বিশ্ব অর্থনীতির জন্য লোকোমোটিভের কাজ করবে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা – এই ব্রিকসের দেশ গুলি যদিও বিশ্ব অর্থনীতির সমস্ত নেতিবাচক প্রভাবই নিজেদের উপরে টের পাচ্ছে, তাও ইউরোপীয় সঙ্ঘের নাটকীয় ঘটনার ছাপ এদের উপরে তেমন কিছু প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না. এই মত দিয়েছেন রাশিয়া ও ভারতীয় অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এক ভিডিও সম্মেলনে – যা মস্কো ও দিল্লীর মধ্যে আয়োজন করা হয়েছিল রিয়া- নোভস্তি সংস্থার উদ্যোগে.

    এই বছরে ব্রিকসের দেশ গুলির উন্নতির গতি কিছুটা স্তিমিত হবে, কিন্তু তাও যথেষ্টই বেশী হবে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ গিভি মচাভারিয়ানি বলেছেন:

    “ব্রিকস দেশ গুলির অর্থনীতি ২০১২ সালে উন্নতি করবে. ভারতে শতকরা ৭ ভাগ, চিনে ৮, ২ ভাগ, ব্রাজিলে- ৪ শতাংশ অবধি ও রাশিয়াতে – ৩, ৩ ভাগ. ভারত ও চিনে এটা হবে আভ্যন্তরীণ প্রশাসনের নেওয়া ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, যা চাহিদা বৃদ্ধির জন্য করা হয়েছে. রাশিয়াতে – তার খনিজ তেল ও গ্যাস জাতীয় জ্বালানীর প্রয়োজনের কারণে”.

    কিন্তু উন্নত দেশ গুলিতে সঙ্কটের লক্ষণ চলতেই থাকলে, হতে পারে যে, ব্রিকস দেশ গুলিতেও নেতিবাচক প্রক্রিয়া বাড়তে পারে. মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের এশিয়া গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর প্রফেসর ইভগেনি আভ্দোকুশিন এই ধরনের ঘটনার পরিবর্তন বাদ দেন নি. কিন্তু বর্তমানে এই রকমের পরিবর্তন একেবারেই আবশ্যিক নাও হতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

    “ডলার ও ইউরো মুদ্রার ভারসাম্যের বিষয়ে ক্রম বর্ধমান অস্থিতিশীলতা ব্রিকস দেশ গুলির জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ঝাঁকানির কারণ হ’তেই পারে এক চালু হওয়ার মতো সুইচ হিসাবে. কারণ এই দেশ গুলির স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার এই দুটি মুদ্রাতেই বেশী করে রয়েছে. কিন্তু এই বছরে এটা হবে বলে তো মনে হয় না”.

    এখন যে সমস্যা গুলি অনুভূত হচ্ছে, তার উদাহরণ হিসাবে একটি যেমন চিন তাদের দেশে গৃহ সংস্থান ব্যবস্থায় এক তথাকথিত বুদ্বুদের সামনে উপস্থিত হয়েছে, তার ওপরে পৌরসভা গুলির ঋণও বর্তমানে প্রচুর. কিন্তু চিন একাধিকবার দেখিয়েছে কি করে জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব. বর্তমানের গুলি পার হতে পারলে, দেশ জেগে উঠবে, নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মজবুত করে ফেলবে.

    আর ভারতের ক্ষেত্রে কি হতে চলেছে? কোন পথ ভারতবর্ষ নিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে? ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের ডঃ চিত্তন কান্ত উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে বিশ্ব সঙ্কটের প্রভাব ও ইউরো মুদ্রার দাম বদলের প্রভাব তত বেশী হয় নি, যদিও বিদেশী এবং বিশেষ করে পশ্চিমের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পথ যথেষ্ট প্রসারিত ভাবেই খোলা রয়েছে, তিনি বলেছেন:

    “ভারত যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে সামিল হয়েছে, তাও দেশের ভিতরের সম্ভাবনার জন্যই উন্নতি করতে পারে. আমরা আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও খুবই মনোযোগ দিয়েছি. আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসার সহকর্মী দেশ হল – চিন.

    ভারত দেশের আভ্যন্তরীণ সংশোধনের বিষয়ে মনোযোগ দিতে চেয়েছে. তর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল – দেশের বিমা ব্যবস্থার নবীকরণ, সারা দেশের কাজ – দুর্নীতির মোকাবিলা. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে – জ্বালানী সমস্যার সমাধান”.

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিকস দেশ গুলি অনেক গুরুত্ব দিয়েছে. এটা বেশী করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ভারত ও রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, - এই রকম মনে করে দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর সেন বলেছেন যে, ভারতের জন্য প্রয়োজনীয় রাশিয়ার থেকে খনিজ তেল ও গ্যাস আর ভারত প্রয়োজন অনুযায়ী তা পাচ্ছেও. রাশিয়া ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার মর্যাদা দিয়ে থাকে, তাই তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে, যেখানে ভারতীয়রা শক্তিশালী, তা বৃদ্ধি হয়েছে. দুই দেশই নিজেদের সহযোগিতা সেই সমস্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বাড়াচ্ছে, যা দীর্ঘ প্রসারী, যেমন জৈব প্রযুক্তি, ন্যানো টেকনলজি, যন্ত্র নির্মাণ, অসামরিক ও সামরিক বিমান নির্মাণ, আর তৈরী রয়েছে পরবর্তী সময়ে এই সহযোগিতা ব্রিকস কাঠামোর মধ্যেই প্রসারিত করার জন্য.