খ্রীষ্ট ধর্মের একটি বর্ণময় উত্সব পক্ষ শুরু হচ্ছে এই বছরে ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে, চলবে ২৬ অবধি. ধর্মীয় মত অনুযায়ী এর পরে সাত সপ্তাহ ধরে খুবই কঠোর সংযমের সঙ্গে পবিত্র উপাসনা, যা চলবে যীশু খ্রীষ্টের পুনর্জীবন লাভের আনন্দোত্সব উপলক্ষে এপ্রিল মাসের ইস্টার পর্ব পর্যন্ত, তা শুরুর আগে জাগতিক পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার সপ্তাহ হিসাবে. যদিও রুশী লোকেদের কাছে এই উত্সব বেশী পরিচিত প্যান কেক, গরম সামোভার থেকে ঢালা চা, মজা আর নানা রকমের আনন্দ করার সময় বলেই.

    মাসলেনিত্সা হয়ে যাওয়ার পরে ইস্টারের আগে পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্ট ধর্মের লোকেরা প্রাণী জাত খাদ্য, মদ্যপান, আনন্দ উত্সব, ধূমপান থেকে নিজেদের সংযত করে রাখেন. তাই মাসলেনিত্সা শেষ সপ্তাহ যখন এই রকম খাওয়া, পান আনন্দ করা চলতে পারে.

    মাসলেনিত্সা উত্সবের ইতিহাস বহু প্রাচীন, তা রুশ লোকেরা পেয়েছে খ্রীষ্ট ধর্মের বিকাশের আগে এই দেশে যে পৌত্তলিক ধর্ম পালিত হত, তার থেকেই, সেই সময়ে এই দিনকে বসন্তের সৌর যাত্রার দিন হিসাবে মানা হত, পরে ইস্টারের সঙ্গে হিসেব করে এই দিন স্থির করা হলেও আগের অর্থও এখনও রয়ে গেছে. এটা আসন্ন বসন্তের উত্সব, যা দীর্ঘ রুশ শীতের পরে আসার প্রতীক্ষা করা হয় আর এই দিন গুলিতে আনন্দের সঙ্গেই বিদায় করে দেওয়া হয়.

    আগে দেশের প্রধান রাস্তা গুলিতে মাসলেনিত্সা উত্সবের দিনে গায়ে রঙ মেখে সং সেজে হাতে ন্যাড়া পোড়ার জন্য বানানো খড়ের পুতুল নিয়ে মিছিল বের হত. তা ছিল চলে যাওয়া শীতের প্রতীক. সে গুলিকে পুড়িয়ে বসন্ত আগমন ঘোষণা করা হত. সোভিয়েত দেশে এই উত্সব বড় করে পালন করা হত না, তাই পরে আবার এই উত্সব বড় করে পালন করা দিয়ে সোভিয়েত দেশের অবসানের আনন্দ নতুন রুশীরা উপভোগ করে. সারা দেশে সরকারি খরচে নানা রকমের জলসা, বিনা পয়সায় প্যান কেক খাওয়া, নাচ গানের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে বৃহস্পতি থেকে রবিবারেই বেশী করে উত্সব করা হয় মদ্য পান সহ. নানা রকমের মাছ, মাছের ডিম, মাংস, জ্যাম, জেলি দিয়ে এই সব প্যান কেক খাওয়া হয়ে থাকে. এটা বলা যেতে পারে রুশী দের বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ করার প্রকৃষ্ট সময়.

    এই উত্সবের শেষ দিনে খ্রীষ্ট ধর্মীয় লোকেরা একে অপরের কাছে ক্ষমা চায়, ও তার উত্তরে বলে ভগবান ক্ষমা করবেন! এই ভাবেই পরবর্তী সাত সপ্তাহের সংযমের সময়ের শুরু হয় ও তার প্রস্তুতি হিসাবে আত্মা শুদ্ধ করা হয়ে থাকে.