সাইবেরিয়াতে রোগ নিরাময় কেন্দ্র খোলা হতে চলেছে, যেখানে রোগীদের সারানো হবে খনিজ তেল দিয়ে! তবে একথা সত্যি যে, এর জন্য বিশেষ ধরনের তেলের দরকার, তথাকথিত ভারী খনিজ তেল. আগে তা শুধু আজারবাইজান রাজ্যেই পাওয়া যেত, আর এখন জানা গিয়েছে যে, উরাল পর্বতমালা পার হয়ে এক জায়গাতেও এই ধরনের বিরল কার্বন যৌগ রয়েছে. সাইবেরিয়ার তেলের, আশ্চর্য হওয়ার মত কাজ করার চরিত্র এই বছরেই রোগীরা নিজেদের উপরে প্রয়োগ করে দেখতে পারবেন. খনিজ তেলের আধারে স্নান ও নানা রকমের গায়ে লাগানোর প্রলেপ দিয়ে ব্যথা বেদনা এবং সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়, শরীরে রক্ত চলাচল ভাল করে আর ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তোলে, এককথায় সারা শরীর নতুন করে সুস্থ হয়ে ওঠে.

বিশ্বে এই তেলকে লোকে জানে ন্যাফতালানা বলে, কারণ এটা শুধু আজারবাইজানের এই নামের শহরের কাছেই পাওয়া যেত. সেখানে চর্ম রোগ, হাড়ের অসুখ, স্নায়ুর রোগের নিরাময়ের জন্য বিশ্বের অন্যতম থনিজ তেল দিয়ে স্নানের জন্য  পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে. আজ এই বিরল তেল আজারবাইজানে প্রায় পাওয়াই যায় না, তার ভাণ্ডার ফুরিয়ে এসেছে. আর তাই এটার দামও আকাশছোঁয়া গ্রাম প্রতি দুই ডলারের বেশী, এটা প্রায় ব্যারেল প্রতি পাঁচ লক্ষ ডলার. কিন্তু এর দাম এই বারে সাইবেরিয়ার একই রকমের গুণ মান সম্পন্ন তেল কমিয়ে দেবে, যার উত্স সাইবেরিয়ার “হান্তী- মানসিস্ক” ও “ত্যুমেন” শহরের কাছে পাওয়া গিয়েছে, এই খবর জানিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সাইবেরিয়ার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ভাইস জেনেরাল ডিরেক্টর ইভান নেস্তেরভ বলেছেন

“আমাদের এখানে যত এই রকমের তেল রয়েছে, তার পরিমান আমরা অনুমান করেছি আড়াই বিলিয়ন টনের মতো, আর চিকিত্সার কাজে এর ব্যবহার খুবই কম বলে, বলা যেতে পারে যে, বিশ্বের সমস্ত লোকের জন্যই তা যথেষ্ট, এমনকি যদি আমরা বিশ্বের সব দেশেই এই তেল দিয়ে চিকিত্সার কেন্দ্র খুলি. বাস্তবে আমাদের এই তেলের সঞ্চয় অশেষ. আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি আমাদের দেশের উত্তরের বহু প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘনীভূত অবস্থাতেও ধর্ম একই রকমের. আমরা যদি এর সঙ্গে আবার ঘনীভূত গ্যাসও জুড়ি, তাহলে আমাদের ভাণ্ডারের পরিমান খুব দ্রুতই বিশাল হয়ে যাবে”.

রোগ নিরাময়ের উপযুক্ত খনিজ তেল, বিশেষজ্ঞদের মতে এতই ভারী যে, তা পাইপ লাইন দিয়ে পাঠানো যায় না – সেটা বয়ে যেতে পারে না. তাই  যেখানে এই তেল পাওয়া যায়, সেখানে আলাদা রকমের বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিকাঠামো তৈরী করা দরকার, একই সঙ্গে সেখানে ওষুধ তৈরী করার মতো শিল্পেরও প্রয়োজন রয়েছে. ২০১২ সালের শেষ “নোভী উরেঙ্গোয়ে” নামের জায়গায় নতুন এক রোগ নিরাময় কেন্দ্র খোলা হতে চলেছে, যেখানে এই তেল দিয়ে চিকিত্সা করা হবে. মাছি ও গিনিপিগের উপরে পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাশিয়ার খনিজ তেল শুধু আজারবাইজানের আশ্চর্য তেলের মতই নয়, বরং তার থেকেও ভাল, তাই ইভান নেস্তেরভ বলেছেন:

“আমরা আমাদের আর আজারবাইজানের খনিজ তেল তার সমস্ত রকমের মৌল অবধি বিভাজন করে তুলনা করে দেখেছি, আমাদের তেল ন্যাফতালানার তেলের চেয়ে চিকিত্সার ক্ষেত্রে বেশী কার্যকরী”.

0রাশিয়ার ভারী তেলের এক বিশেষত্ব রয়েছে, তাতে আদামান্তান নামের এক যৌগ পাওয়া যায়, যার অণুর গঠন হীরের মতই স্ফটিকের মতো, তাই এই যৌগকেও হীরের আরেক নাম আদামান্তান নামেই জানা রয়েছে, এই যৌগ সাধারণত অন্য জায়গার ভারী তেলে কমই থাকে, আর আমাদের এই তেলে এর পরিমান শতকরা ছয় শতাংশ. এটা দিয়ে এক খুবই শক্ত ফিল্ম বানানো হয়ে থাকে, তবে দুনিয়াতে বেশীর ভাগই হয় কৃত্রিম আদামান্তান থেকে, আর এখানে এবারে প্রাকৃতিক উত্স থেকে পাওয়া যৌগ থেকে এই ফিল্ম বানানো যাবে, আর তা শুধু সস্তাই নয়, গুণের দিক থেকেও প্রাকৃতিক বলে ভালই হবে. এই তেল প্রথমে চিকিত্সার জন্য ব্যবহারের পরে তার থেকে এই আদামান্তান বের করে নিলেই হবে. তাই নেস্তেরভের কথামতো, এই খনিজ আশ্চর্য তেলের এক গ্রামও নষ্ট হবে না.