২০১৪ সালের সোচী অলিম্পিক শুরু হতে আর দুই বছর বাকী. এই শহরের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে কয়েক হাজার লোক কাজ করে চলেছে দিন রাত. সমস্ত জায়গা গুলিই অলিম্পিকের আগে সময় মতো চালু করতে হবে, এই বছরের গরমে. আর এই বছরের হেমন্ত কালে এখানে খেলোয়াড়রা আসবেন পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে.

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিরা সোচীতে অলিম্পিকের জন্য নির্মাণ কার্যে অগ্রগতি লক্ষ্য করেছেন. সোচীতে তার আরও একটি সফর শেষ করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সমন্বয় কমিটির সভাপতি জ্যাঁ-ক্লদ কিল্লি বলেছেন, যে বেশ কয়েকটি নির্নীয়মাণ ক্রীড়া কেন্দ্রে আগামী শীত কালেই পরীক্ষামুলকভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে.

     ২০১৪ সালের সোচী শীত-অলিম্পিকের জন্য ১৩টি বড় ক্রীড়া কেন্দ্র, ৪টি পাহাড়ী প্রমোদ ভ্রমণ এলাকা এবং ১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা বানানো হচ্ছে. গোটা অলিম্পিকের নির্মাণ কার্য সমুদ্র উপকূলবর্তী এবং পাহাড়ী বিভাগে ভাগ করা হয়েছে. সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় অলিম্পিক পার্ক এবং ৬টি ক্রীড়া কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে. সব কটি কেন্দ্রই নজীর বিহীণ. আইস হকির জন্য একই ছাতের তলায় একটি মুল ষ্টেডিয়াম ও আরও একটি অনুশীলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে. দুনিয়ায় কোথাও এমনটি নেই. নির্মাণ কার্যের প্রধান মারাত আখমাদিয়েভ বলছেন, যে এটা বিশ্বে একমাত্র ছাত ঢাকা ক্রীড়া কেন্দ্র, যার আয়তন ৩০ হাজার বর্গ মিটার.

     এখন কেন্দ্র টির সম্মুখ ভাগ ও ছাতের নির্মাণ কার্য পরিচালিত হচ্ছে. ছাতটা হবে দূরদর্শণের পর্দার মতো, যেখানে ৪০ হাজার বাতি জ্বলবে, আর রাতের অন্ধকারে ছাতটা কম্পিউটার গ্রাফিকের মাধ্যমে আলোকিত হবে.

     প্রধান আইস ষ্টেডিয়ামের নির্মাণ কার্য সময়মতোই শেষ হবে, ২০১২ সালের জুন মাসে. অলিম্পিক চলা কালীন ষ্টেডিয়াম টিকে প্রতিযোগিতার জন্য ও প্রমোদ মুলক অনুষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হবে. ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে স্থপতিরা ফিগার স্কেটিং ও শর্ট ট্র্যাকের ষ্টেডিয়ামের নির্মাণ কার্য শেষ করবে. অভূতপূর্ব ছাত সহ এই ক্রীড়া কেন্দ্রটি হবে অনন্যসাধারণ.

       ছাতের বিশেষত্ব হবে এই, যে তাকে গুটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যাবে. সেতুর মতোই ছাতটি নাট বোল্টু দিয়ে বানানো হচ্ছে.

       আরও একটা নজীর বিহীণ ক্রীড়া কেন্দ্র হল ছাত ওলা স্কেটিং ষ্টেডিয়াম. সেখান কার নির্মাণ কার্যের প্রধান আনাতোলি অর্লোভ বলছেন, যে পৃথিবীর কোথাও এর আগে সাব ট্রপিক্যাল অঞ্চলে এমন ষ্টেডিয়াম বানানো হয়নি.

       তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সমন্বয় কমিটির সভাপতি জ্যাঁ-ক্লদ কিল্লির মতে, ‘সোচী-২০১৪’-র সবচেয়ে বড় সার্থকতা হল এই, যে অলিম্পিকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে সারা দেশ অলিম্পিক ক্রীড়ার সমর্থকে পরিণত হয়েছে এবং তার প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণ করছে. শুধুমাত্র ‘সোচী-২০১৪’ অলিম্পিকের আওতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই দশ লাখেরও বেশী মানুষ অংশ নেবে.

সোচী শহরে অলিম্পিকের নির্মাণ কার্য চলছে আধুনিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত মান বজায় রেখে, যাতে পরিপার্শ্বিক বিষয়ে এর প্রভাব কম করা যায়.

    "সবুজ" নির্মাণ প্রক্রিয়ায় খুবই কম করা হয়েছে জঞ্জালের পরিমান. নতুন জঞ্জাল পুনর্ব্যবহারের যোগ্য করণ কারখানায় বছরে ২ লক্ষ টন জঞ্জাল ব্যবহার করা সম্ভব. একটি কোম্পানী থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে ছাতের উপরে জমা বৃষ্টির জল একসাথে করে পরিস্কার করার প্রযুক্তি. আদলের শহরের স্টেশনে রাস্তার আলো লাগানো হয়েছে সৌর ব্যাটারি থেকে শক্তি সংগ্রহে সম্ভব ও হাওয়া কলও সেখানে রয়েছে. আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির শর্ত- পরিবেশ দূষণ সবচেয়ে কম করতে হবে – তা পালিত হচ্ছে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করে রাশিয়ার ক্রীড়া, পর্যটন ও যুব রাজনীতি মন্ত্রী ভিতালি মুতকো বলেছেন:

    "অলিম্পিকের জন্য নির্নীয়মাণ জায়গা গুলি সম্বন্ধে কি ধরনের দাবী থাকবে, তা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ও সোচী – ২০১৪ কমিটি তা গ্রহণ করেছে. সোচীর সমস্ত প্রকল্প পরিবেশ সংক্রান্ত পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, অনেক গুলি নিয়ে বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে. এখন সমস্ত প্রশ্নই সমাধান করা হয়ে গিয়েছে. প্রকৃতি সবচেয়ে কম ভাবে এর ছোঁয়া পাবে. যদিও, এই সমস্ত জায়গা গুলির বিশাল আকৃতির কথা মনে করলে এই কাজ খুবই কষ্টসাধ্য. রাশিয়ার প্রশাসন নতুন পরিবেশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে. প্রতি বছরের সঙ্গেই প্রকৃতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, দূষণ কমানো হচ্ছে".

    উত্তর ককেশাস, যেখানে সোচী শহর রয়েছে, - এটা বহু বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের থাকার জায়গা. বিশ্ব বন্য প্রাণী সংস্থা ও রাশিয়ার প্রকৃতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সোচীর জাতীয় অরণ্য উদ্যানে মধ্য এশিয়ার চিতা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে. সোচীর বন বিভাগের কর্মীরা যে সমস্ত উদ্ভিদের নাম ইতিমধ্যেই বিরল প্রজাতির নিশ্চিহ্ণ তালিকায় ঢুকেছে, সেই গুলির চারা লাগাচ্ছেন. যে সব কোম্পানীরা সোচী শহরে অলিম্পিকের নির্মাণ করছে, তারই এই কাজের জন্য সাহায্য করছে. কিন্তু রাশিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রোমান মিনাতসেকানভ জোর দিয়ে বলেছেন যে, "সমস্ত রকমের সংরক্ষণের চেষ্টা স্বত্ত্বেও ক্ষতি কম করা কঠিন. তিনি বলেছেন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ক্ষয় রোধ করা সম্ভব হবে না, যে সমস্ত কাজ করা হয়েছে তৈরীর জায়গা থেকে প্রাণী ও উদ্ভিদকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তা ঠিক আর তার ভিত্তিও আছে. কিন্তু এই কথা বলা যে, কত বছর বাদে আবার প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভাবে সেরে উঠবে, তা একজন বিশেষজ্ঞও বলতে চাইবেন না. সবই নির্ভর করবে এই এলাকার প্রকৃতির অংশ নতুন করে তৈরী করার জন্য কত সক্রিয় ভাবে কাজ করা হবে, তার উপরে".

    তা স্বত্ত্বেও উত্তর ককেশাস প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য খুবই ভাল জায়গা, এই কথা উল্লেখ করেছেন অলিম্পিক নির্মাতারা. ২০২০ সালে এখানে বিশ্বমানের পাহাড়ী পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করা হবে, যা পরিবেশ বান্ধব. এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক পর্যটনের উন্নতির জন্য অলিম্পিক প্রতিযোগিতা করা প্রথম পদক্ষেপ.