লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এক বছর আগে. সরকারি ভাবে তা শেষ হয়েছে আট মাস পরে, যখন ২০শে অক্টোবর মুহম্মর গাদ্দাফি তাঁর নিজের শহর সির্ত এর কাছে ফাঁদে পড়ে, ধরা পড়েন ও তার পরে নিহত হয়েছিলেন.

     গাগ শহরের আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত, এখনও শুধুশুধু নতুন প্রশাসনের কাছ থেকে আদায়ের চেষ্টা করছে কর্নেলের মৃত্যুর সমস্ত ব্যাপারটা স্পষ্ট করে জানার. লিবিয়াতে রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই পদশ্যেরব মনে করেন যে, এটা আরও একটি প্রমাণ যে, লিবিয়াতে যুদ্ধ এখনও চলছে, তিনি বলেছেন:

    “সেখানে যারা হেরেছে তাদের উপরে প্রতিশোধ নেওয়া তো চলছেই. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলির তথ্য অনুযায়ী প্রায় সাত হাজার গাদ্দাফি সমর্থক বর্তমানে জেলে রয়েছেন ও তাদের উপরে অত্যাচার করা হচ্ছে. দেশের নতুন সরকার দেশের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় করতে পারছে না. এদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শুধু ত্রিপোলি আর তার থেকে পশ্চিমে ১৩০ কিলোমিটার দূরের জায়গা অবধি. বাকী সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ করেছে প্রজাতিরা. লিবিয়া বর্তমানে মনে করিয়ে দেয় এক বারুদের ব্যারেলের কথা, যাতে সলতে লাগানো রয়েছে. এই সলতে, হয় উপড়ে ফেলা যাবে, নয় তো তা জ্বলে উঠবেই, আর সমস্ত ব্যারেলটাই ফেটে ছড়িয়ে পড়বে চারিদিকে”.

    নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভগেনি সাতানোভস্কি বিশ্বাস করেন: এই ব্যারেল, তার আগেই ফাটবে, সলতে বার করে আনার আগেই, তিনি তাই যোগ করেছেন:

    “লিবিয়া আজ আর এক দেশ নেই. সরকারি ভাবে দাগ দেওয়া সীমান্ত রয়েছে, যার ভেতরে বিভিন্ন প্রজাতি, জঙ্গী, চরমপন্থী ঐস্লামিক দল, যেমন, আল- কায়দা এই সব কাজ করছে, যারা গাদ্দাফির সময়ে এখানে ছিল না. তারা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, অর্থাত্ একটা গড়িয়ে চলা গৃহযুদ্ধই চলছে. লিবিয়া ধীরে হলেও নানা ভাগে আলাদা হয়ে যাচ্ছে, যা সোমালির মতো কিছু মনে পড়িয়ে দিচ্ছে. লিবিয়ার পশ্চিমে টিউনিশিয়া ও আলজিরিয়ার সীমান্ত বরাবর বারবার প্রজাতি ও আরব দের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে. প্রদেশ গুলিতে সম্পূর্ণ রকমের মাত্সান্যায় শুরু হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘণ হচ্ছে, খুবই স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে – সেই সব প্রজাতি গুলির মধ্যে খুনের বদলা খুন, যারা গত বছরে গাদ্দাফিকে সমর্থন করেছিল. মানবিক ত্রাণ সামগ্রী একেবারেই নৃশংস ভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে”.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়াতে বিশেষ অপারেশনের জন্য ২ শো কোটি ডলার খরচা করেছিল. ফ্রান্স – ৩০ কোটি ইউরো. সৌদি আরব ও কাতার গাদ্দাফি পতনের জন্য খরচা করেছিল – বিরাট করে লিবিয়া বিরোধী ক্যাম্পেনে, ভাড়াটে সেনা পাঠানোয়, তাদের অস্ত্র সাহায্য করে. পশ্চিম যে বেশ কিছু আরব দেশকে নিজেদের পক্ষে আনতে পেরেছে – এটাই লিবিয়ার ঘটনার থেকে পাওয়া শিক্ষা. আরব বিশ্বে একটা বিভেদ হয়েছে, এই কথা মনে করে “আল- মুতাউয়াস্সেত” নামের জার্নালের সম্পাদক লেবাননের নাগরিক হুসেইন নাসিরুল্লা বলেছেন”

    “আরব বিশ্বকে বিভাজিত করার রাজনীতি লিবিয়ার ক্যাম্পেনে শুরু হয় নি, তা হয়েছে অনেক আগে লেবাননের বিরুদ্ধে গিয়ে. পশ্চিম লেবানন ভাগ করার জন্য সমস্ত শক্তি ব্যয় করেও হেরে গিয়েছিল. তার পর থেকেই তারা নিজেদের ধান্ধায় ফিরেছে, তবে এবারে লিবিয়ার বিরুদ্ধে. দুঃখের কথা হল, এক সারি আরব দেশ পশ্চিমের স্বার্থকেই সেবা করছে. আরব লিগের দেশ গুলি সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ সমর্থন করছে, আরবরা নিজেরাই বুঝতে পারছে না যে তারা কি করছে”.

0    সুতরাং এক বছর আগে লিবিয়াতে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ. আজ, এক বছর পরে, লিবিয়ার উদাহরণ প্রমাণ করে দিয়েছে – “আরব বসন্ত” খুবই কঠিন “আরব শীতে” পরিণত হয়েছে. আর কবে তা শেষ হবে – কেউই জানে না.