ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির মধ্যে ধর্মীয় ভিত্তিতে স্ক্যাণ্ডাল বর্তমানে ঘুর্ণির বেগ বাড়াচ্ছে. ইউরোপের বাসিন্দাদের মুসলিম সমাজ কুকুর পোষা সবচেয়ে কমিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করার পরে, ইউরোপের লোকেরা তাঁদের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তরে দেওয়া প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন. তাই, কোপেনহেগেন শহরের রন্ধন বিদ্যা অধ্যয়নের কলেজ নিজেদের বিদ্যায়তনে মুসলমান ও ইহুদীদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে. তাদের প্রধান যুক্তি হল – রন্ধন প্রক্রিয়া চলার সময়ে এই দুই ধর্মে বিশেষ করে নিষিদ্ধ বস্তু আস্বাদন করা যায় না বলে.

ডেনমার্কের নাগরিক মুসলমান ইাকরাম কোরমাজ রান্না শেখার কলেজ কর্তৃপক্ষের এই নতুন  নির্দেশে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হয়েছেন. জানুয়ারী মাসের শুরু থেকে তিনি এই পাচক প্রশিক্ষণ কোর্সে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু আগে কারও মাথাব্যাথা ছিলনা তিনি কোন ধর্মের লোক আর কেউই তাঁকে শুয়োরের মাংস খেতে বা মদ আস্বাদ করে দেখতে জোর দেয় নি. এখন তাঁকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই শহরে তার পাচক প্রশিক্ষণ শেষ ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কোন অর্থ হয় না, যদি না তিনি ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস সংক্রান্ত নির্দেশ ভঙ্গ না করেন. ধর্মীয় নিয়ম ভঙ্গের দাবী – “নিষিদ্ধ আঘাত”, আর তা সেই সহিষ্ণুতার রাজনীতির উপযুক্ত নয়, যা সম্বন্ধে এত নিয়মিত ইউরোপে আলোচনা করা হয়ে থাকে, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করে রুশ মুসলমান কেন্দ্রীয় ধর্মীয় বিধি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রথম উপ সভাপতি আলবির ক্রাগানভ বলেছেন:

“গণতান্ত্রিক দেশগুলি যখন নিজেদের এই নামই দিয়েছে, তখন তাদের উচিত হবে শেষ অবধি গণতান্ত্রিকই থাকার, খাওয়ার প্রশ্নে ধর্মভীরু মানুষের উপরে চাপ সৃষ্টি করা নয়. আমি মনে করি যে, আজ ইউরোপ, যারা সারা বিশ্বকে বহুমত পালনের ও গণতান্ত্রিক নীতির উদাহরণ প্রদর্শন করতে চায়, তাদের নিজেদেরই উচিত্ সেই সমস্ত আইন পালন করা, যে গুলির জন্য তারা নিজেরাই আহ্বান করছে. বিভিন্ন ধর্মের মানুষের নিজেদের দৃষ্টিকোণ সমর্থনের প্রশ্নে সাম্য মেনে নেওয়া দরকার”.

প্রসঙ্গত, অনেক ইউরোপের লোকই মনে করেন যে, হঠাত্ করে এই কলেজ নিজেদের ছাত্রদের কাছে যে দাবী করেছে সেই সব খাওয়ার জিনিসের স্বাদ সম্বন্ধে অবহিত থাকার জন্য, যা নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়, - তা খুবই যুক্তিযুক্ত. কারণ এর উপরে খাবারের গুণ এবং একই সঙ্গে কাফে ও রেস্তোরাঁর পরিচিতি নির্ভরশীল. কিন্তু তাহলে বিষয়টা এই রকম হয়ে উঠেছে যে, মুহম্মদের শিক্ষা যারা বেছে নিয়েছেন, তাঁদের জন্য ধর্ম নিরপেক্ষ খাওয়া দাওয়ার জায়গায় কাজ করা ও শেখার অধিকার নেই ও তাঁরা শুধু নিজেদের কাজ করতে পারেন সেই সমস্ত জায়দায়, যেখানে হালাল কথাটা বিশেষ করে উল্লেখ করা থাকছে, অর্থাত্ সেই খানেই, যেখানে খাবার তৈরী করা হয় ধর্মের কড়া নির্দেশ পালন করে?

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, কোপেনহেগেন শহরের কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত খ্রীষ্টান ও অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে, বিশেষত মুসলিমদের সঙ্গে পরস্পর বিরোধিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে. এইতো বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউরোপের রাজনীতিবিদরা আইন প্রণয়ন করছেন, যা ধর্মীয় প্রতীক ও পোষাক পরিধান, মসজিদ ও মিনার নির্মাণ সম্বন্ধে অনেক দেশেই নানা রকমের বাধা এমনকি নিষেধ তৈরী করেছে, জার্নাল গুলিতে ভবিষ্যদ্বক্তা মুহম্মদ নিয়ে নানা রকমের কার্টুন বের হয়েছে, কিছু খ্রীষ্টান ধর্মীয় নেতা এমনকি প্রকাশ্যে কোরান ও অন্যান্য ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানোর আহ্বানও করেছেন.

বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঘঠনা নিয়ে তদন্তের কাজে ডেনমার্কের সমানাধিকার পরিষদও যুক্ত হয়েছে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, মুসলিম ও ইহুদী ছাত্রদের, অ্যালার্জি যাদের রয়েছে, তাদের সঙ্গে এক করে দেখা হতে পারে. কারণ কোপেনহেগেন শহরের কলেজ, এই ধরনের নানা রকমের জিনিস খাওয়ার ফলে রোগ যাদের রয়েছে, তাদের কিন্তু সেই সব খাবারের স্বাদ না জেনেই সেখানে প্রশিক্ষণ পেতে আপত্তি করে না.