ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রে বেরিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্যারাট্রুপার বাহিনীর সৈন্য ডি. বি. গ্র্যাডি ও সাংবাদিক মার্ক আম্বিনডার, দ্য কম্যান্ড: ডিপ ইনসাইড দ্য প্রেসিডেন্টস সিক্রেট আর্মি নামে যে বই সদ্য প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে যে, ২০০৫ সালে কাশ্মীর উপত্যকা দিয়ে প্রবল ভূমি কম্পের সময়ে চিকিত্সা ও নির্মাণ কর্মীর ছদ্ম বেশে অনেক সিআইএ গুপ্তচরকে পাকিস্তানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল. বিষয়টা নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    কয়েক বছর আগেও এই খবরকে বলা যেতে পারত কোন চাঞ্চল্যকর খবর, কারণ ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হানার পরে পাকিস্তান ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল. আর হঠাত্ করেই খবর পাওয়া গেল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী দেশের সঙ্গে, যারা আবার আফগানিস্তানে অপারেশনের জন্য তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা, তাদের বিরুদ্ধে বহু দিন আগে থেকেই বিশ্বাস ভঙ্গের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে! ২০০৫ সালে এটাকে ভাবা যায় না বলেই মনে হতে পারতো বলে উল্লেখ করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মী পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “এই সময়েই পাকিস্তানে এক দল আল- কায়দার উচ্চ সারির নেতা ধরা পড়েছিল, যা পাক ও মার্কিন গুপ্তচর সংস্থাদের সম্মিলিত কাজের ফল. একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলাচল করা বিমান গুলিতে অনেক সন্ত্রাসবাদী হানার জন্য চক্রান্ত আগে থেকেই ধরা পড়ে গিয়েছিল, এটাও ছিল দুই দেশের ও আরও কয়েকটি দেশের সংস্থা গুলির সম্মিলিত কাজের ফল. দুই দেশের সরকারি ও আধা সরকারি সম্পর্কের খুবই ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল, কিন্তু এরও উল্টো দিক রয়েছে”.

    দুই দেশের মধ্যে কখনোই সম্পূর্ণ রকমের বিশ্বাস ছিল না একে অপরের প্রতি. ডেইলি টেলিগ্রাফ প্রকাশ করেছে যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন সংস্থা অনেকদিন আগে থেকেই নিজেদের গোপন যুদ্ধ চালাচ্ছিল, তাই সেই গুপ্তচর বাহিনীকে ছদ্ম বেশে পাঠিয়েছিল, আর তাদের কাজের মধ্যে শুধু আল- কায়দা দলের খবর নেওয়াই ছিল না, বরং প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তানের পারমানবিক কেন্দ্র ও কাজ কর্মের হদিশ করাই ছিল. তাদের নিয়মিত কাজের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের সরকারি কর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের নিজেদের দলে ভেড়ানো. এই কাজ খুবই জটিল কায়দায় করা হয়েছিল ও তা খুবই প্রসারিত ভাবেই করা হয়েছে. যথেষ্ট হবে শুধু এই টুকু মনে করলেই যে, অ্যাবত্তাবাদে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হামলা ও তারপরে ওসামা বেন- লাদেনের হত্যা কাণ্ড, তার পরেই হতে পেরেছিল, যখন সিআইএ পাকিস্তানে নিজেদের চর ডাক্তার শাকিল আফ্রিদির কাছ থেকে খবর পেয়েছিল. টীকা দেওয়া নিয়ে এক প্রকল্পের সময়ে সে ডি এন এ সংগ্রহ করেছিল, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদীর খোঁজ করার জন্য. পরে আফ্রিদি পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিল ও তার নামে দেশদ্রোহিতার মামলা করা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘে সঙ্গেই তার রক্ষার কাজে লেগেছে. পেন্টাগনের প্রধান লিওন প্যানেত্তা বলেছেন, “আমি খুবই উদ্বিগ্ন এই কারণে, যে, পাকিস্তানের লোকেরা এই মানুষ টির সঙ্গে কি করেছে তা নিয়ে, যে বাস্তবে এই অপারেশনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় তথ্য যোগাড় করতে অনেক সহায়তা করেছে”.

    পাকিস্তানে এখন মার্কিন বিরোধী মনোভাব খুবই প্রবল, সরকারি ভাবে আমেরিকার লোকেদের উপস্থিতি ইসলামাবাদ কমানোর দাবী করেছে ও ভিসা ব্যবস্থা কঠিন করা হচ্ছে. কারণ তো পাঠক আমাদের আগের সব বিবরণেই পেয়েছেন.

    এই নতুন করে মার্কিন গুপ্তচর বাহিনীর কাজের বিবরণ, যা গ্রেট ব্রিটেনের কাগজে বেরিয়েছে, তা শুধু আরও একবার প্রমাণ করে যে, কোন গণতন্ত্র বা শান্তির উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোট কোথাও যায় না, তাদের জন্য বন্ধু কথাটা অর্থহীন, স্বার্থই প্রথম.