সিরিয়া সমস্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্যেই নমনীয়তার পরীক্ষা হতে পারে. একই সময়ে দেশ নিজেই গৃহ যুদ্ধের পরীক্ষা সহ্য করতে না পারতেও পারে. ভিয়েনাতে আফগানিস্তান থেকে পাচার হওয়া মাদক দ্রব্যের মোকাবিলা নিয়ে সম্মেলনের আগে রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ ও মিখায়েল শ্পিনদেলেগ্গের নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন.

    ভিয়েনা শহরে সাংবাদিকরা সের্গেই লাভরভকে প্রধানত আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন নি, আন্তর্জাতিক প্রশ্নাবলীর তালিকায় প্রথম স্থান আপাতত নিয়েছে সিরিয়াই.

    এই দেশের পরিস্থিতি নিকট প্রাচ্যের সমস্ত এলাকা ও উত্তর আফ্রিকাকে প্রভাবিত করে. কি ভাবে আন্তর্জাতিক সমাজ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তার ওপরে বহু দেশেরই ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে. এটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান নীতির প্রতি নিষ্ঠার পরীক্ষা বলে মনে করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

    “বড় করে দেখতে হলে আমরা আজ এক সহজ বাছাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে: যদি আন্তর্জাতিক সমাজের নেতৃস্থানীয় সদস্য দেশ গুলি অন্য সমস্ত কিছুর আগে সেই দেশের প্রশাসনের পরিবর্তন দাবী করে – তবে এটা হবে এক সম্পূর্ণ আকারের গৃহ যুদ্ধের রাস্তা, যার পরিণতি অকল্পনীয়. দামাস্কাস থেকে এই বিশ্বাস নিয়েই আমি ফিরে এসেছি আর সে গল্প আমি মিস্টার শ্পিনদেলেগ্গের কে করেছি. যদি আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব রক্ত ক্ষয় বন্ধ করতে, তবে উচিত্ হবে সমস্ত প্রাথমিক শর্ত বাদ দিয়ে সম্মিলিত স্বরে সমস্ত সশস্ত্র লোকের কাছে দাবী করা, যারা আজ সিরিয়াতে একে অপরের দিকে গুলি ছুঁড়ছে যে, এটা বন্ধ করতে ও আলোচনার টেবিলে বসতে”.

    মস্কোর জন্য আজ স্পষ্ট: শুধু এই রকম উপায়েই সবচেয়ে কম ক্ষয় ক্ষতি স্বীকার করে সঙ্কট মোচন করা সম্ভব. প্রশাসন বদলের দাবী স্রেফ অবাস্তব. এই ধরনের চূড়ান্ত শর্ত দেওয়া যেতে পারে না বলেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান বিশ্বাস করেন. তিনি আরও বলেছেন

    “অবশ্যই আমরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে তৈরী. এটা আমরা ৫ই ফেব্রুয়ারী দরজা বন্ধ করে দিই নি. আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে তৈরী ছিলাম. আমরা সেই সমস্ত পদক্ষেপেরই ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছিলাম, যা এই সিদ্ধান্তের লেখকরা রাশিয়া, চিন ও অন্যান্য দেশের কথা ভেবে করেছিলেন. কিন্তু আমাদের প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করা হয়েছিল”.

    ইরানের চারপাশ ঘিরেও উত্তেজনা কমছে না. কিন্তু সের্গেই লাভরভের মতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে, আবার তার উপরে সামরিক আঘাত হানা হলে – সেই পথ হবে লক্ষ্যহীণ, তাই তিনি বলেছেন:

    “তেহরান ও বাইরের সব ক্রীড়নকদের সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগে ইরানের সমস্যা বহু বছর ধরেই খুবই জটিল করে তোলা হয়েছে. তার মধ্যে আবার সেই সময়ে, যখন সম্মিলিত ভাবে নির্ধারিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে যা বলা হয়েছে, তার বাইরেও একতরফা সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতি, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, এখন ইউরোপীয় সঙ্ঘও এক নিষ্ঠুর আনন্দের স্বাদের খবর পেয়েছে, তা অবশ্যই আমাদের কাজ কর্মের ঐক্য নষ্ট করে দিয়েছে. কিন্তু আমি একেবারেই ইরানের নেতৃত্বের দায় কমাতে চাইছি না. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিচালকদের সিদ্ধান্ত রয়েছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা পালন করতেই হবে”.

    ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা কি কোন সামরিক লক্ষ্য রাখে – এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়া, অন্যান্য দেশের মতই, ব্যাখ্যা পেতে আগ্রহী. মস্কো আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে ইরানের আলোচনায় আগ্রহী এবং “পাঁচ ও এক” কাঠামোতেও আলোচনা হোক তা চায়. রাশিয়ার সিরিয়া সম্বন্ধে অবস্থান ব্যাখ্যা করে, সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: “কোন কিছুই অসম্ভব নয়, যদি তা নিয়ে টেবিলে আলোচনা করতে বসা হয়. দেখাই যাচ্ছে যে, এই নীতি ইরানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য”.