভাবে- সাইবার এলাকায়. আর অনেক পরবর্তী কালের লক্ষ্য হিসাবে (রশ্মি, ভূ- পদার্থবিদ্যা, তরঙ্গ, জিন সংক্রান্ত ইত্যাদি নানা ধরনের)নতুন পদার্থ বিদ্যা সংক্রান্ত নীতি ব্যবহার করে অস্ত্র নির্মাণের. আর এই ধরনের কাজ করার জন্যই সরকার দেশের বৈজ্ঞানিক সামর্থ্যকে প্রতিরক্ষা ও সামাজিক শিল্পে বেশী করে ফলপ্রসূ ভাবেই ব্যবহার করতে চেয়েছে.