চিনের কোম্পানী “প্রোভিউ টেকনলজি” নিজেদের চিনে এই ধরনের কম্পিউটারের কপিরাইট হোল্ডার বলে দাবী করেছে. ২০০১ সালে আইপ্যাড একটি ট্রেড মার্ক বলে এই কোম্পানী রেজিস্টার করেছিল ও পরে অ্যাপল কোম্পানীর লোকের নজর থেকে দূরে নতুন প্রযুক্তি রাখার জন্য তৈরী এক ব্রিটিশ কোম্পানী “আই পি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট” বলে এক কোম্পানীকে এর স্বত্ত্ব ২০০৬ সালে ৫৫হাজার ডলারে বেচে দিয়েছিল. যেহেতু আইপ্যাড চিনেই বেশীর ভাগ যন্ত্রাংশ তৈরী করে জোড়া লাগানো হয়, তাই চিনের বাজারে এর রমরমা দেখে সেই কোম্পানী দাবী করেছে এই ধরনের কম্পিউটার এখন চিনে আনা বা নেওয়া বন্ধ করার, কারণ তাদের দাবী যে তারা বেশ কিছু দেশ, যার মধ্যে চিনও রয়েছে, সেখানে এই স্বত্ত্ব বেচে দেয় নি.

    বর্তমানে তারা চাইছে ১৬০ কোটি ডলার অ্যাপল কোম্পনীর কাছ থেকে ক্ষতি পূরণ হিসাবে, তাই দুই কোম্পানীর মধ্যে চলছে মামলা একে অপরের বিরুদ্ধে, কিন্তু আপাততঃ এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি. চিনের কোম্পানী চাপ দিয়েছে যে, এই কম্পিউটার এখন বাজার থেকে তুলে নেওয়া হোক, যতদিন না মালায় কোন বিচার দেওয়া হয়. চিনের বেশ কয়েকটি দোকানে এর মধ্যেই তাই এই ধরনের যন্ত্র শো কেস থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে.

    চিনের শুল্ক বিভাগের কর্তৃপক্ষকে এই দেশে আইপ্যাড আনা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে. এই বিষয়ে কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে অ্যাপল কোম্পানীর জন্য তা হবে বিপর্যয়. রপ্তানী বন্ধ হলে ব্যবসা লাটে উঠতে পারে.

    চিনেরও তাতে ক্ষতি হতে পারে বলে রুশ তথ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার বাউলিন ভেবেছেন.

    “চিনের আইপ্যাড বিক্রি বন্ধ হলে অনেক লক্ষ কাজের জায়গা ও অনেক কোটি ডলার আয় বন্ধ হয়ে যাবে. অন্য দিক থেকে অ্যাপল এই ধরনের কারখানা আমেরিকাতে বানায় নি, কাজেই সেখানে কারখানা তুলে নিয়ে যেতে গেলেও অভিজ্ঞতা ও সময় দুটোই দরকার পড়বে. এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ কয়েকটি. প্রথম হচ্ছে মামলায় অ্যাপল কোম্পানীর জয়, দ্বিতীয় চিনের সরকারের সঙ্গে রফা করা যাতে বিষয়টি স্তিমিত হয়. তৃতীয় হল, চিনের কোম্পানীর সঙ্গে দাবীর চেয়ে অনেক কম টাকায় কোন সমঝোতা করা”.

    যদিও এই ধরনের মামলা অ্যাপল প্রথম করছে না, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোবাইল টেলিফোন মার্কেট বিশেষজ্ঞ এলদার মুর্তাজিন বলেছেন:

    “নতুন বাজার দখলের লড়াই আজ সব বড় কোম্পানী ও অ্যাপল এই সব পারস্পরিক মামলা দিয়ে করছে. তাদের প্রধান প্রতিযোগী অ্যানড্রয়েড, যারা একর মধ্যেই অ্যাপল কোম্পানীর চেয়ে বেশী জিনিস বাজারে নিয়ে এসেছে. যদিও অ্যাপল এখনও বেশী লাভ করছে, বিশ্বের অন্য যে কোনও কোম্পানীর চেয়ে. নোকিয়া কোম্পানী যদিও সংখ্যায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশী টেলিফোন বেচে, তাও তাদের লাভ অ্যাপল কোম্পানীর তুলনায় মাত্র শতকরা দুই ভাগ. আর এই সব যুদ্ধই অ্যাপল করছে বাজারে পাকাপাকি আসন গেড়ে বসার জন্য”.