সিরিয়া আরব লিগের উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নীল শিরস্ত্রাণ ধারী সৈন্যদের শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্য নিজেদের দেশে অনুপ্রবেশ স্বীকার করেছে. রবিবারে এই সংগঠনের দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে কায়রো শহরে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে.

    লিগ সিরিয়া থেকে নিজেদের পর্যবেক্ষক দল ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে. এবারে তারা আহ্বান করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে একসাথে সিরিয়াতে শান্তি রক্ষা বাহিনী পাঠানোর. মন্ত্রীরা তাঁদের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রসঙ্ঘে সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে সাধারন সভার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্তের প্রকল্প তৈরী করতে. লিগ একই সঙ্গে আহ্বান করেছে দামাস্কাসের সঙ্গে যে কোন ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করতে ও নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার.

    আলজিরিয়া ও লেবানন সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নীল শিরস্ত্রাণ ধারী পাঠানোর প্রস্তাব সমর্থন করে নি. দামাস্কাস লিগের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেছে. তারা বলেছে যে, এর পিছনে রয়েছে কাতার ও সৌদি আরব. তাদের সঙ্গে দামাস্কাসের বিগত সময়ে সম্পর্ক খুবই উত্তেজক. সিরিয়া পক্ষ থেকে লিগের স্থায়ী প্রতিনিধি ইউসেফ আহমেদ বলেছেন যে, এই দুই দেশ সমগ্র আরব কাজকর্ম কুক্ষিগত করে ফেলেছে, আরব দেশ গুলির ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

    পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কারে প্রথমবার সিরিয়া বিরোধী জাতীয় সভার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল. তাদের প্রতিনিধি আবদেল বাসিগ সাঈদা সাংবাদিকদের বলেছেন

    আমরা শহর গুলি থেকে ট্যাঙ্ক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবী করছি ও সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সেনাদেরও প্রত্যাহার করতে বলছি. তাছাড়া আমরা সিরিয়ার ভিতরে মানবাধিকার সংস্থা গুলির জন্য প্রবেশের আবেদনও করেছি.

    আরব লিগ ঘোষণা করেছে যে, বিরোধী পক্ষের সঙ্গে বেশী করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী করতে তারা তৈরী ও সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে চায়. আরব লিগের এই বৈঠকের পরে হোয়াইট হাউসের কর্মীদের প্রধান জেকব ল্যু আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি আসাদের প্রশাসনের পতন হতে বাধ্য, তাদের পতন – শুধু সময়ের প্রশ্ন. এই ধারণার সঙ্গে যারা একমত, সেই সমস্তদের সঙ্গে বিতর্কে বিখ্যাত আরব বিশেষজ্ঞ, রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৯৯৬ – ১৯৯৮ সালের প্রধান ইভগেনি প্রিমাকোভ রবিবারে এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন:

    “আমাদের পশ্চিমের দেশ গুলির সহকর্মীরা, তাদের অনেকেই, বুঝে উঠতে পারছেন না, যে, আসাদের পদত্যাগের পরে এই দেশে একেবারেই কোন গণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসবে না. চলুন, এই বিষয় গুলিকে তাদের নাম ধরেই উল্লেখ করা যাক”.

    এরই মধ্যে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিশেষ গোষ্ঠী হোমস ও হামা শহরে ঘাঁটি গেড়ে বসা সশস্ত্র জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াই আবার চালু করেছে. প্রশাসন এই হিংসার দায়ভার সম্পূর্ণ ভাবে সন্ত্রাসবাদী জঙ্গীদের উপরে দিয়েছে, যারা সামরিক বাহিনীর চৌকির উপরে হামলা করছে, সরকারি ভবন ও বসত বাড়ীর উপরে আক্রমণ করছে. বহু জায়গায় জঙ্গীরা তাদের আগে থেকে মাইন পাতা বাড়ী উড়িয়ে দিয়েছে. নতুন উত্তেজনা শুরু হওয়া স্বত্ত্বেও, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিরিয়ার ভিতরেই আলোচনার প্রস্তাব এখনও বাস্তব রয়েছে, এই বিশ্বাস নিয়ে ইভগেনি প্রিমাকোভ বলেছেন:

    “আমি মনে করি যে, এটা একমাত্র পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের পথ. অন্য কি ভাবে হতে পারে? তা না হলে এক পক্ষ অন্য পক্ষের রক্তে স্নান করবে. সিরিয়াতে খুবই গুরুতর আভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে কথা বলতে হবে. আর এর থেকে বের হওয়ার পথ একটাই, দুই পক্ষের মধ্যে সহমতে পৌঁছনো”.

    সোমবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা সিরিয়ার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা সভা করবে. সিরিয়া সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে. ৪ঠা ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিন ও রাশিয়ার তরফ থেকে ভেটো দেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার তফাত খুবই কম. এবারে চেষ্টা করা হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার থেকে এটা পাশ করিয়ে নেওয়ার আর বাশার আসাদকে পদত্যাগের দাবী করা. দলিলে, এটা সত্য যে, বিরোধের দুই পক্ষকেই হিংসা বন্ধ করতে বলা হয়েছে. কিন্তু তারই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান অভিযোগ সরকারি ভাবে দামাস্কাসের উপরেই করা হয়েছে. মস্কো এর মধ্যেই কোন রকমের অন্য অর্থ করার সুযোগ না দিয়েই ঘোষণা করেছে যে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ভারসাম্য বিহীণ এই আলোচনা সমর্থন করবে না.

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার উপরে ভেটো প্রয়োগের অধিকার কাজ করে না, আর এই সিদ্ধান্তও কোন বাধ্যতা মূলক বিষয় নয়. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মধ্য দিয়ে সিরিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সিরিয়ার প্রশাসনের উপরে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির জন্যই করা হচ্ছে.