পশ্চিমের নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদরা সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সর্গেই লাভোরভের গতকালের বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করেছেন. এই সাক্ষাত্কারে মনে করিয়ে দিই যে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি সিরিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তৈরী থাকা সম্বন্ধে বলেছেন ও আরও জানিয়েছেন যে, দেশের নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরী হওয়া প্রায় শেষ ও শীঘ্রই তা নিয়ে গণ ভোটের দিন ঘোষিত হবে. পশ্চিমে এই ঘোষণার প্রতি খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি করা লোকেরা একেবারে সিরিয়ার আসাদ বিরোধী পক্ষের লোকদের সরকারি ভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার কথা প্রস্তাব করে বসেছেন. 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও  রাশিয়ার বিদেশে গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান মিখাইল ফ্রাদকোভ সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সাথে আলাপ-আলোচনার জন্য সিরিয়ায় গিয়েছেন. আসাদকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের বার্তা প্রেরণ করেছেন. মেদভেদেভ ঐ বার্তায় কি লিখেছেন সে সম্পর্কে লাভরোভ কিছু জানাননি. সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, যে রাষ্ট্রপতির বার্তা শুধুমাত্র যার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছে, তিনিই পড়েছেন. দামাস্কাসের বিমানবন্দরে লাভরোভ ও ফ্রাদকোভকে স্বাগত জানায় উচ্চ পর্যায়ের সিরিয়ার  প্রতিনিধিদল. তারপরে দুই রুশী সরকারি প্রতিনিধি একত্রে অনেকক্ষণ ধরে প্রায় ফাঁকা সড়ক ধরে যেতে থাকেন, যেখানে কড়া পুলিশ প্রহরা মোতায়েন ছিল. রাজধানীতে ঢোকার পরে রুশী প্রতিনিধিদলকে বাশার আসাদের সমর্থকেরা রাশিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে স্বাগত জানায়. তাদের গাড়ির সারি রাষ্ট্রপতি ভবনের যত কাছে এগোতে থাকে ততই জনতার ভীড় বাড়তে থাকে. তারা বিভিন্ন ভাষায় – আরবী, রুশী ও সিরিয়ার ভাষায় চিত্কার করতে থাকে: “রাশিয়া,ধন্যবাদ!”

সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সাথে আলোচনা শুরু করার পরে রুশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ বলেছেন, যে সব রাষ্ট্র প্রধানেরই দায়িত্বজ্ঞান থাকা উচিত. রিয়া নোভোস্তি সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, যে লাভরোভ এই মত প্রকাশ করেছেন, যে আসাদের সেই সচেতনতা আছে. লাভরোভ আরও যোগ করেছেন – আরবের সব জাতি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে থাকে সেটা আমাদের কাছেও একান্তভাবে কাম্য. এই সাক্ষাত্কারের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে – সিরিয়াকে কেন্দ্র করে যে বদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে আর যেখানে বিরোধীরাও একগুঁয়েমি করছে, তার থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে বার করার চেষ্টা করা. হয়তো দুই পক্ষই সিরিয়ায় আরব রাষ্ট্রলীগের মিশন আবার নতুন করে শুরু করার পরিপ্রেক্ষিত নিয়েও আলোচনা করবে. রাশিয়া এই ধারণাকে সমর্থণ করে.

রাশিয়ার তরফ থেকে সিরিয়ার নেতৃত্বকে দেওয়া সঙ্কেত রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ শুনেছেন. এই বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ, দামাস্কাসে সিরিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরে ঘোষণা করেছেন. বাশার আসাদ আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি দেশে হিংসা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবে সহমত, তা সেটা যে কোন দিক থেকেই করা হোক না কেন. তাই সিরিয়া আগ্রহী যাতে দেশে আরব লীগের মিশন আবার শুরু করা হয়. তার ওপরে, আসাদ বিশ্বাস করেন যে, শুধু আরব লীগের পর্যবেক্ষকদের কাজই পুনরায় চালু করা প্রয়োজনীয় নয়, বরং এই মিশনের লোকসংখ্যাও বাড়া দরকার. দেশের সমস্ত উত্তপ্ত জায়গাতেই আরব লীগের পর্যবেক্ষকদের থাকা প্রয়োজন ও সমস্ত রকমের আইন ভঙ্গকেই নথিভুক্ত করা দরকার, তা সেটা যে কোন পক্ষের থেকেই করা হোক না কেন. সিরিয়ার নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে আরব লীগের আরও একটি উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আলোচনা শুরু করা. লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, আসাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কাজ করার জন্য সহমত পাওয়া গিয়েছে.

    এই বৈঠকে জানা গিয়েছে যে, খুবই আসন্ন সময়ে বাশার আসাদ সংবিধান প্রস্তুত যারা করেছেন সেই পরিষদের সঙ্গে দেখা করবেন. প্রকল্প বর্তমানে প্রায় তৈরী, এর পরে দেশের প্রধান আইন নিয়ে সিরিয়াতে গণ ভোট করা হবে. তারপরে হবে পার্লামেন্ট নির্বাচণ, যেটি আসাদ নাম দিয়েছেন বহুদলীয় ও ক্ষমতাসীন দল বাস সেখানে কোন সুবিধা পাবে না.

এই প্রসঙ্গে লাভরভ বলেছেন যে, রাশিয়া সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলতে চায়. বিরোধী পক্ষের সিরিয়ার জাতীয় সভার নেতৃত্বের সদস্য জর্জ সাবরা ঘোষণা করেছেন যে, “রাশিয়া ও সিরিয়ার জনগনের মধ্যে ভাল সম্পর্কের কথা মনে করে দেখে বলা যায় যে, রাশিয়ার সিরিয়া সঙ্কটের সমাধানে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে”.

 পশ্চিমের নেতারা এই প্রসঙ্গে অনেক কটু কথা বললেও, সিরিয়ার সরকার যথেষ্ট পোক্ত এবং যা হতে পারে, তা হল এই দেশে আলজিরিয়ার মত বহু দিন ধরে (৮ বছর) গৃহযুদ্ধ হলেও চরমপন্থী ঐস্লামিকদের সরকারের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না. তুরস্ক প্রভাব বিস্তারের লোভে প্রথমে বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সাহায্য করতে পারে বললেও, এই সফরের পরে তারা ঠিক করেছে নতুন উদ্যোগ প্রকাশ করাই ভাল, অস্ত্র দেওয়ার বা সিরিয়ার উত্তরে আলাদা করে নিজেদের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষের হয়ে আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যাওয়ার চেয়ে.

আসলে ইরান ও সিরিয়াতে ইজিপ্ট ও লিবিয়ার দশা তৈরী করতে না পারলে, কোথা থেকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া মার্কিন ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের আরও ভোগের অর্থ জুটবে. ভোগবাদ শেষ হওয়ার আগে মরণ কামড় দেওয়া চলছেই, তবে জানাই আছে যে, কংস বধ এবারে অবধারিত.