পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়ে ভারত সমস্ত বাধা নিষেধ তুলে দিতে চাইছে. এই বিষয়ে সোমবারে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মা ঘোষণা করেছেন. তিনি পাকিস্তানে ভারতের ব্যাবসায়ী মহলের বহু সংখ্যক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করবেন. আনন্দ শর্মা লাহোর শহরের ভারতীয় প্রদর্শনীতেও অংশ নেবেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বাণিজ্যের উন্নতির মধ্য দিয়ে – দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি. এই স্লোগান দিয়ে ভারতের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর শুরু হয়েছে. এটা ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রীর ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হানার পরে প্রথম সফর. গত বছরের এপ্রিল মাসে ভারতে এসেছিল পাকিস্তানের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল.

    গত বছরের মার্চ মাসে ভারতে মোহালি ক্রিকেট খেলার মাঠে বিশ্ব কাপের সেমি ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তানের দলের খেলার সময়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্য করা সমঝোতা অনুযায়ী এই কাজ হচ্ছে. তখন প্রধানমন্ত্রীরা চুক্তি করেছিলেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে, যা মুম্বাই হামলার পরে নষ্ট হয়েছিল. বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি করার জন্য. গত বছরে পাকিস্তান রাজী হয়েছে ভারতকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে. ভারত এই ব্যবস্থা করেছিল সেই ১৯৯৬ সালেই. গত বছরের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত্কারের সময়ে দিল্লীতে দুই পক্ষই বাণিজ্য মুক্ত বা অবাধ করার কথা বলেছিল. এই বারে তাদের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে. দুই পক্ষের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ভারত – পাকিস্তান সীমান্তের ওয়াগা – আত্তারি নিয়ন্ত্রণ চৌকির কাজ আরও দ্রুত করার. আশা করা হয়েছে বর্তমানের বৈঠকে কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন হবে. তাদের একটি – শুল্ক সংক্রান্ত দলিল সহজ করা, জিনিসের সার্টিফিকেট করার ব্যবস্থা ও সীমান্ত দিয়ে তা ঢোকার বন্দোবস্ত করা. এছাড়া দেখা হচ্ছে ভিসা ব্যবস্থা সহজের বিষয়ও. দিল্লী ও ইসলামাবাদে যেমন আশা করা হয়েছে যে, এই ধরনের ব্যবস্থার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বর্তমানের ২৬০ কোটি ডলার থেকে ছয় শো কোটি ডলারের সম পরিমান অর্থ মূল্যের হবে ২০১৪ সালেই.

    বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশেষ স্থান নিয়েছে – এই কথা মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ, রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    “রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পাকিস্তান বর্তমানে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই. তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা কমা পাকিস্তানের জন্যই খুব প্রয়োজন এখন. আর ভারতের সম্পর্কে যা বলা যায়, তা হল, এটা অনেক বড় ও দ্রুত উন্নতিশীল দেশ – তাই দিল্লীরও এখন নিজের স্বার্থেই পাকিস্তানের দিকে এগিয়ে যাওয়া দরকার. কারণ পাকিস্তানে পরিস্থিতি খারাপ হলে সমস্ত এলাকাতেই অবস্থা খারাপ হতে পারে”.

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের অভাব আগের মতই খুবই বেশী. কিন্তু তার সঙ্গে উন্নতিও স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. সেই সমস্ত শক্তির কাজ কর্ম থাকা স্বত্ত্বেও, যারা চাইছিল না দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক, বর্তমানে দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে, কাশ্মীরে বিরোধ কমেছে, বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে. এটা পাকিস্তানকে বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই খারাপ হওয়া ও দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বেহাল অবস্থার মধ্যেও নিজেদের উপরে আস্থা অর্জনে সুবিধা করে দিয়েছে.