এই বারের রাশিয়ার নির্বাচনের প্রচারে বিশেষত্ব হয়েছে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাবে ইন্টারনেট সক্রিয়তা ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা ও “রাস্তায় প্রতিবাদের রসদের” ব্যবহার. এই বিষয় “কমেরসান্ত” প্রকাশনা ভবনের থেকে প্রচারিত সাপ্তাহিক “ক্ষমতা(ভ্লাস্ত)” পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়েছে. অবশ্যই বিগত বছর গুলিতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকেরা রাস্তায় মিছিল করেছে. কিন্তু এই সব কাজ কর্মের লক্ষ্য বিশেষ করে ছিল শুধু রাজনৈতিক ভাবে নিজেদের প্রচার, একটি সমাবেশ দিয়ে অন্য সমাবেশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়. এই পত্রিকার মতে রাশিয়াতে গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের পরেই সমস্ত কিছু পাল্টে গিয়েছে, যখন রাস্তায় নেমেছেন তথাকথিত “বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা”. সরকার পক্ষের লোকেরা তাদেরকে সক্রিয় ভাবে উত্তর দিতে চেয়েছে. আর তারপর থেকেই সরকার ও বিরোধী পক্ষের লোকেরা এক পরস্পরের অনুপস্থিতির মধ্যে প্রতিযোগিতায় নেমেছে – “যেন দেখো কার লোক বেশী?” তাছাড়া সাপ্তাহিক পত্রিকায় লেখা হয়েছে সত্যিকারের লড়াই চলছে ইন্টারনেটে. সেখানে হ্যাকারদের অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী সাইটে আক্রমণই শুধু নয়, সেখানে ইন্টারনেটে স্ক্যান্ডাল, রাজনৈতিক নেতাদের একে অপরকে লেখা চিঠি পত্র, নানা রকমের কুকর্মের প্রমাণ আর তার সঙ্গে নানা রকমের ছবি ও ভিডিও, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রকল্পের প্রকাশিত পাতা এবারে ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে বলে “ক্ষমতা” পত্রিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন.

    তারই মধ্যে “এক্সপার্ট” পত্রিকার মতে প্রাক্ নির্বাচনী পরিস্থিতি এখন কোন রকমের ষড়যন্ত্র করার উপায়ই রাখে নি. যে পট ভূমিকায় প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের কাজ চলছে, তা খুবই কম প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচক জনতা ও প্রার্থীদের মধ্যে আগে থেকে তৈরী থাকা সম্পর্কে. আমাদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি, যখন পুতিনের রেটিং আস্তে হলেও বাড়ছে, আর বাকিদের কোন রকম প্রায় পরিবর্তনই হচ্ছে না. সামাজিক মতামত তহবিলের সভাপতি আলেকজান্ডার অসলোন মনে করেছেন যে, ভোটারদের এখন একটাই প্রশ্ন: “যদি পুতিন না হন, তবে কে?” আর উত্তর এই ক্ষেত্রে অবধারিত. প্রসঙ্গতঃ, সামাজিক মতামত মূল্যায়ন কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর ভালেরি ফিওদরভ উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধী পক্ষের প্রার্থীদের পরবর্তী ফলাফল বর্তমানের চেয়ে বেশীই হবে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক সহানুভুতির কথা বলতে চান না.