মঙ্গলবার ঘটা মালদ্বীপে রাষ্ট্র বিপ্লব মন্তব্যের ঝড় তুলেছে. কিন্তু বেশীর ভাগ মন্তব্যের মূল সুর হল এই বিপ্লবের ফেলে এই ভূস্বর্গে বেড়াতে যাওয়া লোকেদের কোন ক্ষতি হবে কি না তা নিয়ে.

রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি এই প্রসঙ্গে তাঁর মূল্যায়নে বলেছেন, মালদ্বীপের ভৌগলিক অবস্থানই এর উত্তর দিয়েছে, না তা হবে না, কারণ বিপ্লব হয়েছে মালদ্বীপ রাষ্ট্রের ১২০০ দ্বীপের একটি মালে দ্বীপে, আর পর্যটকরা মালে ছাড়া অন্য সমস্ত দ্বীপেই রয়েছে. তাদের অনেকে জানেন না যে এই দেশে সরকার পাল্টে গিয়েছে.

    অন্যান্য পর্যবেক্ষকেরা এই ক্ষেত্রে উত্তর খুঁজেছেন কেন এই বিপ্লব হল ও কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন যে এখানকার রাতের আমোদের জায়গা গুলি বন্ধ করে দেওয়া ও তার ফলে দেশের বিরোধী পক্ষের আয়ের উত্স বন্ধ হওয়াই কারণ. মোহামেদ নাশিদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে চেষ্টা করছিলেন ঐস্লামিক রাষ্ট্রের চরিত্র বজায় রাখতে এই কুখ্যাত জায়গা গুলি বন্ধ করতে ও তার আগে এই দেশে টানা তিরিশ বছরেরও বেশী শাসনভার কুক্ষিগত করে রাখা ৭৫ বছর বয়সী মোমুনা আবদুল্লা গাইয়ুম এর ঘনিষ্ঠ দেশের প্রধান অপরাধ আদালতের বিচারপতি আবদুল্লা মোহামেদকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন বলে, এই বিপ্লব ঘটে গেছে ও দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মোহামেদ ওয়াহিদ হাসান মানিক আসীন হয়েছেন. এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ এই দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার নতুন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন ভারতের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বহু দিনের বন্ধু. আরব দেশ গুলিতে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, তারা অনেকেই বিপ্লব হয়েছে শুনে হর্ষধ্বনি দিয়েছিলেন, কিন্তু সমস্যা হল নাশিদ নিজেই স্বৈরাচারীর পতনের পরে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী আইন সম্মত রাষ্ট্রপতি, তাই তার বিরুদ্ধে বিপ্লব হল স্বৈরাচারীর স্বপক্ষে বিপ্লব.  

    এখন সমস্যা হল, কিছু দিনের মধ্যেই পর্যবেক্ষকদের মতে এই নতুন রাষ্ট্রপতি (যাকে পর্যবেক্ষকেরা ল্যাংড়া হংস আখ্যা দিয়েছেন) দেশে নির্বাচন হলে আর থাকছেন না, তাই প্রশ্ন জাগে এই বিপ্লবে রাজনৈতিক শক্তির গঠন তন্ত্রের কি পরিবর্তন হতে পারে, যা রাষ্ট্রপতি, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর চেয়ে এখানে অনেক বেশী শক্তিশালী.

    এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে এই দেশের ইতিহাসেই. কয়েক বছরে আগে চিন তাদের মুক্তা মালা নামের সামুদ্রিক ঘাঁটি তৈরীর উদ্দেশ্য নিয়ে মালে শহর থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দক্ষিণে মালদ্বীপের খাঁড়িতে এক ডুবোজাহাজের ঘাঁটি তৈরীর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছিল, যা একই ভাবে তারা ভারতকে ঘিরে করতে চাইছে পাকিস্তানের গাধার ও শ্রীলঙ্কাতে এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে. মালদ্বীপের এই বন্দর লুকিয়ে ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণের জন্য আদর্শ জায়গা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন, যাদের এই ভারত মহাসাগরের সঙ্গে কোনই সমুদ্র সীমান্ত নেই, তারাই বেশী করে চেয়েছে এখানে উপস্থিতি বজায় রাখতে. মোমুনা আবদুল্লা গাইয়ুম প্রায় রাজী হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ২০০৮ সালে চিন পন্থী গাইয়ুম কে সরিয়ে ভারত- পন্থী মোহামেদ নাশিদ রাষ্ট্রপতি হওয়াতে ঘাঁটি তৈরীর প্রশ্ন নিজে থেকেই বন্ধ হয়েছিল. এখন আবার নতুন করে চিন্তার সময়ে এসেছে.

সব জায়গাতেই বিদেশী হস্তক্ষেপের চিহ্ন খুঁজতে ইচ্ছা জাগে না, কিন্তু একটি ছোট দ্বীপ সম্বলিত রাষ্ট্রের বিপ্লবের ফলে ভারত মহাসাগর এলাকায় বিশ্বে শক্তির ভারসাম্যে কি পরিবর্তন হতে পারে, সেই চিন্তা অনেক দীর্ঘসূত্রী হতে চলেছে.