মাদক পাচারের সঙ্গে যুদ্ধের নাম করে রাশিয়াকে মধ্য এশিয়া থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. ভিয়েনাতে প্যারিস চুক্তি সম্মেলনে প্রকাশিত ওয়াশিংটনের নতুন উদ্যোগ সম্বন্ধে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ এই ভাবেই মন্তব্য করেছেন.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে নিজেদের অর্থ ও নেতৃত্বে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশে বিশেষ বাহিনী মাদক মাফিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য তৈরী করার. তাদের ধান্ধা অনুযায়ী এই বাহিনী সমস্ত তদন্তের ফল ও গোপন তথ্য জানার সম্পূর্ণ অধিকার পাবে, যা এই দেশ গুলির আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসবে, দেশ গুলি হল, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিয়া.  সের্গেই মিখিয়েভ মনে করেন যে, সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য ও সেই গুলি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক – রাজনৈতিক প্রভাব মজবুত করতে, তাই তিনি বলেছেন:

“ওয়াশিংটন চাইছে গুপ্তচর সংস্থা গুলির সমস্ত তথ্য পাওয়ার জাল তৈরী করতে ও নিজেদের বাহিনীর জন্য ঘাঁটি তৈরী করতে. এটাকে দেখা দরকার রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে ও তাকে এই এলাকা থেকে ঠেলে বার করে দেওয়ার জন্যেই. ন্যাটো জোটের আফগানিস্তানে অবস্থানের সময়ে হেরোইন পাচার বেড়েছে বহু গুণে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার রোধের জন্য কিছুই করে নি, আর এমনকি তা বাড়ার জন্য তির্যক ভাবে চেষ্টাও করেছে. এখন তার সঙ্গে লড়াইয়ের অজুহাতে তারা মধ্য এশিয়াতে ঢুকে পড়তে চাইছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ স্পষ্টই নেতিবাচক চরিত্রের”.

রাশিয়া ভিয়েনাতে প্যারিস চুক্তি সম্মেলনে এটাকে বাধা দিয়েছে. এটা আন্তর্জাতিক ভাবে আফগান মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই করার জন্য সবচেয়ে বড় ফোরাম. ওয়াশিংটন এখানে নিজেদের দিকে কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিয়া দেশকে টানতে পারে নি, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশই এখানে রাশিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছে. তারা শুধুশুধুই ভয় পাচ্ছে না যে, এই উদ্যোগের অজুহাতে আমেরিকার লোকেরা তাদের দেশের সংবেদনশীল তথ্য জেনে ফেলবে. আর তারই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের অভিযোগ যোগাড় করা শুরু করবে ও প্রয়োজনীয় সময়ে সেটাই ব্যবহার করবে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নিয়ে দেশ গুলিতে প্রশাসন উল্টে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ভাবে ঘোঁট পাকানোর জন্য”.

এটা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হবে. এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে আমেরিকা চিনের জন্য কোনও জায়গা খুঁজে পায় নি – যারা এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের কাজে তাদের আর একটি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ. সম্ভবতঃ বেজিংকে এই খেলা থেকে বের করে দেওয়ার কারণ হল যে, তারা রাশিয়া ও মদ্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে আলোচনায় যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না করে. এমনকি এতে দেখা যাচ্ছে চিনের সঙ্গে এই দেশ গুলির বিরোধ বাঁধানোর একটা গোপন প্রচেষ্টাও.

 যাই হোক না কেন, বেজিংয়ের স্বার্থে মোটেও চুপ করে বসে থাকা উচিত্ হবে না, যখন পাশের দেশ গুলিতে আমেরিকার নির্দেশকেরা গোপন তথ্য জানতে শুরু করবে, যা তাদের প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের সম্বন্ধেও থাকবে. তার ওপরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সহকর্মী দেশ গুলির সম্বন্ধেও এখানে কথা হচ্ছে. আর মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই – এটা একটা প্রাথমিক কাজ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ছয়টি দেশেরই. বোঝাই যাচ্ছে যে, বেজিংয়ের প্রভাব সাংহাই সহযোগিতা পরিষদে ও তাদের প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে খুবই সাফল্যের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে ঢুকে পড়াতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে. ভিয়েনাতে অসফল হওয়া স্বত্ত্বেও, ওয়াশিংটন ঠিক করেছে মার্চ মাসের শেষের মধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকে “চেপে ধরতে”, তাদের সঙ্গে আলাদা করে আফগান মাদক পাচার নিয়ে চুক্তি করে.