পাকিস্তানে আবারও ড্রোন হামলায় সম্ভবতঃ আল- কায়দা দলের এক কুখ্যাত ও ফেরারী জঙ্গী গোষ্ঠীর নেতা বাদর মনসুর নিহত হয়েছে, এই খবর জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বাদর মনসুর ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় বড় সন্ত্রাসবাদী, যাকে পাকিস্তানে রকেট হামলায় মারা হয়েছে. তার আগে ছিল মোহাম্মদ ইলিয়াস কাশ্মীর, গত বছরের জুন মাসে যে প্রাণ হারিয়েছিল. এই দুজনেই আল- কায়দা দলের হয়ে পাকিস্তানে জঙ্গী ঘাঁটিতে সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে লোক পাঠানোর দায়িত্বে ছিল. তালিবান নেতা বেইতুল্লা মেহসুদ ও হাকিমুল্লা মেহসুদও এই ধরনের ড্রোন হামলায় মরেছিল, এছাড়া অনেক আঞ্চলিক ভাবে পরিচিত লোকও এর শিকার হয়েছে. ওয়াশিংটন এর প্রত্যেক হত্যাকেই বিশেষ করে সাফল্য বলে মনে করেছে. সম্মুখ যুদ্ধের চেয়ে পিছন থেকে ছুরি মারার বিষয়ে নতুন এই ব্রুটাস জাতের তুলনা বিশ্বে মেলে না.

    ২০০৪ সাল থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আমেরিকার সামরিক বাহিনী ব্যবহার করছে ড্রোন হামলা, কিন্তু তাতে সমস্যার কোন সমাধান তো হয়ই নি, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোতে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    “শত্রু পক্ষের বড় চাঁই মরলে, আমেরিকার আনন্দ হওয়া স্বাভাবিক, মুহম্মর গাদ্দাফির মৃত্যু সংবাদ পেয়েই পাকিস্তানে সফর রত মার্কিন রাষ্ট্র সচিবের হর্ষ প্রকাশের অভিব্যক্তি বিশ্ব কোন দিনই ভুলবে না, দেখে মনে হয়েছিল এটি কোন মানবী বা কারো পত্নী বা মাতা হতে পারে না, যে অন্যের মৃত্যুর খবরে হর্ষধ্বনি দিয়ে উঠতে পারে. তবে মার্কিন বলেই বিষয়টা তাদের জাতির উপযুক্ত বলে মনে হয়েছিল. অন্য কোন দেশের লোক হয়ত এতে আত্ম সমালোচনার কথা ভাবতেও পারে, তবে মার্কিন নিরেট মস্তকে এই ধরনের ধারণা উদয় হওয়ার মতো জায়গা কখনই ছিল না. তবে এই ধরনের আঘাত প্রত্যাঘাত করে কোন লাভ আদতে হবে না. তা যদি হত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পয়লা নম্বরের শত্রু বলে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রচারিত ওসামা বেন লাদেনের হত্যার পরেও আল- কায়দা নির্মূল হয় নি, বরং আরও পল্লবিত হয়েছে. মনসুর মরেছে, তার জায়গায় অন্য কেউ বসবে, আরও ছড়াবে প্রতিহিংসা. সন্ত্রাসের যারা স্রষ্টা, তাদের বিরুদ্ধে গভীর যন্ত্রণায় ও নিজেরই বিষে নিধন হওয়ার আগে পর্যন্ত অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসবাদী দল উঠে আসবেই. একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ বলেই. চরমপন্থী ইসলাম জেহাদ ঘোষণা করেছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার এক ও অন্যতম উপায় হল সমাকলন, যে প্রক্রিয়ায় আমেরিকার কোন উত্সাহই নেই, তাদের কাছে এই প্রক্রিয়ার বদলে বেশী প্রয়োজনীয় অধিগ্রহণ”.

    ড্রোন হামলার ফলে পাকিস্তানে বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি শাসনের পর থেকে ৬০ জনের বেশী শিশু, বহু শত মহিলা ও বয়স্ক মানুষরা মারা গিয়েছেন, তারা কেউই সন্ত্রাসবাদী ছিলেন না. ওবামা সগর্বে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ালে ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন. পাকিস্তানের জনতা দেশে চাপ দিয়ে শামসি বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা বাহিনী তাড়িয়ে দিয়েছে এর প্রতিবাদে, বন্ধ করেছে মার্কিন ও তার প্রভুভক্ত জোটের রসদ পাঠানোর রাস্তা. এটা শুধু করা হয়েছে, যাতে নিরেট মাথায় ঢোকে, যে কেউ আমেরিকাকে কোন দেশেরই নিরীহ মানুষকে পাইলট বিহীণ বিমান থেকে বোমা ছুঁড়ে মারার অধিকার দেয় নি. মার্কিন কংগ্রেসে এই বিষয়ে কোন শুনানী হওয়ার কথা বিশ্বে কেউই কোন দিন শোনে নি. যা হচ্ছে বেশ করছি বলে প্রশাসন চেয়েছিল পাকিস্তানে আসতে, তখনও মানুষ তাদের আসার পথ আটকে দিয়েছে. গ্রসম্যান ঢুকতেই পারেন নি.

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিনা রব্বানি খার তাঁর এই বারের মস্কো সফরে এসে বলেছেন যে, “আমরা জোর দিয়েই মনে করি যে, কোন প্রযুক্তি এমন ব্যবহার করা উচিত নয় যার ফলাফল আগে থেকে অনুমান যোগ্য নয়...আমাদের লক্ষ্য সাধনের জন্য ড্রোন ব্যবহার একেবারেই কোন সহায়তা করে না – এই অঞ্চল থেকে বেআইনি সশস্ত্র জঙ্গী দল নির্মূল করার জন্য বা চরম পন্থা বা সন্ত্রাস বাদ নির্মূল করার জন্যও”.