রাশিয়া ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের উদ্ভাবনী কেন্দ্রগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ৬ বিলিয়ন রুবল (২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছে। এই অর্থের একটি অংশ পেতে যাচ্ছে নভোসিবিরস্কের আকাদেম পার্ক। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রকে আরও ঢেলে সাজানো হবে এবং আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ আকাদেম পার্ক থেকে ৪১ বিলিয়ন রুবল(১ বিলিয়ন ৪০০ হাজার মার্কিন ডলার) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নভোসিবিরস্ক আকাদেম পার্কের চমত্কার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকায় সেখানে গত শতাব্দীর ৯০ দশক থেকেই ব্যাপকভাবে উদ্ভাবনী ব্যাবসা শুরু হয়। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি খাতে নভোসিবিরস্ক অন্যতম শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, কোন ক্রমেই এই উন্নয়নের পথ থেকে পিছ পা হওয়া যাবে না এবং এ খাতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পতিন বলেন, ‘এটি অবশ্যই যা তথ্য প্রযুক্তি প্রকল্পের সাথে জড়িত, যেখানে ইতিমধ্যে আমাদের অগ্রগতি রয়েছে। আমাদের ব্যান্ডের রয়েছে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি। আশা করছি, আমাদের প্রোগ্রামাররা আগামী দিনে আরও প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরী করবেন এবং যা বিশ্ববাজারে নিজের স্থান করে নেবে। আমরা আইটি সেক্টরে সব ধরনের সহায়তা দিতে তৈরি আছি, তাছাড়া দক্ষ প্রোগ্রামারদের সংখ্যা বেড়েই চলছে’।

বর্তমানে আকাদেম পার্কে নিবন্ধিত কোম্পানীর  সংখ্যা হচ্ছে ১৭৩টি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইটি সেক্টরের নানা দিক নিয়ে কাজ করছে। এগুলো হল- ইনফরমেশন, বায়ো ও ন্যানো টেকনোলজি, কাঁচামাল গবেষণা ও উত্পাদন ইত্যাদি।

আকাদেম পার্কের একটি কোম্পানী খনি থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংবেদনশীল মিথেন গ্যাস নিয়ে কাজ করেছে যা একই পদ্ধতিতে মিলিত করা যায়। এমনটি বলছিলেন ওই কোম্পানীর পরিচালক ও প্রোগ্রামার আলোক্সান্দার গ্রাচেভ। তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতি যা প্রতিটি খনি শ্রমিকের কাছে পরিচিত এবং কোন প্রকার বিরতি ছাড়াই তা উপরের পৃষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়। এর বিকল্প কোন কিছু নেই। প্রতিটি খনি শ্রমিকেরই সংবেদনশীল মিথেন গ্যাস থাকে। ওই খনি শ্রমিকের অবস্থান সম্পর্কে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে তথ্য প্রদান করা হয় এবং তাঁর চারপাশে মিথেন গ্যাসের পরিমাপের ধারণা দেয়া হয়’।

বর্তমানে কোম্পানীর এই ধরনের সংবেদক যা রাশিয়া ছাড়াও চীন, চিলি ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। কোম্পানী চিকিত্সা বিজ্ঞানেও নতুন প্রযুক্তি তৈরী করেছে যা নিরাপদ কোডিন ধারনকারী ঔষধ সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। এমনটি বলছিলেন এই প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের একজন মিখাইল লোসেভ। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি ঔষধ প্রস্তুতকারীদের কাছে অনেক আগেই পরিচিত এবং তারা প্রস্তুতকৃত ঔষধে তা মিশিয়ে দেন যা পরবর্তিতে নেশায় আসক্ত করে না। এর অর্থ হচ্ছে, এই ঔষধ কোন ক্রমেই মাদক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু, তা সাধারণ ঔষধের মতই কাজ করবে। একই সাথে মিশ্রিত ওই উপাদান শরীরকে অতিরিক্ত মাত্রার ওষুধের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিবে। রক্তের ওপরও  কোন বিরূপ প্রভাব পরবে না। এই উপকরণগুলো নিজেদের কার্যকর ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে’।

এই প্রযুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করার কাজ চলছে।  

0 আকাদেম পার্কে চলমান বৈজ্ঞানিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি খুবই সামান্য একটি  অংশ। নভোসিবিরস্কের কোম্পানীগুলো জানিয়েছে, নিজেদের সাহসী প্রকল্প দিয়ে সবাইকে চমক দেওয়ার কাজ তাঁরা চালিয়ে যাবে।