“পৃথিবীতে জীবনের সূত্রপাত হয়েছিল আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্টি হওয়া হ্রদে” – নিজেদের নতুন এক গবেষণা পত্রে এই রকমেরই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে রুশ- আমেরিকা দেশের জীববিদ্যা ও ভূতাত্বিক বিজ্ঞানীরা. রুশ বিজ্ঞানী ইভগেনি কুনিনের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তকে চাঞ্চল্যকর বলে প্রস্তাব করেছেন যে, প্রথম জীব তৈরী হয়েছিল সেই সমস্ত হ্রদেই, যা আগ্নেয়গিরি থেকে উত্পন্ন উষ্ণ প্রস্রবণ ও মাইক্রোএলিমেন্ট সমৃদ্ধ করেছিল.

       বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা অনেকদিন আগেই এই ধরনের ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন যে, পৃথিবীতে জীবন আগ্নেয়গিরির জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাসায়নিক বিভাগের লেকচারার আন্দ্রেই বীচকভ বলেছেন:

       “এই ধারণা নতুন নয়. আমাদের গ্রহের সমস্ত উপরিভাগই তৈরী করেছে আগ্নেয়গিরির কাজ কর্ম. আর যখন আমরা বলি যে, জীবনের সৃষ্টি রহস্যের কথা, তো তখন আগ্নেয়গিরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়. আর এক সময়ে আমাদের দেশের ও বিদেশী বৈজ্ঞানিকরা আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তাকে প্রাথমিক জীবন সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ বলেই উল্লেখ করেছিলেন, যা পরবর্তী কালে সমস্ত জীবনের ভিত্তি হয়েছিল”.

       আগ্নেয়গিরি থেকে জীবন সৃষ্টির একটি সবচেয়ে বিখ্যাত ধারণা রুশ বিজ্ঞানী ইভগেনি মারখিনিনের, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে খনি ভূতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের কর্মী আনাতোলি খ্রেনভ বলেছেন, আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ মারখিনিন এই ধারণা চল্লিশ বছর আগে দিয়েছিলেন. তা জীবনের উদ্ভবের সঙ্গে তড়িত্ শক্তিকে জড়িত করেছে, তিনি বলেছেন:

       “তাঁর ধারণা এই রকমের ছিল যে, জীবন সৃষ্টি হতে পেরেছে আগ্নেয়গিরি থেকে উত্পন্ন ধোঁয়া থেকে তৈরী মেঘে তড়িত্ শক্তির প্রভাবে”.

       আমেরিকার বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠীর লোকেরা ইভগেনি কুনিনের নেতৃত্বে সবচেয়ে সহজ জীবের কোষ, যা থেকে মনে করা হয় যে, পৃথিবীতে জীবনের উন্মেষ হয়েছে, তার ভিতরের তরল পদার্থের সঙ্গে আগ্নেয়গিরির উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে পাওয়া জলের রাসায়নিক উপাদান তুলনা করে দেখেছেন. দেখা গিয়েছে যে, উপাদান তুলনায় এই গুলি একই রকমের, তাই ভূরসায়ন বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই বীচকভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

       “যদি আমরা এই ধারণা থেকে এগোই যে, জীবন যেখানে সৃষ্টি হয়েছে, তার থেকেই নিজের উপাদান সংগ্রহ করেছে, তাহলে আমরা শুধু একটিই সেই রকমের পরিবেশ দেখতে পাই. এটা সেই রকমেরই দ্রবণ, যা আগ্নেয়গিরি থেকে উত্পন্ন বাষ্প ঘনীভূত হলে পাওয়া যায়”.

       এই ধরনের বাষ্পের ঘনীভূত হওয়ার জন্যেই আগ্নেয়গিরির হ্রদ তৈরী হয়. কিন্তু এই জায়গার জল ও সহজতম জীবের কোষের মূল উপাদানের মধ্যে তুলনার বিষয়েও আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জীব বিজ্ঞানীরা মোটেও প্রথম গবেষক নন. একই ধরনের পরীক্ষা রুশ মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও অ্যাকাডেমিশিয়ান গিওর্গি জাভারজিন করেছিলেন. আগ্নেয়গিরি বিশারদ আনাতোলি খ্রেনভের কথামতো, জাভারজিন প্রথমদের মধ্যে একজন যিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, প্রথম জীব উদ্ভব হয়েছিল আগ্নেয়গিরির থেকে উত্পন্ন উষ্ণ প্রস্রবণ থেকেই.

       ইভগেনি কুনিনের নেতৃত্বে কাজ করা বৈজ্ঞানিকরা শুধু তাঁদের আগের লোকেদের ধারণাকেই অগ্রবর্তী করেছেন, মোটেও জীববিদ্যায় কোন বিপ্লব ঘটান নি, বিশেষজ্ঞরা অন্ততঃ তাই মনে করেন. সত্যিকারের আবিষ্কার হতে পারত সহজতম জীবের জিনের গঠন সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারলে. যদি এটা করা সম্ভব হয়, তবে জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের বলা যেতে পারবে সত্যই অগ্রদূত.