রাশিয়া আরব দেশ গুলির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে এক সাথে সিরিয়াতে শান্তিরক্ষক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে. মস্কো এমনকি রাশিয়ার সেনা বাহিনীর সেখানে অংশ গ্রহণের সম্ভাবনাকেও বাদ দেয় নি, রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে. আর এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের চার্টার অনুযায়ী শান্তিরক্ষক বাহিনী পাঠানো শুধু যে দেশে বাহিনী পৌঁছনোর প্রয়োজন, সেই দেশের অনুরোধেই করা হয়ে থাকে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া ও আরব লিগের সিরিয়ার লোকেদের সমর্থন করার সম্মিলিত লক্ষ্য রয়েছে ও রক্তপাত বন্ধ করতে চায়. এই বিষয়ে মস্কো আসা করেছে লিগের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মিশন সিরিয়াতে পাঠানোর বিষয়ে আইন সঙ্গত দিক গুলি সম্বন্ধে স্পষ্ট করে জানতে. সের্গেই লাভরভবলেছেন:

“আমরা এই উদ্যোগ বিচার করে দেখছি ও আশা করছি, যে আমাদের আরব লিগের বন্ধুরা আমাদের ব্যাখ্যা দেবেন. মিশন পাঠাতে হলে যারা আহ্বান করছেন, তাদের সহমতের প্রয়োজন রয়েছে. শান্তিরক্ষক বাহিনী, অথবা, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভাষায় যাকে বলা হয় শান্তি বজায় রাখার জন্য মিশন, তখনই কাজ করতে বাধ্য, যখন গোলা গুলি বর্ষণ নিয়ে কোন সমঝোতা হয়ে থাকে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন মস্কোর তরফ থেকে এই প্রস্তাবকে আরব লিগের সঙ্গে খুঁটিয়ে দেখার বিষয়ে তৈরী থাকার কথা সমর্থন করেছেন. একই সঙ্গে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর লিওনিদ ফিতুনিমনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিরক্ষক বাহিনী তৈরী করার বিষয়ে সেই সমস্ত পক্ষের কোন রকমের পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে না, যারা তা তৈরী করছে, তাদের দিক থেকে, তাই তিনি বলেছেন:

“সব থেকে মুখ্য হল, যে ব্যাপারটা এমনকি ম্যান্ডেট নিয়ে নয়, যা শান্তিরক্ষকদের বিশেষ করে দেওয়া হয়, বরং যা তাদের করার অধিকার নেই, - সেই বিষয়ে যে, তাদের সিদ্ধান্ত বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে কতটা মেনে নেওয়া হবে. আমাদের পূর্ববর্তী আরব লিগের মিশনের বিষয়টা দেখা হয়েছে. তাদের সিদ্ধান্ত আরব বিশ্ব ও পশ্চিমের গোঁড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত লোকেরা মেনে নেয় নি – সেই সমস্ত লোকরাই সিরিয়াতে গাঁজিয়ে তোলার প্রক্রিয়া উদ্বুদ্ধ করছে. ফলে তাদের সেই মিশনের কাজকর্ম একেবারেই মূল্যহীণ হয়েছে”.

দামাস্কাসের সশস্ত্র বিরোধীদের সঙ্গে লড়াইয়ের একটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হল – এখানে তাদের দলে চরমপন্থী ধর্মীয় সংস্থার অংশ নেওয়া. আর, মনে হয় যে, “আল- কায়দার” নেতা আইমান আজ – জওয়াহিরি হঠাত্ করেই বাশার আসাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধ সুন্নী মুসলমানদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আহ্বান করে নি. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“কোন গোপন তথ্য নয় যে, সিরিয়ার বিরোধী প্রতিপক্ষের মধ্যে চরমপন্থী ঐস্লামিক জঙ্গীরা রয়েছে, তাদের মধ্যে “আল- কায়দাও” রয়েছে. এই সমস্ত শক্তির ক্ষমতায় আরোহণের সম্ভাবনা খুবই বিপজ্জনক, যা এই অঞ্চলে পরিস্থিতিকে খুবই গুরুতর রকমের ভারসাম্য হীন করে তুলতে পারে. পশ্চিমের দেশ গুলির পক্ষ থেকে চরমপন্থী সিরিয়ার বিরোধী প্রতিপক্ষকে সমর্থন – এটা খুবই বড় ভুল. এটা সেই ধরনেরই ব্যুমেরাং, যা পশ্চিম আগেও আফগানিস্তানে ছুঁড়ে পরে পস্তেছে”.

আজ জানা রয়েছে কম করে হলেও সিরিয়াতে জঙ্গী অনুপ্রবেশের দুটো রাস্তা. তার একটা হল ইরাক সরকারের খবর অনুযায়ী উত্তর ইরাক. সেখান দিয়েই “আল- কায়দার” সঙ্গে যুক্ত জঙ্গীরা ঢুকছে, আর আসাদের বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে. ত্রিপোলির এখনকার সামরিক কম্যান্ডার বেলহাজের নিয়ন্ত্রিত জঙ্গীরাও সিরিয়া ভিতরে ঢুকে পড়েছে. এর আগে লিবিয়ার “আল- কায়দার” নেতা ছিল এই কম্যান্ডার. পশ্চিমে ও পারস্য উপসাগরের দেশ গুলিতে এই বিষয়ে না জানতে পারে না. কিন্তু, মনে হয়েছে যে তারা সিরিয়াতে “আল- কায়দা” দলের কাজ কর্মের বিরুদ্ধে কোন অসুবিধা দেখছে না.