রাশিয়া,চীন সহ একসারি দেশ সিরিয়া সম্পর্কে ঘোষণাপত্রের খসড়ার বিরূদ্ধে ভোট দিয়েছে. ভোটদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল গতরাতে. সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ঐ খসড়া গৃহীত হয়েছে. রাশিয়া বিরূদ্ধে ভোট দিয়েছে, কারণ ঘোষণাপত্রে রাশিয়া প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি গৃহীত হয়নি. ভোটদান পর্ব শেষ হওয়ার পরে জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন বলেছেন, যে ঐ দলিল ভারসাম্যহীন.

      একই সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, যে সিরিয়ার প্রশ্নে অপপ্রচারের যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে. সাধারন পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে আরবী সংবাদ মাধ্যমগুলিতে এমন খবর প্রচার করা হয়েছে, যে মস্কো নাকি দামাস্কাসকে রাসায়নিক অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং ব্যাপক সংখ্যায় নিজস্ব স্পেশ্যাল ফোর্স সিরিয়ায় পাঠাচ্ছে. প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া নাকি ঢালাও হারে সিরিয়াকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে চলেছে. সৌদি দূরদর্শন চ্যানেল আল-আরাবিয়া একটা লোকের সাথে সাক্ষাত্কার দেখিয়েছে, বলা হয়েছে সে সিরীয় এবং রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী থেকে পলাতক বলে তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে, যদিও কোনো প্রমাণ দাখিল করা হয়নি. ঐ লোকটা গল্প করেছে, যে ক্যান্টনমেন্টে সে চাকরি করতো, সেখানে সে শুনেছে, যে বিরোধীপক্ষের সমর্থকদের উপর নাকি স্নায়ু অবশকারী গ্যাস প্রয়োগ করা হতো. এই ব্যাপারে পরামর্ষদাতারা ছিল ইরান ও রাশিয়া থেকে আগত. তারপরেও লোকটা আজগুবি গল্পগাছা চালিয়ে যেতে লাগলো.

      রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রক দৃঢ়তার সাথে এইসব মিথ্যে তথ্য অস্বীকার করেছে. কূটনীতিবিদেরা বিশেষ করে উল্লেখ করছেন, যে সিরিয়ার সমস্যাকে কেন্দ্র করে বড়মাপের অপপ্রচারের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যার প্রেরণাদাতারা রাশিয়ার উদ্দেশ্যে কুত্সা রটাতে গিয়ে কোনোকিছুর সামনেই থামছে না. আরব ও ইসলামি গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর ফিলোনিক এর সাথে একমত. তিনি অপপ্রচারের এমন তীব্র ঢেউয়ের উদ্রেকের অন্যান্য সম্ভাব্য কারনের কথাও বলছেন ---

       তথ্য যুদ্ধ চলছে. ওরা ঐ যুদ্ধে বাস্তবের সাথে সম্পর্ক আছে, এমন কোনো তথ্য আর প্রচার করছে না.

      ক্রমবর্ধমান হিস্টিরিয়া শুরু হয়েছে ঠিক যখন সিরিয়ার শাসক কর্তৃপক্ষ দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে. দামাস্কাস বহুদিন আগে থেকেই ছাড় দিতে তৈরি ছিল – কিন্তু প্রতিপক্ষরা দৃঢ়ভাষায় সারাক্ষন বলে এসেছে, যে তারা বাশার আল-আসাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না. এখন যখন ঐসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কুত্সার নতুন জোয়ার. বিশেষজ্ঞদের মতে এইভাবে বিশ্ব জনসমাজকে সিরিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক অধিগ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে. লিবিয়ার উদাহরনের পরে শাসনব্যবস্থার জান্তব হিংস্রতা প্রমাণ করতে না পারলে, সেরকম সমর্থন মিলবে ন্যূনতম.

     জাতিসংঘে চীনের সর্বাধিকারী প্রতিনিধি বলেছেন, যে জাতিসংঘ সমস্যাটিকে জটিলতর করে তুলছে, যখন উচিত ছিল নিকট প্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে সাহায্য করা. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ আবারও বলেছেন – প্রাথমিক শর্তস্বরূপ যদি শাসনব্যবস্থার বদল দাবী করা হয় – সেটা সর্বব্যাপী গৃহযুদ্ধের সদর রাস্তা, যার পরিণতি অভাবনীয়.