ইউরোপের লোকেরা বৃহত্ কর্পোরেশনের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব হতে দেবে না. বিগত ছুটির দিন গুলিতে দুশোটি ইউরোপের শহরের লোকেরা ঠাণ্ডা তোয়াক্কা না করে রাস্তায় নেমেছিলেন, শহর গুলি গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী, হল্যান্ড, পোল্যান্ড, বালগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া ও লিথুয়ানিয়া দেশের. তাঁদের অসন্তোষের কারণ হয়েছে আন্তর্জাতিক নকল দ্রব্যের বাণিজ্যের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য সমঝোতা, অথবা ACTA (Anti-Counterfeiting Trade Agreement).

    ২০০৬ সাল থেকে এই দলিল তৈরী করা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ রুদ্ধ দ্বার অবস্থায় এই সমঝোতা পত্র তৈরী করেছিল, যা টোকিও ও ওয়াশিংটনের পরে জানুয়ারী মাসে ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং সঙ্ঘের ২২টি দেশের প্রশাসন স্বাক্ষর করেছে. এবারে এই সব দেশের পার্লামেন্ট দের এই আইন গ্রহণ করতে হবে.

    কিন্তু প্রশাসনগুলি আচমকা খুবই গুরুতর প্রতিরোধের সামনে পড়েছেন. এই দলিলের অনেকগুলি বিধি নাগরিকদের আশঙ্কার কারণ হয়েছে, যে, এবারে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা খুবই গুরুতর ভাবে খর্ব করা হবে. আক্টা আইনে কপিরাইট লঙ্ঘণ করা হলে বড় অর্থদণ্ড ও হাজতবাস শাস্তি হতে পারে. তা বাজারের অংশীদার, যেমন ইন্টারনেট প্রভাইডার ইত্যাদি লোকদের বাধ্য করবে অপরাধী খুঁজে বার করতে. তাছাড়া, এই চুক্তি শুধু ভার্চুয়াল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত হচ্ছে না, বরং যে কোন ধরনের জিনিসের ক্ষেত্রেই হচ্ছে, অংশতঃ স্বত্ত্বাধিকার আছে এমন ওষুধের ক্ষেত্রেও. দেশের সীমান্তের শুল্ক কর্মীরা অধিকার পাবে লাগেজ দেখার, যাতে বেআইনি ভাবে কপি করা অথবা এমনকি আইন সঙ্গত ভাবে কেনা  কিন্তু নকল দ্রব্যের জন্য খোঁজ করার, এই প্রসঙ্গ তুলে হার্ডওয়্যার (ঝিলেজ) জার্নালের প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেই মিখাইল্যুক বলেছেন

    “একটা বিষয় হল যে, এটা যদি ইন্টারনেটে ঘটে, যখন আমেরিকার কোন সার্ভার থেকে কিছু একটা তুরস্কের সার্ভারে চলে আসে. একেবারেই অন্য ব্যাপার হল, যখন তথ্য “যাচ্ছে”, যেমন আপনার নোট বুকে. যদি প্রথম ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ও তা যথেষ্ট স্বচ্ছ, তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যখন এটা কোন তুরস্ক থেকে আমেরিকা যাওয়া প্যাসেঞ্জারের সঙ্গের নোট বুকে খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হ’তেই পারে”.

    আক্টা চুক্তি এর মধ্যেই সোপা ও পিপা চুক্তির ছোট ভাই আখ্যা পেয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণ প্রতিবাদের কারণ হয়েছে. এই সবই করা হয়েছে কপিরাইট হোল্ডারের স্বার্থ রক্ষার জন্য, তার জন্য আবার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে এবং ইন্টারনেট ক্ষেত্রে রূঢ় ভাবে ঢুকে পড়ে, মানবাধিকার লঙ্ঘণ করে. কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে বাধা তৈরী করা – প্রথম থেকেই বাজে প্রচেষ্টা, এই কথা মনে করে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মিখাইল্যুক বলেছেন:

    “আসলে, আমরা সেই ঘোড়ার লবির সঙ্গেই ধাক্কা খেয়েছি, যা বিংশ শতকের শুরুতে যখন ঘোড়ার উত্পাদনের কারখানার মালিকেরা চেষ্টা করেছিল গাড়ী নিষেধ করার, কারণ গাড়ী তাদের ব্যবসা নষ্ট করে দিয়েছিল”.

    সব মিলিয়ে মনে হয়েছে আক্টা আইন জারী করা খুব সহজ হবে না. সামাজিক প্রতিবাদ এই সমঝোতা তার বর্তমানের রূপে দেশের পার্লামেন্ট গুলি দিয়ে পাশ হতে দেবে না, যেমন, সোপা ও পিপা আইনের ক্ষেত্রেও হচ্ছে, তাই তা ফেলে রাখা হবে আপাতত খড়ের গাদার তলাতেই. প্রসঙ্গতঃ, বেশীর ভাগ লোক, যাঁরা এই প্রসঙ্গে প্রতিবাদ করেছেন, তাঁরা কপিরাইট ব্যাপারে সঙ্গত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নন, কিন্তু তাঁরা দাবী করেছেন যাতে, এই ধরনের দলিল নিয়ে আলোচনা খোলাখুলি ভাবে করা হয় ও এক জনের ক্ষতি করে অন্যের অতিরিক্ত লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে করা না হয়.