সিরিয়ার উচিত বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের সমস্যার সমাধান করা এবং সেরকম সামর্থ্যও তার আছে. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনোমতেই একপক্ষকে সমর্থণ করা উচিত নয়. রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষে গৃহীত ঘোষণাপত্রে এই কথা বলা হয়েছে. সব সংসদীয় দল কতৃক সমর্থিত ঐ ঘোষণাপত্রে সিরিয়ায় লিবিয়ার চিত্রনাট্য – মানে বিদেশী হস্তক্ষেপের পুণরাবৃত্তি না ঘটানোর আহ্বাণ জানানো হয়েছে. একইসঙ্গে রুশী সাংসদেরা উল্লেখ করেছেন, যে সিরিয়ার প্রতি পাশ্চাত্যের মনোভাব শাসক কর্তৃপক্ষ ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ শুরু করার জন্য প্রেরণা দিচ্ছে না, বরং সংঘাতকে আরও উস্কে দিচ্ছে.

     সিরিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশই আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠছে. রাশিয়া আরও একবার ঐ দেশে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে. রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষে গৃহীত ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যে দামাস্কাসের ভাগ্য সিরিয়ার নাগরিকদেরই সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে নির্দ্ধারণ করা উচিত. এই ঘোষণাপত্র গ্রহণ করার আসল উদ্ধেশ্য সম্পর্কে সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই পুশকোভ বলছেন - 

     সংঘাতরত কোনো একপক্ষকে মদত দেওয়ার জন্য জাতিসংঘকে ব্যবহার করা ঠিক নয়. আমরা জানি, লিবিয়া সম্পর্কে ১৯৭৩ নম্বর ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পরে লিবিয়ায় ন্যাটো সরাসরি সামরিক আক্রমণ করেছিল. রাশিয়া, চীন বা যেসব দেশ অনুরূপ দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে, তারা চায় না, যে সিরিয়াতেও লিবিয়ার চিত্রনাট্যের পুণরাবৃত্তি হোক.

     রাশিয়া ও চীন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের অধিকার খাটিয়ে গত কয়েকমাসের মধ্যে দুইবার সিরিয়া প্রসঙ্গে ঘোষণাপত্র পাশ হতে দেয়নি. রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের মতে, অনুরূপ ঘোষণাপত্রে শাসনব্যবস্থা বদল করার এবং বিদেশের সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বাণ থাকা অন্যায্য. ‘ন্যায্য রাশিয়া’ সংসদীয় দলের উপ-সভাপতি মিখাইল এমিলিয়ানভের মতে, সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সারা এলাকার জন্যে বিপর্যয়ে পরিণত হবে. –

     সিরিয়ার উপর বিদেশ থেকে যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, সেটা গোটা নিকট প্রাচ্যের ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে. রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষে গৃহীত ঘোষণাপত্রে আমরা এরকম প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করছি, এবং সর্বোতভাবে চেষ্টা করবো, যাতে সিরিয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়. এই উদ্দেশ্যে আমরা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের, যারা মধ্যস্থতা করতে পারে, তাদের সিরিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাব দিচ্ছি, যাতে বিরোধীপক্ষ ও শাসকদলের মধ্যে সত্যিকারের সংলাপের আয়োজন করা যায়.

     রাশিয়ার বক্তব্য অতঃপর সিরিয়ায় শুধু শাসক কর্তৃপক্ষই নয়, বিরোধীদের একাংশও মেনে নিতে রাজি. আর আরব রাষ্ট্রলীগ সিরিয়ার ব্যাপারে তার নিজস্ব কার্যকলাপের সমন্বয় সাধন রাশিয়া ও চীনের সাথে একসঙ্গে করতে চায়. আগামীকাল কায়রোয় আরব রাষ্ট্রগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এরপরে আর কি করা যাবে, সেই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার জন্য মিলিত হবেন. সেইসঙ্গেই আরব রাষ্ট্রলীগ ঘোষণা করছে, যে এই প্রশ্নে তাদের মস্কো ও বেইজিংয়ের সাথে সহযোগিতা করার অভিপ্রায় রয়েছে.