আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অভিযাত্রীদের থাকার সময় ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর অথবা তার থেকেও বেশী করা হতে পারে. রসকসমস সংস্থায় মনে করে হয় যে, বেশী দিন ধরে মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে মানব জাতির জন্য মহাকাশ যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য করা যেতে পারে – পৃথিবীর কাছের কক্ষ পথ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে.

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পে সহকর্মী দেশ গুলির মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী এই স্টেশন কম করে হলেও ২০২০ সাল অবধি থাকবে. তাই যুক্তিসঙ্গত মনে হয় বাকী সময় এখানে দীর্ঘকালীণ আন্তর্গ্রহ যাত্রার মডেল হিসাবে ব্যবহার করলে, যা একই রকমের পৃথিবীর মাটিতে করা পরীক্ষার সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে. তাদের মধ্যে শেষ – “মঙ্গল- ৫০০” নামের অভিযান শেষ হয়েছে ৪টা নভেম্বর ২০১১ সালে. এটা ৫২০ দিন ধরে ৬ জন ইচ্ছুক লোক মস্কোর রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর চিকিত্সা ও জীব বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বাইরের জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিন কাটিয়ে দেওয়ার পরীক্ষা ছিল. এই মহাকাশ যানের মডেল, যা তৈরী করা হয়েছিল, তাতে লাল গ্রহে যাওয়ার মতো যানের অনুকরণ করা হয়েছিল, অবশ্য সেখানে ভর হীনতা অনুভব করা যায় নি. যদি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মঙ্গল – ৫০০ ধরনের পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব হয়, তবে পরীক্ষা আরও গুরুতর ভাবে করা যেতে পারে. রাশিয়া নিজেদের মহাকাশ স্টেশন বিষয়ে সহকর্মী দেশ গুলিকে এই ধরনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তাব করেছে, এই কথা উল্লেখ করে রসকসমস সংস্থার পাইলট চালিত মহাকাশ অভিযান প্রকল্প গুলির প্রধান আলেক্সেই ক্রাসনভ বলেছেন:

    “আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে এখন এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছি, কি করে এই পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে করা যেতে পারে. কত দিনের জন্য এই পরীক্ষা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি, নানা রকমের বিকল্প রয়েছে. হতে পারে যে, মহাকাশচারীদের একাংশের জন্য এত বেশী দিনের পরীক্ষা নাও করা হতে পারে, যা পৃথিবীতে সকলের জন্যই করা হয়েছিল. এখানে প্রধান লক্ষ্য হল-  সমস্ত ব্যবস্থার স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়া পরীক্ষা করে দেখতে হবে, প্রাথমিক ভাবে জীবন ধারণ ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা”.

    আন্তর্গ্রহ মহাকাশে খোলা হওয়াতে সেখানে খুবই ভয়ঙ্কর এক অসুবিধা রয়েছে – এটা মহা জগত থেকের থেকে আসা বিকীরণ. অবশ্যই পৃথিবীতে পরীক্ষার সময়ে এটা ছিল না, যেমন ছিল না ভর হীনতা. একই সময়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রয়েছে স্বল্প শক্তির তেজস্ক্রিয় বিকীরণ, যা সেখানের মানুষের উপরে প্রভাব বিস্তার করে. সুতরাং সব রকম ক্ষেত্রেই আন্তর্গ্রহ অভিযানের জন্য এর থেকে ভাল পরীক্ষার জায়গা ভেবে বার করা কঠিন. তার মধ্যে চাঁদে যেতে হলেও, তাই আলেক্সেই ক্রাসনভ উল্লেখ করেছেন:

    “আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে ব্যবহার করা উচিত্ শুধু ঐতিহ্য অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্যই ব্যবহার না করে বরং আরও সেই জন্য ব্যবহার করা দরকার, যাতে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়, যা চাঁদের কাছের কক্ষ পথে বা পরে তার থেকে মঙ্গলের দিকে যাওয়ার জন্য লাগতে পারে, এটা খুবই করতে চাওয়া হচ্ছে”.

    সহকর্মী দেশ গুলির উপরেই এই “মঙ্গল – ৫০০” ধরনের পরীক্ষা মহাকাশ স্টেশনে করতে পারা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে, কারণ যদি আমেরিকার লোকেরা রুশ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে থাকে, তবে তারা কি এখন এই মহাকাশ স্টেশনে তা করতে চাইবে? এটা নতুন করে খরচ বাড়াবে, আর বাজেট কমিয়ে দেওয়ার জন্যেই নাসা সংস্থা ইউরোপের সঙ্গেও একত্রিত ভাবে “একজোমার্স” নামের প্রকল্পে যোগ দেয় নি.

    অথবা সহজ প্রশ্ন: কত জন লোককে মঙ্গল গ্রহের বর্তমান পরীক্ষার জন্য রেখে দেওয়া হবে, যদি স্টেশন শুধু ছয় জন লোককেই এক সাথে রাখতে পারে. যদি সেখানে মঙ্গল নিয়ে পরীক্ষায় ব্যস্ত লোকরা বাকিদের সাহায্য করতে যায়, তবে এই পরীক্ষা কতটা পরিস্কার হয়েছে, তা বোঝা যাবে কি করে?

    প্রসঙ্গত, সারা বছর ধরে ভর হীনতা অবস্থায় থাকা একেবারেই ভয়ঙ্কর নয়. পুরনো সিনেমায় দেখা যেতে পারে যে, আগে প্রথম মহাকাশচারীদের মাটিতে নামার পরে কিভাবে পা টলে যেত. কারণ ছিল পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, এখন নানা রকমের ব্যায়ামের বন্দোবস্ত করে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে. পুরো এক বছর মহাকাশে ছিলেন ভ্লাদিমির টিটভ ও মুসা মানারভ, ৪৩৮ দিন ছিলেন একটানা ভালেরি পলিয়াকভ – যা প্রায় “মঙ্গল – ৫০০” পরীক্ষার কাছাকাছি সময়.

    ২০২০ সালের পরে মহাকাশে সারাক্ষণ ধরে মানুষের থাকার ব্যাপার হয়তো বন্ধ হবে. পাইলট চালিত মহাকাশ যাত্রা হয়ত করা হবে বহু দূরের গ্রহের জন্য. তাই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা খুবই দরকার, অন্তত যতদিন সেটা রয়েছে.