বুধবারে মার্কিন কংগ্রেসের আন্তর্জাতিক বিষয়ের সদস্য প্রতিনিধি পরিষদে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে শুনানীর আয়োজন করা হয়েছিল. এখানে যারা ভাষণ দিয়েছেন তারা পাকিস্তানে শান্তিপ্রিয় জনগনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘণ, হত্যা, অত্যাচার ও নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশাসনের কাজ কর্মের সমালোচনা করেছেন. ইসলামাবাদে এই ব্যাপারটা অলক্ষিতে থেকে যায় নি. বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানের সেনেট বিশেষ এক ঘোষণা গ্রহণ করেছে, যেখানে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে. মার্কিন কংগ্রেসের এই শুনানীকে নাম দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি লঙ্ঘণ বলে.

বিগত কয়েক মাস ধরে মার্কিন ও পাকিস্তানের প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে চাপান উতোর সাধারন ঘটনায় পরিণত হয়েছে. দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে ঘোরতর রকমের উত্তেজিত হয়ে রয়েছে, আর পুরানো জোটের সম্পর্কের কোন চিহ্নই আর নেই. তাও এই রকমের পরিস্থিতিতে বর্তমানের ঘটনা বিশেষ করেই আলাদা হয়ে রয়েছে বলে মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“পাকিস্তান যতদিন রয়েছে, বেলুচিস্তানের সমস্যাও ততদিনেরই পুরনো, এই সমস্যা কখনও বেড়েছে, বিক্ষোভে, প্রতিবাদে, সংঘর্ষে ও সন্ত্রাসে, কখনও আবার মিইয়ে গিয়েছে, কিন্তু গত ৬৫ বছরে সমাধান হয়েছে, এমন সময় কখনোই ছিল না. এটা অবশ্যই পাকিস্তানের প্রশাসনের কোন গর্বের বিষয় নয়, তবে পশ্চিম বা প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনও এই সমস্যা লক্ষ্য করার চেষ্টা করে নি. শুধু এই বছরের জানুয়ারী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বেলুচিস্তানের ঘটনা ও সেখানে নিয়মিত হিংসার ঘটনা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন”.

গত ছয় মাস ধরে এই বিষয়ে আমেরিকার পত্র পত্রিকায় বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে আবার কিছু লেখক বেলুচিস্তান সম্পূর্ণ স্বাধীন করার পক্ষেই রায় দিয়েছেন. আর এই কংগ্রেসের শুনানী – এবারে সুযোগ করে দিয়েছে এই সমস্ত লোকেদের নিজেদের দৃষ্টিকোণ সমর্থনের সুযোগ করে দিয়েছে. অবশ্যই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক: মার্কিন কংগ্রেস কি গত ৬৫ বছর ধরে কুম্ভকর্ণের নিদ্রা দিচ্ছিল যে এখন হঠাত্ জেগে উঠে কি হল কি হল বলে চেঁচাতে শুরু করেছে, নাকি তাদের মতলব এখন অন্য. বরিস ভলখোনস্কি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“কারণ অনেক গুলি: প্রথমেই – দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ও ন্যাটো জোটের জন্য আফগানিস্তানে রসদ পাঠানোর জন্য দক্ষিণের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, দ্বিতীয়তঃ – ২০১৪ সালের মধ্যে জোটের সেনা দলকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে, কিন্তু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এমন একটা পছন্দ সই ঘাঁটি ছেড়ে যেতে হলেও এখানে একটা পাকাপাকি ব্যবস্থা করে যাওয়া আমেরিকার প্রয়োজন, যাতে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চিন সকলের উপরেই খবরদারি করা সম্ভব হয়. তৃতীয়তঃ – ইরানের সমস্যার সমাধানের জন্য মহান বেলুচিস্তান মার্কা একটা দেশ বানাতে পারলে, তারা হবে পশ্চিমের হাতের পুতুল রাষ্ট্র ও একই সঙ্গে ইরান, পাকিস্তানের উপরে এক চোট নেওয়া হবে, আর চিনের গাধার বন্দরে পৌঁছনোর রাস্তা বন্ধ করা হবে চতুর্থ কারণ, এখান দিয়েই পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি থেকে দ্রুত উন্নতিশীল দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলির জন্য জ্বালানী সরবরাহের পথে বাধা সৃষ্টি করা যাবে”.

বেলুচিস্তানের তাস খেলে এবারে আমেরিকা যে ঘটনার শুরু করতে চলেছে, তা সিরিয়াতে আজ হচ্ছে, প্রথমে কোন দেশের গুরুতর সমস্যা খেয়াল রাখা, পরে সেই দেশ মার্কিন নির্দেশ শুনতে অস্বীকার করলেই, সেখানে অত্যাচার হচ্ছে বলে জনমত তৈরী করা, সেই দেশের বিক্ষুব্ধ দের উত্সাহ দেওয়া সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য. তারপরে একদিন সদলবলে নেমে পড়া লিবিয়ার মাটিতে যেমন নামা হয়েছিল ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পছন্দসই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকেই আস্ত গিলে খাওয়া, তাতে যে কত লোক মরল, কত নিরীহ জনতা দেশ হারাল, তার হিসাব কে আর করবে. মানবাধিকার আমেরিকার মত না করে রক্ষা করতে দিলে ভারতের মত নির্জোট বলে গর্বিত দেশকেও ইরানের তেল পাওয়ার বিনিময়ে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে সায় দিতে হয়. বিশ্ব বড়ই লোভী হয়েছে আজ, পাকিস্তানের উপরে যতই ক্ষোভ থাক ভারতের বা বাংলাদেশের, এখনও মনে করতে ইচ্ছে হয় যে, প্রতিবেশীরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সামলে নেবে, স্যাম খুড়োকে নিজের চরকায় তেল দিতে পাঠাবে.