একে অপরকে সরাসরি না দেখেই বিতর্কের জন্য হঠাত্ করেই রাশিয়ার শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সম্মেলনের মঞ্চ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে হয়েছিল. প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও শত কোটি ডলারের মালিক মিখাইল প্রোখোরভ দেশে বিনিয়োগের পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন করার জন্য নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে এখানে হাজির হয়েছিলেন. সরাসরি দেখা করে একে অপরের ভাষণ শোনা প্রার্থীদের পক্ষে সম্ভব হয় নি, তাঁরা দুই ঘন্টার ব্যবধানেই ভাষণ দিয়েছিলেন, তাই যদি এক্ষেত্রে ডুয়েল শব্দটা ব্যবহার করা হয়, তবে তা হয়েছে একে অপরের অনুপস্থিতিতেই.

কয়েকদিন আগেই দেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দেখা করার সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন নিজের প্রতিপক্ষের সম্বন্ধে ভাল কথাই বলেছিলেন, তিনি প্রোখোরভকে খুবই দেশপ্রেমী বলেছিলেন, যদিও তাঁর প্রাকনির্বাচনী পরিকল্পনার সমালোচনাই করেছিলেন. আর এই শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, যদিও তা সরাসরি মিখাইল প্রোখোরভের উদ্দেশ্যে করা হয় নি, তবুও ধন সম্পদের উপরে কর প্রয়োগ সম্বন্ধে তাঁর আহ্বান শোনা গিয়েছে. তিনি বলেছেন:

“আমাদের দেশে এখন উটকো বড়লোক কমে আসছে, দায়িত্বশীল ও কেজো লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে, তাই এই কর কোন রাজকোষ পূরণের মত চরিত্র রাখে না. রাজকোষ পূরণের জন্য এই করের ভূমিকা বাড়িয়ে দেখার দরকার নেই, এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, তা খুব বড় সামাজিক ও মানসিক সংজ্ঞা বহন করে. এটাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, এই কর মধ্যবিত্ত শ্রেনীকে ছোঁবে না. তাই আমাদের প্রয়োজন হল খুবই নির্দিষ্ট ভাবে ও সঠিক করে সেই সমস্ত নীতি ও নিয়ম তৈরী করা, যা দিয়ে এই কর নেওয়া হবে. আর সেই সব নিয়ম সমাজের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করতে হবে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও”.

মিখাইল প্রোখোরভ ঘুরিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে দেশের কম সংখ্যক সমৃদ্ধ লোকেদের তরফ থেকে দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করার বিষয়ে নিজের মত ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন:

 “আমি প্রস্তাব করছি স্বেচ্ছা মূলক সামাজিক প্রকল্প. আমরা সকলেই, আমাদের ব্যক্তিগত আয়ের শতকরা এক ভাগ ও আমাদের কোম্পানী গুলির লাভের শূন্য দশমিক দুই শতাংশ সামাজিক তহবিলে পাঠাতে পারতাম. তাছাড়া, আমরা আমাদের নিজেদের উপরেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার সমাধানের ভার নিতে পারতাম. আমরা ক্যান্সার ও হৃদ রোগ সংক্রান্ত গবেষণার ল্যাবরেটরী গুলিকে অর্থ সাহায্য করতে পারতাম. আমরা যে কোন প্রকল্পই করতে পারি. আর একমাত্র এই রকমের লক্ষ্যই সমাজে আমাদের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে. কোন উদ্দেশ্য বিরহিত কর দেওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট কাজে লাগানোই ও সমাজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাতেই ভাল রয়েছে”.

0ভ্লাদিমির পুতিনও একই সঙ্গে দেশের ফৌজদারী আইনের সেই সমস্ত ধারা গুলি সম্বন্ধে নতুন করে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে. এই ধরনের কাজে ব্যবসায়ের উপরে সম্ভাব্য চাপ কমানো যাবে আর সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাচার ও নিজের খুশী মত অন্যায় করা কমানো সম্ভব হবে.