আগামী দশ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ রাশিয়ার জন্য একটি অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বাজেট ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন নিজের পরবর্তী প্রবন্ধে. এই সোমবার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে “কমসোমোলস্কায়া গাজেতা” নামক সংবাদ পত্রে ও তা সামাজিক রাজনীতি প্রসঙ্গে নিবেদিত.

    রাশিয়া এক সামাজিক রাষ্ট্র – এই অনুমোদন দিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর প্রবন্ধের সূত্রপাত করেছেন. প্রামাণ্য হিসাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিগত বছর গুলিতে দেশের সমস্ত বাজেট ব্যয়ের অর্ধেকের বেশী অর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে করা হয়েছে. রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন এর সঙ্গে সহমত হয়েও উল্লেখ করেছেন যে, তাও এটা যথেষ্ট নয়, তাই বলেছেন:

    “সামাজিক রাষ্ট্র গঠন সম্পূর্ণ বলার সঙ্গে একমত হওয়া খুবই প্রলোভনের, কিন্তু তা খুবই জটিল. এই কথা ঠিক যে, রাষ্ট্র নিয়মিত ভাবে বাজেট অধীন লোকেদের বেতন ও অবসরপ্রাপ্ত দের পেনশন বাড়িয়ে চলেছে. আর এটাও ঠিক যে, রাষ্ট্র বিশেষ ধরনের সামাজিক ব্যবস্থাও তৈরী করেছে. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও সামাজিক ভাবে স্তর বিভেদ আমাদের দেশে খুবই বেশী”.

    প্রসঙ্গতঃ ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই এটা বোঝেন ও আপাতত যা করা সম্ভব হয়েছে, সেখানেই থেমে থাকতে চান না. নিজের লক্ষ্য হিসাবে তিনি দেখেন এক সামাজিক ভাবে ন্যায় সঙ্গত সমাজকেই. এই প্রসঙ্গে তিনি পরবর্তী কালেও বিভিন্ন ছাড় সংক্রান্ত ভর্তুকি ও পেনশন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গেই বাড়াতে চান, আর এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিজে পেনশনের বয়স বাড়ানোর বিরুদ্ধে. শিশু সহ পরিবার গুলিকেও সহায়তা বাড়ানো হবে. মাতৃ ধন ব্যবস্থা পত্তন – যার ফলে পরিবারে দ্বিতীয় শিশুর আবির্ভাব হলে রাষ্ট্র তেরো হাজার ডলারের সম পরিমান অর্থ দিচ্ছে, এখনই ভাল ফল দিয়েছে. এখন প্রধানমন্ত্রী আরও একটি পদক্ষেপ বেশী করতে চান দেশে শিশু জন্মের বৃদ্ধির জন্য. তৃতীয় ও পরবর্তী শিশুর জন্ম হলে পরিবার প্রতি মাসে ৭০০০ রুবল (২৩০ ডলার)পাবে, অর্থাত্ শিশুর জীবনের প্রথম তিন মাস প্রশাসন তার বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেবে.

    কিন্তু শুধু অর্থ দিয়েই পরিবারকে সাহায্য করলে দেশের জনসংখ্যার রাজনীতির জন্য যথেষ্ট নয়. তাই প্রত্যেক শিশুকেই নার্সারি স্কুলে জায়গা দিতে হবে. আর তার পর থেকে সকলের জন্যই সমান সুযোগ থাকবে উন্নত মানের বিদ্যালয় শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা বা পেশাগত প্রশিক্ষণ পাওয়ার.

    পুতিনের কথামতো, আগামী দশকে তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগই পাবে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার. স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংশোধন, যা বিগত বছর গুলিতে করা হয়েছে, আশানুরূপ ফল এনে দিতে পারে নি. এর কারণ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন বাজেট থেকে বেতন পাওয়া পেশাদার লোকেদের স্বল্প বেতন.

    ভ্লাদিমির পুতিনের মতে শ্রমিক শ্রেনীর সামাজিক স্বাস্থ্যের বিষয়ও কম অর্থবহ নয়. তিনি মনে করেন যে, রাশিয়াতে বনেদী শ্রমিক শ্রেনীর পুনর্সৃষ্টি করা দরকার., যাতে ২০২০ সাল নাগাদ দেশের কম করে হলেও একের তৃতীয়াংশ পেশাদার শ্রমিক হওয়া দরকার – প্রায় এক কোটি মানুষ. নিজের বর্তমানের নির্বাচনী প্রচারে পুতিন ব্যুরোক্র্যাট শ্রেনীর উপরে নির্ভর করছেন না, বরং আরও বেশী ভরসা যোগ্য শ্রেনীর উপরেই করছেন, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ দিমিত্রি দানিলিন মন্তব্য করে বলেছেন:

    “বনেদী শ্রমিক শ্রেনী – এটা স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি ও ফলপ্রসূ অর্থনৈতিক উন্নতিরও গ্যারান্টি. আর এখন, যখন নব্বইয়ের দশকের বিশৃঙ্খলার পরে আরও বেশী করে অর্থবহ হয়ে উঠেছে. যত বেশী বনেদী শ্রমিক শ্রেনী তৈরী হবে, তত বেশী করেই সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সৃষ্টি হবে, রাষ্ট্রও ততটাই স্থিতিশীল হবে, তার ভিত্তিও আরও পোক্ত হবে.”

    নির্বাচনের প্রাক্কালে পুতিন এই নিয়ে পঞ্চম প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন. তাঁর সমস্ত প্রবন্ধের সারাংশ নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসাবে তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রকাশিত হবে.