রাশিয়া পাকিস্তান, ভারত ও ইজরায়েলকে অপারমানবিক রাষ্ট্র হিসাবে পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে (নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি -  NPT) জুড়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান করেছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা ও নিরস্ত্র করণ প্রশ্ন সংক্রান্ত দপ্তরের ডিরেক্টর মিখাইল উলিয়ানভ. আর তার আগে মস্কো মনে করে যে, এই দেশ গুলি নিজেদের পারমানবিক দ্রব্যের ভরসা যোগ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে.

    এন পি টি চুক্তির অংশীদার প্রায় সব দেশই হয়েছে. বাদ রয়েছে শুধু ইজরায়েল, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া. কয়েকদিন আগে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে আহ্বান করেছিল এই চুক্তির আধারে ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গ্যারান্টি ব্যবস্থায় ফিরে আসার জন্য বাস্তবে চলা শুরু করতে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই দেশের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করার বিষয়ে সমালোচনা করায় পিয়ংইয়ং এই চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল ও এই সংস্থার পর্যবেক্ষকদের দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল.

    পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ কে মজবুত করা নিয়ে রাশিয়ার এই আহ্বান সম্বন্ধে মন্তব্য করে সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ উল্লেখ করেছেন:

    “এটা করার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এই সব দেশ থেকে পারমানবিক জিনিস ও পারমানবিক অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে. যদি রাশিয়া সহ আন্তর্জাতিক সমাজ, এই দেশ গুলির উপরে প্রভাব বিস্তার করে, তবে ভারত, পাকিস্তান ও ইজরায়েলের তরফ থেকে পারমানবিক অস্ত্র প্রসারের ঝুঁকি কমবে. আর আমরা যা ভাবতে পারি, তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় এড়াতে পারব – পারমানবিক সন্ত্রাসবাদ”.

    ভারত ও পাকিস্তান পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করেছে. খুবই গুরুতর সন্দেহ আছে, যে এই অস্ত্র ইজরায়েলের কাছেও রয়েছে, যারা নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখার জন্য সব রকমের প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে. এই কারণে রাশিয়ার কূটনীতিবিদ মিখাইল উলিয়ানভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো এই সব দেশকে এন পি টি চুক্তির মধ্যে পরমাণু অস্ত্র বিহীণ রাষ্ট্র হিসাবেই দেখতে চেয়েছে. ভারত ও পাকিস্তান পারমানবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রযুক্তির অধিকারি, তারা পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষাও করেছে ও এই অস্ত্র তাদের ভাণ্ডারে রয়েছে. কিন্তু পারমানবিক অস্ত্র ও তা পৌঁছনোর মাধ্যম এখনও যুদ্ধ উপযুক্ত ভাবে ব্যবহারের জন্য তৈরী করে রাখা হয় নি. কূটনীতিবিদ এদের কাছে আহ্বান করেছেন সন্ত্রাসবাদীদের হাতে খুবই সংবেদনশীল পারমানবিক অস্ত্র প্রযুক্তি পৌঁছনোর পথ রোধ করতে. এই প্রসঙ্গে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মন্তব্য করে বলেছেন:

    “খুবই জরুরী হল যে এই দেশ গুলি নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি যেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে. নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কি হতে পারে, তা আমরা পাকিস্তানের বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের বেআইনি চক্রের উদাহরণে দেখতে পেয়েছি. এই কারণে পারমানবিক প্রযুক্তি পেয়েছিল ইরান, উত্তর কোরিয়া, লিবিয়া, ইজরায়েল, ভারত ও পাকিস্তানের মত দেশ”.

    একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে যে, পারমানবিক অস্ত্র, কেন্দ্র, প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা – সারা বিশ্বের কাজে পরিণত হয়েছে. এই প্রসঙ্গে পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল সেই বাধা অতিক্রম করা যা আজ এন পি টি চুক্তির সদস্য দেশ গুলির আর যারা নেই তাদের মধ্যে রয়েছে. পারমানবিক দ্রব্যের নিরাপত্তার মান সব দেশের জন্যই অনেক উঁচু হওয়া দরকার. আর এখানে সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে”.

    এই লক্ষ্যে কাজ কম করা হয় নি. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৪ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল, যা অংশতঃ, পারমানবিক অস্ত্র কোন একক ব্যক্তি বা সন্ত্রাসবাদীদের হাতে যাতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করেছিল. ২০০৬ সালে মস্কো এবং ওয়াশিংটন বিশ্ব জুড়ে পারমানবিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের বিষয়ে আইন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে. এই আইনের সঙ্গে প্রায় ১০০টি দেশ যুক্ত হয়েছে.