রাশিয়ার পশ্চিম সাইবেরিয়ার নভোসিবিরস্ক শহরের ভাইরাস বিজ্ঞানীরা বহু বছর কাজ করার পরে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহানী করার ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা প্রথমবার সাফল্যের সঙ্গে পরীক্ষা করতে পেরেছেন. টিকার ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে, এই বিষয় সমর্থন করে নভোসিবিরস্ক শহরের বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র “ভেক্টর” এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন.

রাশিয়াতে ১৯৮৬ সাল থেকেই, যখন দেশে প্রথম এইডস রোগ ধরা পড়েছিল, তখন থেকে শুরু করে গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ছয় লক্ষ দশ হাজার এইডস রোগাক্রান্ত মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন. এই সময়ের মধ্যেই এইডস রোগের আনুষঙ্গিক রোগ থেকে এক লক্ষেরও বেশী মানুষ মারা গিয়েছেন. এইডস রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রের তথ্য এই রকমের. কিন্তু এটা শুধু সরকারি ও অসম্পূর্ণ তথ্য. ঝুঁকি যাদের আছে, সেই দলে পড়ে ইঞ্জেকশন মাধ্যমে যে সমস্ত লোক মাদক ব্যবহার করে থাকে, তারা প্রথমে, তার পরে সমকামী ও রক্ষিতা শ্রেনীর লোকেরা. রাশিয়াতে পুরুষ মানুষরা সাধারণতঃ শিরা ফুঁড়ে মাদক নেওয়ার সময়ে ও মেয়েরা যৌন সংসর্গের সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের ডিরেক্টর অ্যাকাডেমিক পক্রোভস্কি. এইডস পজিটিভ পুরুষ মানুষরা তাদের স্ত্রী ও বান্ধবীদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে দেন, আর তারা অনেক সময়েই যখন গর্ভবতী হয়ে প্রথমবার রক্ত পরীক্ষা করাতে যায়, তখনই এর অস্তিত্ব জানতে পারে.

এর থেকে খুব একটা শান্ত না হওয়ার মত সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে এই রোগের প্রসার এর মধ্যেই সেই সমস্ত লোককে ছুঁয়েছে, যারা কোন ঝুঁকির দলে পড়েন না. তাই একে এবার প্রতিরোধের দরকার বলে সেন্ট পিটার্সবার্গের জৈব ঔষধি নির্মাণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্দ্রেই কাজলভ উল্লেখ করেছেন, তাঁরা বর্তমানে এইডস রোগের ডিএনএ প্রতিষেধক টিকা তৈরীর কাজ করছেন.

“মানব সমাজের ইতিহাস আপনাদের সেই বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে থাকে যে বিশ্ব জুড়ে সংক্রামক রোগের হাত থেকে মানুষে শুধু টিকা ব্যবহার করেই রক্ষা পেয়েছে. প্রত্যেককেই এইডস রোগের প্রতিরোধের ওষুধ রেট্রো ভাইরাস বিরোধী বস্তু ব্যবহার করে সারানো খুবই দামী ও অনেক দিনের ব্যাপার. এখানে কথা হচ্ছে, প্রথমত, রোগ প্রতিরোধের টিকা নিয়ে, যা সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখবে, আর দ্বিতীয়ত – রোগ প্রতিরোধ করার মত ওষুধের, যা বহু দিন পর্যন্ত ভাইরাস বিরোধী ওষুধের কাজ সক্রিয় রাখবে, এটা বেশী করে অল্প দামী ও রোগীদের জন্য সহজলভ্য ও সুবিধাজনক করতে হবে”.

বিভিন্ন ধরনের টিকা – সেন্ট পিটার্সবার্গের ডিএনএ টিকা, মস্কো শহরের পুনরায় যৌগ তৈরী করা টিকা ও নভোসিবিরস্ক শহরের টিকা – এই সব গুলিরই বর্তমানে হাসপাতালে পরীক্ষা করা হচ্ছে. এই খবর কাজলভ বলে যোগ করেছেন যে, বিশ্বে একই সময়ে বেশ অনেক এই ধরনের টিকা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. কিন্তু সেই গুলির সাফল্য নিয়ে এখনই তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে ঘোষণা করা. আজ কোন এমন রিপোর্ট নেই, যেখানে এই ধরনের ক্ষেত্রে ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে, যারা এর জন্য ওষুধ তৈরী করছেন, কোন কিছু সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে তাতারস্থান রাজ্যের এইডস রোগ মোকাবিলা কেন্দ্রের সংক্রামক রোগ দপ্তরের প্রধান লিদিয়া স্তাভরোপোলস্কায়া বলেছেন:

“হাসপাতালে পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের টিকা নিতে রাজী হয়ে থাকেন সাধারণত স্বেচ্ছায় যারা নিতে চান. অনেকেরই এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে ভাইরাসের চাপ শরীরের উপরে কম পড়েছে. অর্থাত্ তাদের মধ্যে আগে থেকেই এই ভাইরাস ছিল. সুস্থ লোকেদের উপরে অবশ্যই এই ধরনের পরীক্ষা করা হয় না”.

এইডস রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরীর উপরে চিকিত্সকরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন. আপাতত বিশ্বে শুধু একটি ক্ষেত্রে এই অসুখ থেকে সেরে ওঠার খবর পাওয়া গিয়েছে. আমেরিকার লোক টিমোথি রয় ব্রাউন, বহু দিন ধরে এই রোগ হয়েছে বলে ভয়ঙ্কর খবর জেনেছিলেন, তারপরে আবার যখন জানতে পেরেছিলেন যে, তার রক্তাল্পতা রোগও হয়েছে, তখন ২০০৭ সালে জার্মানী গিয়ে অস্থি মজ্জার কোষ বদল করে আসেন. এক বছর পরে তার শরীরের সব পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে যে, তার শরীরে এই দুটি রোগের কোনটিরই কোন চিহ্ন নেই. এইডস পজিটিভ লোকেরা এখন আশা করে যাচ্ছেন যে, এই ব্রাউন নামের ব্যক্তির ঘটনা একক হয়ে থাকবে না.