রাশিয়া সারা বিশ্বকে বাইরে থেকে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে.এই দেশের সঙ্কটের সমাধান শুধু সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই হতে পারে ও গণতান্ত্রিক সংশোধনের মাধ্যমে. এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ও রাশিয়ার বিদেশ সংক্রান্ত গুপ্তচর বিভাগের প্রধান মিখাইল ফ্রাদকভের সঙ্গে আলোচনার সময়ে আশ্বস্ত করেছেন. এই সফরের একটি সরাসরি ফল হয়েছে আরব লিগের পক্ষ থেকে সিরিয়াতে পর্যবেক্ষক মিশন ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত. এই বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিব বান গী মুন খবর দিয়েছেন.

সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়েছে সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ে. রাশিয়ার মিশন মস্কো ফিরে আসার পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে ফরাসী রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজির ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এরদোগানের টেলিফোনে কথাবার্তা হয়েছে. রাশিয়ার দেশ নেতা তাঁর সহকর্মীদের মস্কোর তরফ থেকে সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু ও গণতান্ত্রিক সংশোধন তরান্বিত করে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করার জন্য যে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে অবহিত করেন. দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে সিরিয়ার ভিতরের সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে সক্রিয় শক্তি প্রয়োগ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যেই করার গুরুত্বের বিষয়েও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন. এই সময়ের মধ্যেই, বোধ হয়, যে, পশ্চিম লিবিয়ার সঙ্কট থেকে কোন পাঠই নেয় নি, যা এই দেশকে গৃহযুদ্ধে অবতীর্ণ করেছে. এই সবই বাইরে থেকে সশস্ত্র অনুপ্রবেশের ভয়ঙ্কর পরিণতি, এই কথা মস্কো শহরে রাশিয়ার ধর্মীয় সংস্থান গুলির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে এর আগে বলেছেন রাশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার লোকেদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই ঠিক করতে দেওয়া উচিত.

দামাস্কাসে সফরের সময়ে লাভরভ ও ফ্রাদকভ বাশার আসাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে, তিনি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে তৈরী আছেন. মস্কো নিজেদের পক্ষ থেকে তাঁকে এই ধরনের আলোচনার উপযুক্ত মঞ্চ দিতে তৈরী আছে. সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি দেশে নতুন সংবিধান গ্রহণ, পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও দ্রুত করার বিষয়ে আগ্রহী. মস্কো আসাদকে শুনেছে. এই বারে পশ্চিমের উপরে ও তাদের নিকটপ্রাচ্যের সহকর্মীদের - পারস্য উপসাগরীয় এলাকার দেশ গুলি ও তুরস্কের উপরে নির্ভর করছে কি হবে এর পরে.

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, বাশার আসাদের সঙ্গে সের্গেই লাভরভ ও মিখাইল ফ্রাদকভের দামাস্কাস শহরের সাক্ষাত্কারের পরে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ সঙ্কট শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে. আর এই হয়ে যাওয়া সফর – শুধু সক্রিয় কূটনৈতিক কাজ কর্মের শুরু, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ ও প্রাচ্য বিশারদ আলেকজান্ডার ফিলোনিক বলেছেন:

“রাশিয়ার আরব বিশ্বে প্রভাব, অন্তত সেই অংশে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সহ কাতার রাষ্ট্রের লক্ষ্য মেনে নেয় না, ভালই আছে. তার ওপরে সিরিয়ার আরব বিশ্বে সহযোগী রয়েছে. আমি মনে  করি যে, এই গুরুতর প্রশ্নে রাশিয়ার কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ বৃথা যাবে না”.

তার ওপরে পশ্চিমের ও রাশিয়া এবং চিনের সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধানের জন্য উপায়ে কিছু একই রকমের ধারণার বিন্দু রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে অন্য এক বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির আখমেদভ বলেছেন:

“মস্কো ও বেজিংয়ের অবস্থান ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে তাদের বিপক্ষের অবস্থান বেশ কিছু প্রশ্নে একই. অংশতঃ, সিরিয়াতে অবিলম্বে হিংসা ও সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে”.

0সুতরাং ভারসাম্য রেখে পথ নির্বাচন করলে সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধান শান্তিপূর্ণ ভাবেই করা সম্ভব. প্রয়োজন শুধু এই বিরোধের পক্ষ দুটি রক্তপাত বন্ধ করে আলোচনা করতে টেবিলে বসতে রাজী হলেই.