মালদ্বীপে উলটো “আরব্য বসন্ত” পৌঁছেছে. এই দ্বীপ পুঞ্জের দেশে গণ অভ্যুত্থানের সমাবেশ ও মিছিল দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহামেদ নাশিদ কে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

২০০৮ সালে ৪৪ বছর বয়সী নাশিদ মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন. তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন ১৯৬৫ সালে মালদ্বীপ স্বাধীনতা পাওয়ার পরে প্রথম বহুদলীয় সর্বজনীন নির্বাচনে জয়ী হয়ে. তাঁর পূর্বসূরি ৭৫ বছর বয়সী মোমুনা আবদুল্লা গাইয়ুম এই দেশকে তার আগে প্রায় তিরিশ বছর ধরে স্বৈরাচারের মধ্যে আটকে রেখেছিলেন. তাঁকে এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসক বলা হত.

    মালদ্বীপে রাষ্ট্রপতি নাশিদ তাঁর পূর্বসুরির শাসন কালে তিরিশ বার গ্রেপ্তার ও ছয় বছর জেলে কাটিয়ে ছিলেন. এই বারে তিনি এই দেশে দুর্নীত বন্ধের প্রয়াসে বেশ কিছু পতিতা পল্লী ও খারাপ জায়গা বন্ধ করার নির্দেশ দিলে, দেশের বিরোধী পক্ষের নেতারা স্থানীয় জনতাকে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে ব্যবহার করেছেন. শেষে দেশের প্রধান অপরাধ আদালতের বিচারপতি আবদুল্লা মোহামেদকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করলে, দেশে পুলিশ, সামরিক বাহিনী সহ, সকলেই রাষ্ট্রপতির দলের অফিস ভাঙচুর করে রেডিও টেলিভিশন সংস্থা দখল করে নেয় আর রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে. রক্তপাত যাতে না হয়, সেই কারণে নাশিদ পদত্যাগ করেছেন. আবদুল্লা মোহামেদ আগের স্বৈরাচারী শাসকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু. তাই বলা যেতে পারে, ক্ষমতায় আগে দলই ফিরে এসেছে.

যদি আফ্রিকার উত্তরে ও আরব দেশ গুলিতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা বলা হচ্ছে, তবে মালদ্বীপে এই বারে ঠিক উলটো ব্যাপারটাই হয়েছে. গণতন্ত্রকে হঠিয়ে স্বৈরাচারকেই বরণ করা হয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে নীরব, কারণ এখানে খনিজ তেল ও গ্যাস নেই. বরং প্রচুর দুর্নীতি ফিরে এসেছে, যা ব্যবহার করে ধন অর্জন সম্ভব. গণতন্ত্রের জন্য ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলা হিলারি ক্লিন্টন ও তাঁর প্রাণের বন্ধুরা একবার সোমালির সমুদ্র উপকূল পাহারা দেওয়া বন্ধ করে এই একেবারে প্রশাসন বিহীণ অঞ্চলে গিয়ে নিজেদের পছন্দমত গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করে দেখলেই পারেন, নাকি সেখানেও কিছু লুঠে নেওয়ার নেই বলে আগ্রহ নেই.