আফগানিস্তানে তালিবান আন্দোলনের পক্ষ থেকে পাঠানো পাঁচ জন আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী ধরা পড়েছে দেশের নিরাপত্তা সংস্থার হাতে. তাদের মধ্যে দুটি কিশোর, এক জনের বয়স তেরো, অন্য জনের বয়স ১২. দুটি ছেলেই তালিবানের অধীনে পাকিস্তানের এক মাদ্রাসায় কম্যান্ডো ট্রেনিং পেয়েছে. বিশদ বিবরণ নিয়ে উপস্থিত আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    আল- কায়দা সন্ত্রাস জালের নেতা ওসামা বেন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে ২০১১ সালের মে মাসে, মরার আগে সে তার ছেলে ও নাতিদের সকলের জন্য বলে গিয়েছে, জেহাদ অস্বীকার করে উচ্চ শিক্ষা পেয়ে শান্তির জীবন কাটাতে. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে সানডে টাইমস পত্রিকায় বেন লাদেনের শ্যালক জাকারিয়া আস- সাদাখ. কিন্তু একেবারেই অন্য ভবিষ্যত সন্ত্রাসবাদীরা তৈরী করছে গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের জন্য, তাদের অল্পবয়সী আত্মঘাতী দের দলে টেনে এনে.

    আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানে এই রকমের অল্পবয়সী এই কিশোরদের ধরা পড়া নতুন ঘটনা নয়. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দেশের পাক – আফগান সীমান্ত অঞ্চলে অপারেশন চলার সময়ে ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সের কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে ধরা পড়েছিল, যাদের তালিবরা আত্মঘাতী হওয়ার ট্রেনিং দিয়েছিল পাকিস্তানের জমিতে বসেই.

    সন্ত্রাসবাদীরা সাধারণত শক্তি ও লোক ঠকানো কায়দা করে বাচ্চাদের নিজেদের দলে আনে. গত বছরের গরমে তালিবান জঙ্গীরা আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের এক সামরিক চৌকি আক্রমণের সময়ে একটি বাচ্চা মেয়েকেও আত্মঘাতী করে পাঠিয়েছিল. স্বস্তির কথা হল, মেয়েটি নিজের গা থেকে বোমার বেল্ট খুলে ফেলে দিয়ে চিত্কার করতে শুরু করছিল এই চৌকীর কাছে এসে. স্থানীয় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই মেয়েটিকে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নিয়ে নেয়. পরে জানা গিয়েছিল, ক্লাস থ্রির ছাত্রী সোহানু জাভেদকে তার আগের দিন পেশোয়ার শহরে নিজের বাড়ী থেকেই তুলে নিয়ে গিয়েছিল জঙ্গীরা, তারপরে তার গায়ে জোর করে বেল্ট পরিয়ে কুকর্ম করতে পাঠিয়েছিল.

    এই ধরনের কাজ কর্মই সাধারন মানুষের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী সম্বন্ধে রাগ ও বিরোধ বাড়িয়ে দিয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“যত দিন যাচ্ছে, তত বেশী করেই আফগানিস্তান ভাই ভাইকে মারার যুদ্ধে বা সকলের সকলকে মারার যুদ্ধের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে. যুদ্ধের কাজ কারবারে এমন সব লোককে টেনে আনা হচ্ছে, যারা স্কুলে পড়ার কথা, সারা গায়ে বোমা বেঁধে শত্রু পক্ষের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য নয়. বাস্তবে শিশুদের আত্মঘাতী করে তোলার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে যুদ্ধ ও বিদেশী ফৌজের বিরুদ্ধে লড়াই আরও অনেকদিন চলবে”.

তালিবরা আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম এলাকায় এখনও প্রভাব বিস্তার করেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের অনেক জায়গা.

সন্ত্রাসবাদীদের জন্য ভাল হল দারিদ্র ও নিঃস্বতা, বেকারত্ব, অশিক্ষা ও স্থানীয় জনতার পরিস্থিতি অনুন্নত থাকলেই. ভয় দেখিয়ে ও আশ্বাস দিয়ে এখনও তালিবরা দলে লোক টানতে পারছে. কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল ধর্মের নামে দেশের ভবিষ্যত জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার লোকদের নষ্ট করে দেওয়া.