চিন পাকিস্তানকে ছটি পারমানবিক রিয়্যাক্টর দেবে. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে চিনের “হুয়ানতশিউ শিবাও” সংবাদপত্র. পাকিস্তানকে চিনের পক্ষ থেকে পারমানবিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়ে সাহায্যের বিষয় এখন শেষের পর্যায়ে পৌঁছেছে, বলা হয়েছে এই সংবাদে. পরিকল্পনা রয়েছে যে, চিনের থেকে দেওয়া রিয়্যাক্টরের শক্তি হবে তিন লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ কিলো ওয়াট বিদ্যুত উত্পাদনের. আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ এই বিষয়ে বিশদ করে লিখছেন.

    পাকিস্তান বিদ্যুত শক্তির প্রয়োজনের চাহিদা বাড়া টের পেয়েছে. তা কম বলে কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিয়মিত বসত বাড়ীতে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে. পাকিস্তানের লোকদের কার্বন যৌগের উত্স কম থাকায় বেশী করে পাকিস্তানের মানুষ এখন পারমানবিক শক্তির উন্নতি করার কথা ভাবছে. গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের পারমানবিক কেন্দ্র “চাশমা” তে দ্বিতীয় পারমানবিক শক্তি রিয়্যাক্টর তিন লক্ষ কিলো ওয়াট শক্তির চালানো শুরু করা হয়েছে. এটা তৈরী হয়েছে বেজিং এর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে ও চিনের যন্ত্র পাতি দিয়েই. কয়েক বছর আগে চিনের বিশেষজ্ঞরা সেখানেই প্রথম রিয়্যাক্টর লাগিয়ে দিয়েছিলেন. কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়. তাই “চাশমা” তে ইসলামাবাদ আরও দুটি সাড়ে ছয় লক্ষ কিলো ওয়াটের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. জায়গা খোঁজা হচ্ছে বাকি চারটি স্থাপনের জন্য.

    পারমানবিক রিয়্যাক্টর রপ্তানী করার ফলে চিনের অবস্থান পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে খুবই দ্রুত উপরে উঠেছে, আর সব মিলিয়ে তাদের অবস্থান পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও মজবুত হয়েছে. আর এখানে দেখা যাচ্ছে ভূ- রাজনৈতিক স্বার্থ, এই কথা মনে করে মস্কোর হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রাচ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান আলেক্সেই মাসলভ বলেছেন:

    “চিন একমাত্র দেশ, যারা পাকিস্তানে বাস্তবে সমস্ত পারমানবিক রিয়্যাক্টর ও তা পরিষেবার দায়িত্ব নিয়েছে. এই প্রসঙ্গে পাকিস্তান নিজেদের অর্থনীতিতে চিনকে সক্রিয় ভাবে ঢুকতে দিয়েছে. তারা দক্ষিণ এশিয়াতে চিনের সবচেয়ে বড় সহকর্মী দেশ হয়েছে ও চিন এখানে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী তৈরী করতে যথেষ্ট মাত্রায় সক্ষম হয়েছে, সেই একই সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করতে উদ্যোগ নিয়েছে তখন. অর্থাত্ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে লড়াইয়ের আরও একটি নতুন পাক শুরু হয়েছে”.

    এর আগে ইসলামাবাদের তরফ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমানবিক ক্ষেত্রে চুক্তি করার সমস্ত প্রচেষ্টা যা গ্রহণ করা হয়েছে, তা বিফল হয়েছে. আমেরিকার প্রতিনিধিরা এই দেশে পারমানবিক প্রকল্প তৈরী করা নিয়ে নিজেদের আপত্তির ব্যাখ্যা এই ভাবে করেছেন যে, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও প্রায়ই জঙ্গীরা মাথা চাড়া দিয়ে থাকে. তারই সঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানের বিজ্ঞানী আবদুল কাদের খানের ইরান, লিবিয়া সহ অন্যান্য দেশে পারমানবিক প্রযুক্তি বিক্রি করে দেওয়ার কথা. পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও যায় সেই যুক্তি যে, তারা এখনও পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করে নি.

    বেজিং এর তরফ থেকে আমেরিকার পত্তির উত্তরে বলা হতে পারত যে, ২০০৬ সালে ভারতের সাথে আমেরিকা পারমানবিক প্রযুক্তি দেওয়ার যে চুক্তি করেছে, সেটাও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা দেশের সঙ্গেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন মনে তো হয় না যে, পাকিস্তানকে পারমানবিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্যের চুক্তি নিয়ে বিতর্ক জুড়বে, তাদের বিনিয়োগ ও ব্যাবসার স্বার্থ এই চুক্তি পার হয়ে বহু দূরে বিস্তৃত.