রাশিয়ায় বিরোধীদলের গত সপ্তাহের বিক্ষোভ কর্মসূচি ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করেছে। নতুন কর্মসূচি আয়োজনের নানা দিক নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রচারনা চলছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারী বিরোধীদলের ‘শ্বেত চক্র’ শীর্ষক মটরগাড়ির শোভাযাত্রা পুরো মস্কো প্রদক্ষিণ করবে। অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা এর জবাবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারী সমাবেশ ডেকেছে। যদিও এরই মধ্যে রাশিয়ার দুর্গম এলাকার অধিবাসী ও বহির্বিশ্বে অবস্থানরত রুশিদের জন্য আগাম ভোটগ্রহন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে নিয়মিত সাক্ষাত করছেন এবং টেলিভিশন ও রেডিওতে বিতর্ক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। গত বুধবার ভ্লাদিমির জিরিনোভস্কী,গেনাদী জুগানোভ ও সেরগেই মিরোনোভ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সাথে সাক্ষাতে রাশিয়ার রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে মিখাইল প্রখোরভ শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন এবং মস্কোর একটি স্কুলের বাস্কেটবল দলের সাথে অনুশীলন করেন।মিখাইল প্রখোরভের বিশ্বস্ত মুখ কন্ঠশিল্পী আলা পুগাচেয়েভা ও গীতিকার আন্দ্রে মাকারেভিচ তাদের প্রার্থীকে নিয়ে একটি গান রচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন সাইবেরিয়ার ফেডারেল ভূখন্ডের স্বাস্থ্য খাতে সংষ্কারের কাজ কোন গতিতে এগিয়ে চলছে এবং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার দিক নিয়ে বৈঠক করেন।

এদিকে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন,প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার রেটিং ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মিখাইল প্রখোরভ ও ন্যায্য রাশিয়া পার্টির নেতা সেরগেই মিরোনভের রেটিং আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমীর জিরিনোভস্কীর রেটিং অপরিবর্তন থাকলেও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেনাদী জুগানোভের রেটিং হ্রাস পেয়েছে। জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। গত সপ্তাহে পুতিনের রেটিং পয়েন্ট ৫৩ থাকলেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে ৫৫-তে দাড়িঁয়েছে। বিরোধী দলের যে কোন কর্মসূচি ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে স্বাগতম জানানো হচ্ছে এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও তার প্রতিনিধির কার্যক্রমকে সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে অবাক হওয়ার অবশ্য কিছু নেই। এমনটি বলছিলেন রাজনীতি শর্তাবলী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পাভেল সালিন। তিনি বলেন,‘আমি এখানে কোন ধরনের বিরোধপূর্ণ মনোভাব দেখছি না। রাশিয়ার ভোটাররা দুইটি ধারায় বিভক্ত। এদের একদল হচ্ছে টেলিভিশন দর্শক এবং অন্য দল হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী(যদিও এরা সংখ্যা অনেক কম ) ।সে কারণেই পুতিনের জনপ্রিয়তার রেটিং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে’।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ভাল করেই জানেন সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে জয়লাভ করবেন। আর তাই নিজেদের অসন্তুষ্টি প্রকাশের জন্যই এমনটি করছেন বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেওনিদ পালইয়াকোভ। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার অধিকাংশ জনগনই জানেন শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের সত্যিকার উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য নেতা। একই সাথে সবাই ভাল করেই জানেন,পুতিনের বিপক্ষে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী আশা করা যায় না। ৯০ দশের পর দ্রুত গতির পরিবর্তনের পটভূমি তা সবার ভাল করেই জানা আছে। বিরোধী দলের যারা ইন্টারনেটে বেশ সক্রিয় তারাও জানেন, নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডেই পুতিনের বিজয় অবধারিত। এ করণেই লোকজন নিজেদের অখুশি সর্বাত্বক প্রচারের চেষ্টা করছে’।

তা স্বত্বেও সমাজে রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের মুখোমুখি অবস্থানের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর সমাধানের পথ বের করতে হবে। যদিও বর্তমান সরকার সেই পথই খুঁজে চলছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নিবন্ধন না হওয়া রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সর্বনিম্ন সদস্য নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করা ও সামগ্রিক অর্থে রাশিয়ার রাজনৈতিক পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে তারা আলোচনা করবেন।