থাইল্যান্ডে সন্ত্রাসবাদী হানার লক্ষ্য ছিল এই দেশে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ও তার চক্র তৈরী করেছে ইরান. এই বিষয়ে ইজরায়েলের সরকার একেবারেই নিশ্চিত. তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে. তার ওপরে আবার ইরানের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি রহমান মেহমানপারাস্ত ইঙ্গিত করেছেন যে, এই বিষয়ে ইজরায়েল নিজেই জড়িত.

    মঙ্গলবারে ব্যাঙ্ককে বিস্ফোরণ গুলি হয়েছিল. থাইল্যান্ডের সরকার যা জোর দিয়ে বলেছে, তা হল স্থানীয় পুলিশ একজন বিস্ফোরণ কারীকে ধরতে পরেছে, আর সে ইরানের নাগরিক. এই কারণেই ইজরায়েল ধারণা করেছে যে, আক্রমণের লক্ষ্য ছিল তাদের দেশের নাগরিকরা. কিন্তু বিস্ফোরিত বোমা ইজরায়েলের লোকেদের দিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় নি. একটি বোমা ফেটেছে, এক ফ্ল্যাটে জোড়া লাগানোর সময়ে, আর অন্য দুটি সন্ত্রাসবাদীরা পুলিশের হাত থেকে পালাতে গিয়ে ব্যবহার করেছিল. তা স্বত্ত্বেও থাইল্যান্ডে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইত্সহাক শোহাম ধারণা করেছেন যে, এই সন্ত্রাসবাদী কাজ তাঁকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছিল.

    এই সব ঘটনা জড়িয়ে যে শোরগোল উঠেছে, তা আরও বেশী হয়েছে ভারতের দিল্লী ও জর্জ্জিয়ার তবিলিসি শহরে ইজরায়েলের দূতাবাসের পাশে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে. প্রথম ঘটনায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে যে গাড়ী চড়েন তাতে, যদিও তখন কূটনীতিবিদ সেখানে ছিলেন না. আর দ্বিতীয় ঘটনায় একটি গ্রেনেড বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এক জর্জ্জিয়ার ড্রাইভারের গাড়ীতে, যে ইজরায়েলের দূতাবাসে কাজ করে, সময় মতো বোমা লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছিল. এই ঘটনা গুলিতেও ইজরায়েল ইরানকেই দায়ী করেছে, আর ইরান নিজেদের দিক থেকে ইজরায়েলের সরকারকে এই সব কারবারের আয়োজক বলে উল্লেখ করেছে.

    প্রসঙ্গতঃ স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে কারও পক্ষ নিতে চাইছেন না. সম্পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়, আর যাকে খুশী এই বিষয়ে সন্দেহ করা সম্ভব, - এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কর্মী তাতিয়ানা নোসেঙ্কো বলেছেন:

    “এই বিস্ফোরণ সংক্রান্ত পরিস্থিতি ইজরায়েলের পক্ষেও নেওয়া যায়. অংশতঃ, বিগত কয়েক মাস ধরে ইরানের কয়েকজন পারমানবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুও ইজরায়েলের গুপ্তচর বাহিনীর জন্য হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে. কিন্তু আবার মনে করা যেতে পারে যে, ইরান নিজের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে ও ইজরায়েলের নাগরিক ও তাদের জায়গার উপরে আক্রমণ করছে”.

0    সরকারি ভাবে ইরান ও ইজরায়েল দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইছে. আর জর্জ্জিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন তদন্ত করে জানতে, কার উদ্যোগে এই সব বিস্ফোরণ হয়েছে.