মস্কো শহরে পশ্চিম ও কিছু পারস্য উপসাগরীয় দেশের তরফে সিরিয়া থেকে নিজেদের রাজদূতদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণ বোঝা সম্ভব হয়নি, বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ, তিনি তাঁর পাক সহকর্মীর সঙ্গে বৈঠকের শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিতে এসে এই ঘোষণা করেছেন. রাশিয়ার মন্ত্রীর কথায় আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত হবে না আগে থেকেই সিরিয়ার জাতীয় আলোচনার ফল ঠিক করে দেওয়া.

    যদিও এই সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রধানের সফর উদ্দেশ্য করে, তবুও এখানে সিরিয়ার প্রশ্নই ছিল একটি অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রশ্ন. আর তাতে অবাক হওয়া যায় না. মাত্র গতকালই সের্গেই লাভরভ দামাস্কাস হয়ে ফিরেছেন ও সেখানে রাষ্ট্রপতি আসাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন. মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, আজ সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনাই একমাত্র সম্ভাব্য পথ হতে পারে সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য. আন্তর্জাতিক সমাজ লাভরভের মতে, এই প্রক্রিয়াতে যে কোন রকমের অনুপ্রবেশের বিষয়ে যেন বিরত থাকে.

    “আমরা যে কোন ধরনের উদ্যোগকেই সমর্থন করব, যা সিরিয়ার লোকদের আলোচনা করতে ও জাতীয় শান্তির পথ খুঁজে দেখার পরিস্থিতি করে দেয়. এই বিষয়েই বর্তমানে উচিত হবে আরব বিশ্বের আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্বশীল সদস্যদের কাজ করা, ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও অন্যান্য এলাকাতেও. জাতীয় আলোচনার পরিনাম আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়ার চেষ্টা – এটা বড় করে দেখলে, আন্তর্জাতিক সমাজের উপযুক্ত কাজ নয়”.

    মস্কো থেকে আসাদকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে সের্গেই লাভরভ নির্দেশ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সিরিয়া জনগনই নিতে পারে.

    “আলোচনার টেবিলে প্রশাসন ও সমস্ত বিরোধী পক্ষের লোককেই বসান দরকার. জাতীয় আলোচনার যে কোন পরিণাম হওয়া উচিত সিরিয়ার লোকেদের মধ্যেই, আর তা মেনে নেওয়া উচিতও হবে সব সিরিয়া বাসীর”.

    “এই প্রসঙ্গে মস্কোর বুঝতে অসুবিধা হয়েছে সেই সমস্ত দেশের যুক্তি, যারা নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের সিরিয়া থেকে চলে আসতে নির্দেশ দিয়েছে”, বলে রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উল্লেখ করেছেন. তাঁর কথামতো, “এই ধরনের কাজ শান্তিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে কোন সহায়তা করে না”. পাকিস্তান থেকে আসা লাভরভের সহকর্মী হিনা রব্বানি খার এই প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে চান নি. কিন্তু তিনি এই দৃষ্টিকোণের সাথে একমত যে, সিরিয়ার প্রসঙ্গে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আলোচনার পথেই হতে পারে

    হিনা খার বলেছেন, “দুই পক্ষের থেকেই হিংসা বন্ধ করতে হবে, যা মানুষের ক্ষতির কারণ হচ্ছে, অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, এই ধরনের নীতির সঙ্গে একমত হওয়া ছাড়া অন্য সম্ভাবনা নেই (এই ক্ষেত্রে পাঠকের ভুললে চলবে না যে, আজও পাকিস্তানের সর্বত্র সামরিক বাহিনী ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নিয়মিত হিংসায় বহু লোক প্রত্যেক দিন প্রাণ হারাচ্ছে আর কাশ্মীর, আফগানিস্তান ইত্যাদি জায়গায় যেখানেই পাকিস্তান সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই নাক গলানোর চেষ্টা কমায় নি, তা যতবারই তাদের নাক কেটে দেওয়া হোক না কেন. আর বর্তমানে মস্কো সফরের অন্যতম কারণ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদের ফলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে গিয়েছে). পাকিস্তান নীতি সমর্থন করে ও সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ হিসাবে আলোচনাকেই অন্যতম পথ মনে করে (মাত্র গতকালই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দেশে কাশ্মীর দিবস উপলক্ষে বলেছেন, কাশ্মীরকে পাকিস্তান ভারত থেকে আলাদা হওয়ার যুদ্ধে সর্বতঃ ভাবে সাহায্য করবে”).

    “দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার তালিকা সম্বন্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে বলার সময়ে রব্বানি খার বলেছেন যে, পাকিস্তান রাশিয়াকে দক্ষিণ এশিয়াতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উত্স মনে করে (তাই সোভিয়েত বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছিল সমস্ত সম্ভাব্য পদ্ধতিতে). মস্কো এই এলাকায় নিজেদের আইন সঙ্গত আগ্রহ রাখে, আর এই বারে পাকিস্তান এই আগ্রহের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া – পাকিস্তান সম্পর্ক মজবুত করার পথ খুঁজবে. দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্যের পরিমান বহু শত লক্ষ ডলার ও বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে, যা সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার কথা হচ্ছে, যেমন তাপি, কাসা - ১০০০ ইত্যাদি”.

    দুই দেশের মধ্যে পরিকল্পিত ভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যেমন দ্বিপাক্ষিক ভাবে তেমনই বহু পাক্ষিক ভাবে রাজনৈতিক আলোচনা চালু রয়েছে, সেই গুলি হচ্ছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, দুশানবে চতুষ্টয় ইত্যাদি সমাহারে.

    “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পাকিস্তান বহু দিন ধরে পর্যবেক্ষক দেশ হয়ে রয়েছে ও এই বারে আসা করেছে রাশিয়ার সমর্থন   পেয়ে পূর্ণ সদস্য হওয়ার. যোগ্যতা না থাকা স্বত্ত্বেও চিন ভারতের বিপরীত শক্তি হিসাবে এই সংস্থায় পাকিস্তানকে দেখতে চাওয়াতে, ভারতবর্ষ সদস্য হওয়ার বিষয়ে কিছুটা আগ্রহ কমিয়েছে. পাকিস্তানের সন্ত্রাস বাদ ও আফগানিস্তানের মাদকের সমস্যা সমাধানে এই সংস্থা কার্যকর হতেও পারে”.

    বিশ্বের প্রধান সমস্যার বিষয়ে রাশিয়া ও পাকিস্তানের কাজ করার ধারা একই বলে এই সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, তার উপরে ২০১৩ – ২০১৪ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হতে চলেছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ. হিনা রব্বানি এর আগেও একবার রাশিয়া এসেছিলেন, তবে মুসলমান দেশ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে এটাই তাঁর প্রথম সফর.